শর্ত মানলে বিএনপির সঙ্গে ঐক্য গড়তে রাজি: বি. চৌধুরী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:৫৪, অক্টোবর ১২, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:০৪, অক্টোবর ১২, ২০১৭

 ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী

শর্ত মানলে বিএনপির সঙ্গে ঐক্য গড়তে রাজি আছেন বলে জানিয়েছেন বিকল্পধারার চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বি.চৌধুরী)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

গণসংস্কৃতি দল আয়োজিত ‘দেশ বাঁচাতে ঐকমত্য’ বিষয়ক গণবৈঠকে ‘দেশে চলমান রাজনৈতিক ও রোহিঙ্গা সংকট’ শিরোনামে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা ইস্যুতে যেকোনও দলের সঙ্গেই ঐক্য করতে রাজি আছেন জানিয়ে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন,এমনকি যে কোনও দলের সঙ্গেও ঐক্য হতে পারে যদি তারা কোনও অন্যায় না করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন,‘রাজনীতির প্রসঙ্গে যদি বলতে হয়,নির্বাচনের কথা যদি বলি, তাহলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। সবাইকে সভা-সমাবেশ, মিছিল করতে দিতে হবে, পোস্টার লাগাতে দিতে হবে। সবাইকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।’

ঐক্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঐক্যের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় আছে। যদি রোহিঙ্গা ইস্যুতে হয়, তাহলে যেকোনও দলের সঙ্গে ঐক্য করতে রাজি আছি। কিন্তু যদি রাজনৈতিক সমস্যার কথা বলেন, তাহলে কিছু বক্তব্য আছে। ’

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন,‘ইতোপূর্বে যে সরকার ক্ষমতায় ছিল তাদের কথা বলেন। বর্তমান সরকার ভালো আমি তা বলিনি। কিন্তু,গত সরকারের অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে চাই―গত সরকার যারা চালিয়েছিলেন, তারা কি কোরান শরিফ হাত নিয়ে বলতে পারেন সন্ত্রাস, হত্যা,খুন, ধর্ষণ এগুলো আর হবে না? গ্যারান্টি দিতে পারবেন? চিন্তা করেন, পারবেন কিনা? আপনাদের নেত্রী পারবে কিনা? তাকে বলতে হবে,গ্যারান্টি দিলাম অন্যায় হয়েছে, ভবিষ্যতে আর হবে না।’

‘বলতে পারবেন বাংলাদেশে উদার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবেন? সভা-সমাবেশ ও মতামত রাখা সব করতে দিবেন? গ্যারান্টি দিতে পরবেন? সরকারের ক্ষমতা সরকারের কাছে থাকবে অন্য কারও কাছে থাকবে না? ওইখানেও একটি সরকার চালাবেন,এখানেও একটি সরকার চালাবেন এটা করবেন না বলতে পারবেন? একটা অফিস গুলশানে, আরেকটা অফিস লন্ডনে―হয়না, এভাবে হয় না। মন খুলে স্বীকার করতে হবে ভুল করেছি। কখনও স্বীকার করেছেন? এগুলো করেন, আমরা একসঙ্গে, এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা ঐক্য করবো।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি বলেন,‘রোহিঙ্গারা জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। আজ যেভাবে চলছে, সেভাবে চললে বিহারিদের মতো সমস্যা হবে। তারা কতদিন কত যুগ আমাদের দেশে থাকবে তা আমরা জানি না। আজকের আশ্রয়প্রার্থীরা আগামীতে সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যায় পরিণত হবে। অর্থনৈতিক সমস্য তো বটেই।’

পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন,‘কোনও দেশের পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য নির্ভর করে সেই রাষ্ট্র কতটুকু গণতান্ত্রিক,গণতন্ত্র কতটা বিশ্বাস করে,সেই দেশে সত্যিকার অর্থে ভালো বিরোধী দল আছে কিনা এসব বিষয়ের ওপর। কিন্তু, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের পররাষ্ট্র নীতিতে ব্যর্থ করে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের কাছে আমাদের যেতে হবে। কারা তাদের চালায়, আমরা জানি। তাদের চালায় চীন, রাশিয়া ও ভারত। এসব দেশে আগে লোক পাঠান, নিজে যান। এটি এক নম্বর সমাধান। রাষ্ট্রের প্রধান নিজের হাতে দায়িত্ব না নিলে এর সমাধান হবে না। এটা হচ্ছে ইমিডিয়েট সমাধান। দীর্ঘস্থায়ী সমাধান করতে হলে আমাদের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। না হলে বারবার এই সমস্যা হবে। এটা বোঝার মতো মনোবৃত্তি থাকতে হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব। গণসংস্কৃতি দলের সভাপতি এস আল-মামুনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান বিগ্রেডিয়ার জেনালের সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল।

অনুষ্ঠানে ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন,‘রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টি করেছে ভারত। এর মদতদাতাও ভারত। বাংলাদেশকে যদি বিরক্ত করা যায়, তাহলে তাদের সুবিধা। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারতকে চিনতে পারছেন না।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন,‘আমরা জেনেছি যুদ্ধের উস্কানি ছিল। যদি সেটাই হয়ে থাকে, আমরা জনগণ কেনও সেটা জানতে পারলাম না। তাহলে প্রধানমন্ত্রী এ অবস্থার মধ্যে বাইরে গেলেন কিভাবে? আমাদের পররাষ্ট্র নীতির চরম ব্যর্থতা রয়েছে। ভারতের সঙ্গে আন্তরিক হলে আরেকটি সীমান্তবর্তী রাষ্ট্রের সঙ্গে পররাষ্ট্রনীতির অবস্থা এমন কেন?’

/এসএমএ/টিএন/

লাইভ

টপ