জনগণের অগোচরে ভারতের সঙ্গে চুক্তি না করার আহ্বান বিএনপির

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:৫৫, মার্চ ১৮, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫৫, মার্চ ১৮, ২০১৭

জনগণকে না জানিয়ে ভারতের সঙ্গে কোনও চুক্তিস্বাক্ষর না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। দলটির জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আসন্ন ভারত সফরে দেশটির সঙ্গে স্বার্থবিরোধী কোনও চুক্তিতে না জড়ানোর পরামর্শ দেন।
শনিবার (১৮ মার্চ) বিকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কচিকাঁচার মিলনায়তনে বিএনপির সাবেক মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত তার ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির তিন সদস্য।
বিএনপি নেতাদের ভাষ্য— ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির চুক্তি হতে পারে, কিন্তু দেশের চুক্তি অবশ্যই জনগণকে জানিয়ে করতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে জনগণ মানবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা।
স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘পানি চুক্তি ছাড়া ভারতের সঙ্গে আর কোনও চুক্তি হতে পারে না। পানি চুক্তির বাইরে অন্য কোনও চুক্তি করা হলে দেশের জনগণ তা মেনে নেবে না।’
সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রতিরক্ষা চুক্তি করার পরিকল্পনার দিকেই ইঙ্গিত করেন। তার প্রশ্ন, ‘দেশের নিরাপত্তা নিয়ে কি এমন হলো যে প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে হবে? যদি চুক্তি করতেই হয় তাহলে জনগণকে জানিয়ে তাদের অনুমতি নিতে হবে। জনগণকে না জানিয়ে দেশের চুক্তি হতে পারে না কোনোভাবেই।’

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে মন্তব্য করে খন্দকার মোশাররফ বলেন,‘দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী কোনও চুক্তি ভারতের সঙ্গে করা হলে দেশের জনগণ মেনে নেবে না। ভারতেরও উচিত বাংলাদেশের মানুষ যে চুক্তি মানবে না সে চুক্তি না করা।’

একই সুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে সামরিক চুক্তি এবং প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে মানুষের জানার অধিকার আছে। আপনারা ভারতের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন কিন্তু চুক্তিস্বাক্ষর করার আগে দেশের মানুষের মতামত নেওয়া দরকার। তা না হলে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনও চুক্তি করলে জনগণ মেনে নেবে না।’

প্রধানমন্ত্রী ভারতে যাবেন এ খবর গণমাধ্যম সূত্রে জেনেছেন জানিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে খন্দকার মোশাররফ আরও বলেন, ‘এ খবর আমরাই জানি না, জনগণও জানে না। এমনকি এ বিষয়ে সংসদেও আলোচনা হয়নি।’

বিএনপির সাবেক মহাসচিব দেলোয়ার হোসেনের স্মৃতিচারণ করে তার আদর্শকে ধারণ করে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রেক্ষাপটে দেলোয়ার হোসেন ছিলেন দেশের অতন্দ্র প্রহরী। এখন যে মহাসংকট চলছে, সেই আবদ্ধতা থেকে মুক্তির জন্য তার মতো ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন।’

খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন কখনও ক্ষমতার লোভ করতেন না মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘বিএনপির অন্য মহাসচিবের চেয়ে তিনি বেশি সম্মান ও শ্রদ্ধা আদায় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছিল পরিপূর্ণ। স্বল্পসময়ের জন্য মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, তাতেই সেটা বোঝা যেত।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সুকুমার বড়ুয়া, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি আব্দুল মান্নান, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক সিকদার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারি বাবু এবং খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের দুই ছেলে আকবর হোসেন বাবলু ও খোন্দকার আব্দুল হামিদ ডাবলু।

/এসটিএস/জেএইচ/

লাইভ

টপ