কোটা ইস্যুতে আন্দোলন নিয়ে আর শঙ্কা নেই আ. লীগে

Send
পাভেল হায়দার চৌধুরী
প্রকাশিত : ২৩:০৯, এপ্রিল ১৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৯, এপ্রিল ১৭, ২০১৮

 

আওয়ামী লীগকোটা সংস্কার ইস্যুতে পক্ষে-বিপক্ষে এখনও কম-বেশি আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। সোমবার কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে  ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ কিছু দাবি দিয়ে আবারও আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছে। এদিকে, রাজাকার ও মানবতাবিরোধী অপরাধী পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরি থেকে অব্যাহতি দিতে আন্দোলন শুরু করেছে বিভিন্ন সংগঠন। কোটার পক্ষে-বিপক্ষে এই আন্দোলন শুরু হলেও আর চাঙ্গা হবে বলে মনে করে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, কোট সংস্কারের আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে কিছুটা সময় থাকলেও তা আর যৌবন ফিরে পাবে না। ঢাকার বাইরেও এই আন্দোলন আর জমবে না।  

আওয়ামী লীগ ও সরকারের নীতি-নির্ধারকরা বলছেন, কোটা সংস্কার-আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার পর আন্দোলনের নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। আবার কোটার পক্ষের যারা, তারাও এখন আন্দোলন করার অধিকার রাখেন না। এর কারণ হিসাবে তারা জানান, যখন কোটা-সংস্কারপন্থী শিক্ষার্থীরা মাঠে আন্দোলন করছেন, তখন কোটার সুবিধাভোগী বিশেষ করে নারী সমাজ, বিভিন্ন জেলার সংগঠন ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোকে সরকার পাশে পাবে মনে করেছিল। কিন্তু আন্দোলনের সময়ে পাশে না পাওয়া হতাশ করেছে ক্ষমতাসীনদের। তাই এখন তাদেরও আন্দোলনে নামার যৌক্তিকতা আছে বলে মনে করে না ক্ষমতাসীনরা।    

ক্ষমতাসীন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা চেয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তিনি ঘোষণাও দিয়েছেন। এর ফলে এই আন্দোলন আর হালে পানি পাবে না। তারা আরও বলছেন, এরপরও কোনও বৈরী পরিস্থিতি ঘটলে বাকিটুকু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোকাবিলা করবে। নীতি-নির্ধারণী সূত্রগুলো আরও জানায়, নির্বাচন পর্যন্ত এ ধরনের কিছু ঘটনা হুট করেই ঘটবে। আবার দমেও যাবে। এগুলো ধরে নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে সরকার। এই ধরনের ঘটনা ঘটলে কিছুটা সুবিধাও পাওয়া যাবে। এসব বিচ্ছিন্ন আন্দোলনের আরও একটি সুবিধা পাবে আওয়ামী লীগ ও সরকার। সেটি হলো—বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ইস্যুটি ঢাকা পড়ে যাবে। দলের নেতারা বলছেন, দলের টার্গেট নির্বাচন পর্যন্ত খালেদা জিয়ার ইস্যুটি মানুষের মন থেকে মুছে দেওয়া। এই আন্দোলন অব্যাহত থাকলে চাপা পড়ে যাবে খালেদা জিয়ার ইস্যুটি। এছাড়া বিচ্ছিন্ন এসব আন্দোলন একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত থাকবে। তফসিল ঘোষণা হয়ে গেলে সবাই নির্বাচনি ডামাঢোলে ব্যস্ত হয়ে যাবে। এসব আন্দোলন আর হালে পানি পাবে না।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার পরে কোটা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে কোনও আন্দোলনই আর থাকার কথা নয়। এখন আন্দোলন মাঠে গড়ানোর সুযোগ নেই।’ তিনি বলেন, ‘এমন চেষ্টা করা হলেও জমবে না আর আন্দোলন।’ 

দলের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, ‘এই আন্দোলনে সরকারবিরোধী কুচক্রী মহল জড়িয়েছে। ফলে এই আন্দোলনে ডালপালা গজানোর চেষ্টা শুরু করছে।’ তিনি বলেন, ‘এই আন্দোলন শুধুই অধিকার আদায়ের আন্দোলন হলে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সময় ৭ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করা হতো।’

শেষপর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী সংসদে ইস্যুটি নিয়ে কথা বলেছেন উল্লেখ করে জাফরউল্যাহ বলেন, ‘এখন আর এই আন্দোলন জমবে না। তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।’ তিনি বলেন, ‘‘কোটাব্যবস্থার পক্ষের দাবিতে যারা আজকে মাঠে নামার চেষ্টা করছেন, তারা কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময়ে কোথায় ছিলেন?’’

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার পরে এই আন্দোলন আর নেই। সামনেও আর জমবে না।’ তিনি বলেন, ‘এই আন্দোলনে অর্থের বিনিযোগ ঘটেছে, বিএনপি-জামায়াত ঢুকে পড়েছে। ফলে কিছুটা রেশ রয়ে গেছে। শেষপর্যন্ত এই রেশও থাকবে না।  আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা দাবি করেছেন। প্রধানমন্ত্রীও ঘোষণা দিয়েছেন। এরপরও কেউ আন্দোলন চালিয়ে যেতে চাইলে বাকি কাজটুকু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেখবে।’

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ