পুলিশের অনুরোধে ৩ ঘণ্টা আগেই অনশন শেষ বিএনপির

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৫:১২, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০২, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮

প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি’র অনশন কর্মসূচি (ছবি-সাদ্দিফ অভি, বাংলা ট্রিবিউন)

পুলিশের নির্দেশে নির্ধারিত সময়ের ৩ ঘণ্টা আগেই অনশন কর্মসূচি শেষ করেছে বিএনপি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো অনশন কর্মসূচি বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে। বিকেল চারটা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশ দুপুর একটার মধ্যেই তা শেষ করার কথা বললে অনেকটা তড়িঘড়ি করেই অনশন শেষ করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান।

প্রেসক্লাবের সামনে সড়কের একপাশে কদম ফোয়ারা মোড় থেকে সচিবালয় মোড় পর্যন্ত হাজারও নেতাকর্মী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনশন কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলেন।

কর্মসূচির সমাপনী বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে আমাদের অনশন বিকেল চারটা পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুরোধে আমাদের দুপুর একটার মধ্যেই কর্মসূচি শেষ করতে হচ্ছে। আমি আজকের এই অনশন কর্মসূচি থেকে সরকারের কাছে আহ্বান রাখবো আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দিন।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এই সরকার খালেদা জিয়াকে ছাড়াই আবারও একতরফা নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু সেটা হতে দেওয়া হবে না। সরকার দেশনেত্রীকে বন্দি করে আগুনে হাত দিয়েছে। তারা আগুন নিয়ে খেলছে। মনে রাখবেন এদেশের জনগণ খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেই আগামী নির্বাচনে যাবে ইনশাল্লাহ।

আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, এই সরকার একটি ভুয়া বানোয়াট মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়েছে। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং বিএনপিকে দুর্বল করতেই এটা করা হয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে দুর্বল করা যাবে না। আমরা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমেই আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করে আনবো।

তিনি বলেন, আগামী দিনে খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনও সুষ্ঠু নির্বাচন  হবে না। আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকুন। আরও আন্দোলন হবে। খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনও নির্বাচন হবে না।

মির্জা আব্বাস বলেন, আজকে দেশের মানুষের স্বাধীনতা নেই। অথচ আমরা একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। দেশের স্বাধীনতা আজকে হুমকির সম্মুখে। আজকে ৪ দিন ধরে যারা খালেদা জিয়াকে কারাগারে ডিভিশন দেননি, তাদের ব্যাপারে মামলা ও বিচারের প্রক্রিয়া গ্রহণ করার জন্য দলের মহাসচিবকে আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের কপি পাওয়ার কথা থাকলেও তা মেলেনি। আসলে তাদের দীর্ঘসূত্রিতায় প্রমাণিত হয় খালেদা জিয়াকে জেলে আটকে রাখাই তাদের উদ্দেশ্য।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিচারকদের ক্যালকুলেটর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ২ কোটি টাকার জন্য যদি পাঁচ বছর জেল হয় তাহলে হলমার্কসহ বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের জন্য কত বছরের জেল হবে? সেটা মাথায় হিসাব করা যাবে না। এ জন্য বিচারকদের ক্যালকুলেটর দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরীর পরিচালনায় অনশন কর্মসূচিতে বিএনপি মহাসচিব ছাড়াও বক্তব্য রাখেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা বরকতউল্লাহ বুলু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আব্দুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিবুন নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা মহানগরীর নেতা বজলুল বাসিত আঞ্জু, কাজী আবুল বাশার, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহম্মেদ, যুবদলের সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করিম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, ছাত্রদলের মামুনুর রশিদ মামুন প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, হাবিবুর রহমান হাবিব, মীর সরফত আলী সপু, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, আমিনুল হক, এমরান সালেহ প্রিন্স, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, শামীমুর রহমান শামীম, হারুনুর রশিদ, রিয়াজ উদ্দিন নসু, রফিক সিকদার, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, শামসুজ্জামান সুরুজ, যুবদলের নূরুল ইসলাম নয়ন, আ ক ম মোজাম্মেল, রফিকুল আলম মজনু, শরিফ উদ্দিন জুয়েল, হেলেন জেরিন খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, ছাত্রদলের আসাদুজ্জামান আসাদ, আলমগীর হাসান সোহান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, এনামুল হক এনাম, জহিরুল ইসলাম বিপ্লব, মফিজুর রহমান আশিক, রাজীব আহসান চৌধুরী পাপ্পু, জিয়া পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহিল মাসুদ প্রমুখ।

এদিকে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, অপর অংশের হামদুল্লাহ আল মেহেদী, এলডিপির শাহাদাৎ হোসেন সেলিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, খেলাফত মজলিসের অধ্যক্ষ মাওলানা ইসহাক, ইসলামিক পার্টির এম এ রকীব প্রমুখ।

/এএইচআর/টিএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ