behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

মুয়াজ্জিন হত্যাকাণ্ড: খুনিদের হদিস পাচ্ছে না পুলিশ

জামাল উদ্দিন২১:৪২, এপ্রিল ০৫, ২০১৬

ঝব্বু খানম জামে মসজিদ.পুরান ঢাকার ইসলামপুরের ঝব্বু খানম জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন বেলাল হোসেন হত্যাকাণ্ডের কোনও কারণ খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। সোমবার সকালে লাশ উদ্ধারের পর মসজিদের ইমাম ও দ্বিতীয় মুয়াজ্জিনসহ অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। কিন্তু এখনও হত্যাকাণ্ডের কারণ জানা যায়নি ও খুনিদের চিহ্নিত করা যায়নি।  
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালী থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) পারভেজ ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বলার মতো কোনও তথ্য এখনও পাইনি। সন্দেহভাজন হিসেবে থানায় নিয়ে অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের কোনও ক্লু পাওয়া যায়নি। তদন্তের কোনও অগ্রগতি হয়নি।  
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, মুয়াজ্জিনকে কী কারণে কারা হত্যা করা হয়েছে, তা জানা যায়নি। তবে, তাকে ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এটা প্রায় নিশ্চিত। কারণ, ঘটনার সময় বৃষ্টি ছিল। মসজিদেরও কোনও অর্থ খোয়া যায়নি।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, খুনিদের চিনতেন মুয়াজ্জিন। তার সঙ্গেই খুনিরা মসজিদে ঢুকেছিলেন। কিন্তু মুয়াজ্জিনের কক্ষে ঢোকার আগেই তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাকে গলা টিপে ধরেন ও দু’হাত বেঁধে ফেলেন। পরে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর খুনিরা চলে যান। কী কারণে তার ওপর খুনিদের এত আক্রোশ, তা এখনও জানতে পারেননি তারা।

মসজিদের মার্কেটের কেয়ারটেকার আবদুল আউয়াল বলেন, তারা এখনও বুঝতে পারছেন না—কী কারণে মুয়াজ্জিন বেলাল হোসেনেকে হত্যা করা হলো। তার প্রতি কার আক্রোশ সেটাই বুঝতে পারছেন না তারা। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি এ মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে কাজ করছেন। কারও সঙ্গে কখনও মনোমালিন্য হতে দেখিনি। সবাই তাকে ভালো মানুষ হিসেবেই জানেন। তাহলে কেন তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো।
আবদুল আউয়াল আরও বলেন, ১৯৭১ সালের পর থেকে তিনি নিজেও ওই মসজিদ কমপ্লেক্সের কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করে আসছেন। মুয়াজ্জিন বেলাল হোসেনকে কেউ কখনও আগে সালাম দিতে পারেনি। মসজিদের হিসাব-নিকাশ তার কাছেই থাকত। এ জন্য কারও কোনও আক্রোশ রয়েছে কি না—সেটা খতিয়ে দেখতে তিনি অনুরোধ জানান। নামাজের জন্য মঙ্গলবার সকাল থেকেই মসজিদটি খুলে দিয়েছে পুলিশ।
রবিবার রাত সাড়ে ১০টার পর থেকে ভোর সোয়া পাঁচটার আগে যেকোনও সময়ে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে মুয়াজ্জিন বেলাল হোসেনকে (৪৯) মসজিদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার মাঝের সিঁড়িতে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন বলে নিহতের সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ করেছে পুলিশ। পরদিন সোমবার সকালে পুলিশ মসজিদের সিঁড়ি থেকে নিহতের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।


নিহত মুয়াজ্জিনের ছোটভাই আবুল বাশার জানান, তারা পাঁচ ভাই ও এক বোন। মুয়াজ্জিন বেলাল হোসেন সবার বড়। তার এক ছেলে হাফেজ ইয়াছিন রাজধানীর গেন্ডারিয়ার জামালুল কোরআন মাদ্রাসায় পড়েন। এক মেয়ে তাছলিমা গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের স্থানীয় একটি কলেজে পড়ালেখা করেন। তারা প্রত্যেকেই নিজ-নিজ ক্ষেত্রে স্বাবলম্বী হলেও বড় ভাই মাওলানা বেলাল হোসেন তাদের অভিভাবকের মতো ছিলেন। সোমবার রাতেই মানিকগঞ্জের পূর্ব দাশড়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। 

/এমএনএইচ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ