‘সরকার খালেদাকে কারাগারে নিয়ে জাতীয় থেকে আন্তর্জাতিক নেতা বানিয়েছে’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৩:৩৭, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:২১, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮

অবস্থান কর্মসূচিতে কথা বলছেন খন্দকার মোশাররফ, ছবি ফোকাস বাংলাবিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাগারে রেখে আওয়ামী লীগ সরকার মানবাধিকার ও সংবিধান লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির নেতারা। তারা বলেন, সরকার মানবতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে অপরাধ করেছে। আগামীতে তাদের বিচার হবে। 

সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সরকার খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে জাতীয় থেকে আন্তর্জাতিক নেতা বানিয়ে দিয়েছে। নিরপেক্ষ সরকার কায়েম করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে আগামী নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র করছে। আমরা সরকারকে বলতে চাই, খালেদা জিয়া, বিএনপিকে বাইরে রেখে দেশে কোনও নির্বাচন হবে না। জনগণ হতে দেবে না।’ 

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে দলটির নেতারা এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। 

অবস্থান কর্মসূচি, ছবি ফোকাস বাংলা

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাগারে রেখে আওয়ামী লীগ সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। সরকার মানবতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে অপরাধ করেছে। এজন্য আগামীতে তাদের বিচার হবে।’ 

তিনি বলেন, ‘অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই সরকার সম্পূর্ণভাবে জনবিচ্ছিন্ন ও ব্যর্থ। ক্ষমতায় থাকার তাদের কোনও নৈতিক অধিকার নেই। এই সরকার খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে বাংলাদেশের মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করে রাখতে চায়। কিন্তু এদেশের মানুষ কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবে।   

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘ভুয়া, মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে সরকার খালেদা জিয়াকে পরিত্যক্ত কারাগারে রেখেছে। এটি আমাদের সংবিধান পরিপন্থি। তারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করে না, এটি প্রতিহিংসার রায়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আইনি পদক্ষেপ নেবো। তবে তাকে সত্যিকারের মুক্ত করতে হলে আন্দোলনের কোনও বিকল্প নেই।’ 

অবস্থান কর্মসূচি, ছবি ফোকাস বাংলা

খালেদা জিয়াকে বিচারের নামে প্রহসন করে সরকারের ইচ্ছা পূরণ করতে এই রায় দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, তিনি সুবিচার পাননি। বিএনপি আইনের শাসনে বিশ্বাসী বলে আইনিভাবে মোকাবিলা করছে। 

বাংলাদেশে কোনও শক্তি নেই বিএনপিতে ভাঙন ধরাতে পারে- মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বিএনপির নেতারা ঐক্যবদ্ধ আছেন । কেউ ভাঙন ধরাতে পারবে না।’ 

দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, জয়নাল আবদীন ফারুক, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবুল খায়ের ভূইয়া, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকু ও সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান প্রমুখ।

এছাড়া ২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে এলডিপির শাহাদত হোসেন সেলিম, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, এনপিপির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, এনডিপির মঞ্জুর হোসেন ঈশা, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও পিজিপির আব্দুল মতিন সাউদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

/এসটি/এম/এমওএফ/

লাইভ

টপ