খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যত মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা

Send
তোফায়েল হোছাইন
প্রকাশিত : ০৫:৫৪, মে ১৭, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০৫:৫৫, মে ১৭, ২০১৮

খালেদা জিয়া

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টের জামিন বহাল থাকলেও আপাতত কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কারণ, তার বিরুদ্ধে কুমিল্লায় দু’টি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা (প্রোডাকসন ওয়ারেন্ট)  জারি করা আছে। বিধায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন পেলেও কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া এসব তথ্য জানিয়েছেন।  

সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘খালেদা জিয়ার  হাইকোর্টের জামিন  আপিল বিভাগ বহাল রেখেছেন। তবে কুমিল্লায় নাশকতা ও বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যার অভিযোগে মোট দু’টি মামলায় উনার (খালেদা জিয়ার) বিরুদ্ধে প্রোডাকস ওয়ারেন্ট রয়েছে। সে কারণে তিনি এ মামলায় জামিন পেলেও মুক্তি পাচ্ছেন না।’

তবে কবে ওই দুই মামলায় খালেদা জিয়া জামিন পেতে পারেন সে ব্যাপারে আইনজীবীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে আমরা চেষ্টা করছি খুব শিগগিরই তাকে জামিনে মুক্ত করতে। আশা করি এ দু’টি মামলায় জামিন পেলে তিনি কারাগার থেকে বের হবেন।’

সানাউল্লাহ মিয়া আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ দু’টি প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ছাড়া আর কোনও ওয়ারেন্ট এখন পর্যন্ত দেখানো হয়নি।’

জানা যায়, এদিকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মানচিত্র ও জাতীয় পতাকাকে অবমাননার অভিযোগে ঢাকার আদালতে দায়ের করা একটি মামলা ও ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে ঢাকার আদালতে আরেকটি গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলের জন্য আছে। মামলা দু’টি ১৭ মে শুনানির জন্য দিন ধার্য আছে। একই সঙ্গে নড়াইলে মানহানির একটি মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানাও তামিলের জন্য রয়েছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় ৮ ফেব্রুয়ারি। ওইদিনই তাকে কারাগারে নেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরও ৩৪টি মামলা আছে। এরমধ্যে ১৯টি মামলা বিচারাধীন, তদন্ত চলছে ১২টি মামলার এবং আদালতের নির্দেশে ৩টি মামলার কার্যক্রম স্থগিত আছে। বিচারাধীন ১৯টি মামলার মধ্যে ১৪টির বিচার কার্যক্রম রাজধানীর পুরান ঢাকার বকশি বাজারের বিশেষ আদালতে পাঠানো হয়েছে৷ 

এছাড়াও মহানগর হাকিম আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির বেশ কিছু মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। তাছাড়া রাজধানীর দারুস সালাম থানার নাশকতার ৮টি, যাত্রাবাড়ী থানার নাশকতা ২টি ও রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে বিচারাধীন। এ মামলাগুলোর অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামী ১ জুলাই দিন ধার্য আছে।

এদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটি বিশেষ জজ-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আগামী ৪ জুন মামলাটির যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য আছে।

এছাড়াও নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ২৫ জুন দিন ধার্য আছে ঢাকার বিশেষ জজ-৯ এর বিচারক মাহমুদুল কবির এর আদালতে।

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা ঢাকার বিশেষ জজ-৩ এর বিচারক এম আতাউর রহমানের আদালতে বিচারাধীন। মামলাটির অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামী ২৪ জুন দিন ধার্য আছে।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতির মামলাটি ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এ এস এম রুহুল এমরান এর আদালতে আগামী ২৬ জুন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য অপেক্ষামান।

এছাড়াও গুলশান ও দারুস সালাম থানার নাশকতাসহ ড্যান্ডি ডায়িং মামলাটি উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত রয়েছে।

আরও খবর:
ঈদের আগেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন, আশাবাদ ফখরুলের

কয়টি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন প্রয়োজন জানেন না আইনজীবীরা

 

 

 

 

 

এএইচ/

লাইভ

টপ