behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

রোজার আগে ‘মূর্তি’ না সরালে ঈদের পর সুপ্রিম কোর্ট ঘেরাও: ইসলামী আন্দোলন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট১৭:০৪, এপ্রিল ২১, ২০১৭

গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য অপসারণের দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জনসমাবেশরোজার আগেই  ভাস্কর্য না সরালে ঈদের পর সুপ্রিম কোর্ট ঘেরাওয়ের হুমকি দিয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।  দলটির আমির মুফতি  সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন,  ‘মূর্তি’র জায়গা মন্দিরে। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে মূর্তি সরাতে হবে।  ‘মূর্তি’ না সরালে ১৭ রমজান সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।’ শুক্রবার জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।  

সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ‘স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিয়ে আমরা শঙ্কিত। জাতীয় ঈদগাহের পাশে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে গ্রিক দেবীর ‘মূর্তি’ স্থাপন করে মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনায় সবচেয়ে বড় আঘাত হানা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘মূর্তি’ কিভাবে এলো, কোথায় থেকে এলো, কে বসালো, তিনি তা জানেন না। শুনেছি প্রধান বিচারপতির একক সিদ্ধান্তে ‘মূর্তি’ স্থাপিত হয়েছে।  কাদের স্বার্থে গ্রিক ‘মূর্তি’ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হলো? এটা জনতার প্রশ্ন। প্রধান বিচারপতির গ্রিক দেবীর প্রতি কোনও ভক্তি বা অনুরাগ থাকলে এটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। তার এ পছন্দকে তিনি জাতীয়ভাবে চাপিয়ে দিতে পারেন না। ‘মূর্তি’ স্থাপন করে তিনি দেশের সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। এমন একজন বিতর্কিত ও বিচারপতি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির আসনে থাকতে পারেন না। বিতর্কিত বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগ করা উচিত।’

মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ‘‘সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিস্টান অধ্যুষিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সামনেও সর্বোচ্চ আইনদাতা হিসেবে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নাম স্থাপিত আছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের সামনে গ্রিক দেবী লেডি জাস্টিস-এর ‘মূর্তি’ স্থাপন করে মুসলিম সাংস্কৃতিক চেতনা ধ্বংসের অপচেষ্টা করা হচ্ছে। মাটি বা ধাতবের তৈরি ‘মূর্তি’ ন্যায় বিচারের প্রতীক হতে পারে না। কারণ ‘মূর্তি’র বাকশক্তি ও বোধশক্তি নেই, রায় দিতে পারে না। সৃষ্টিকর্তা ও তার নাজিল করা কুরআন হচ্ছে ন্যায় বিচারের প্রতীক। আল্লাহ ন্যায় বিচারের সব পদ্ধতি পবিত্র কুরআনে লিপিবদ্ধ করেছেন। আর আল্লাহর রাসুল (সা.) তা পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করেছেন। এ জন্যই তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ন্যায় বিচারক রূপে প্রতিষ্ঠিত।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে রেজাউল করীম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যাদের খুশি করার জন্যে সংবিধানের মূলনীতি থেকে আল্লাহ ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষাতা বসালেন, তারা আগামী নির্বাচনে আপনাকে ভোট দেবে না।’

পূর্ব ঘোষিত এই মহাসমাবেশের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অনুমতি না দেওয়ায় সমালোচানা করেন মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

মহাসমাবেশে আরও  উপস্থিত ছিলেন, দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম, মাওলানা আব্দুল হক আজাদ,মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দিন,প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম প্রমুখ।

 /সিএ/এমএনএইচ/

 

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ