আ.লীগের আনুকূল্যের আশায় ইসলামি দলগুলোর নির্বাচনি প্রক্রিয়া শুরু

Send
সালমান তারেক শাকিল
প্রকাশিত : ২২:৫৭, জুলাই ১৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:০০, জুলাই ১৪, ২০১৮

মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, মাওলানা হাবিবুর রহমান, মিসবাহুর রহমান চৌধুরী ও এম এ আউয়াল এমপি   আগামী নির্বাচনের আগে নিজেদের মধ্যে সমঝোতাভিত্তিক অবস্থানে পৌঁছাতে কাজ করছে অন্তত চারটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল। এই দলগুলো একটি নির্বাচনি জোটের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আনুকূল্যলাভে আগ্রহী। এদের মধ্যে কেউ কেউ ‘নির্বাচনিপ্রাপ্তি’র আশায় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিকেও বেছে নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট দলগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।    

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কাছে ঘেঁষতে চায় কয়েকটি ইসলামি দল। তবে উল্লেখযোগ্য চারটি দল হচ্ছে— ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও তরিকত ফেডারেশন। এর মধ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিসবাহুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে আগামী ২১ জুলাই নতুন একটি ধর্মভিত্তিক জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটতে যাচ্ছে। তবে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ইসলামী আন্দোলন কোনও জোটেই যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

মিসবাহুর রহমানের নেতৃত্বে নতুন জোট

আগামী ২১ জুলাই বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিসবাহুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে নতুন একটি জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটতে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক ইসলামিক মুভমেন্টের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম এই জোটের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনিই হবেন সম্ভাব্য এ জোটের মহাসচিব। সম্ভাব্য এ জোটের  নাম রাখা হয়েছে, ‘পিপলস ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স।’

জোট গঠনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্র জানায়, এই জোট গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জোট নেতাদের সাক্ষাৎ করার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই সাক্ষাতের ওপর নির্ভর করছে আরও অন্তত চারটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের  জোটে অংশগ্রহণ।

নুরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, নতুন জোটের শরিক হতে ১০টি রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে সম্মতি দিয়েছে। এই দলগুলো হচ্ছে— বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট (মিসবাহ), গণতান্ত্রিক ইসলামিক মুভমেন্ট, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি (রশিদ), বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (রুমা আলী), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (হাসরত খান ভাসানী), বাংলাদেশ জমিয়তে দারুস সুন্নাহ (শাহ মুস্তাকিম বিল্লাহ সিদ্দীকি), বাংলাদেশ গণ কাফেলা (হাকিম গোলাম মোস্তফা), বাংলাদেশ জনসেবা আন্দোলন (ফখরুল ইসলাম, সাবেক নেতা খেলাফত আন্দোলন), ইমাম-উলামা কল্যাণ পার্টি (জহিরুল ইসলাম) এবং ইসলামী পেশাজীবী পরিষদ (ক্যাপ্টেন রেজাউল করিম চৌধুরী)।

এছাড়া, জোট গঠনের পর আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে আরও চারটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এই জোটে যুক্ত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জোটের নেতারা। এই দলগুলো হচ্ছে— মুসলিম লীগ (আবুল খায়ের), পিডিবি (ফেরদৌস আহমম কোরেশী), জাতীয় পার্টি (এম এ মতিন) ও জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফ্রন্ট। উল্লেখ্য, গত ৩০ মার্চ গণফ্রন্টের নেতৃত্বে চারটি নিবন্ধিত দলের সমন্বয়ে একটি জোট গঠিত হয়।

পিপলস ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের সূত্রে জানা গেছে, গঠিতব্য এই জোট সরকার সমর্তক হিসেবে থাকবে এবং তারা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে কর্মসূচিও দেবে।

অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা প্রো-লিবারেশন ফোর্স হিসেবে কাজ করবো। আমাদের ঘোষণাপত্র প্রায় চূড়ান্ত। আগামী ২১ জুলাই আমরা হোটেল রাহমানিয়ায় আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান করবো।’ তিনি জানান, ওইদিন সকাল ১১টায় দৈনিক বাংলার মোড়ের কাছে হোটেল রাহমানিয়ায় সংবাদ সম্মেলন করবে পিপলস ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স।

জাতীয় পার্টির জোটে যেতে পারে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনও জোটে যেতে দলীয় নেতাকর্মীরা একমত হলে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের। শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক প্রতিষ্ঠিত এ দলের চেয়ারম্যান হলেন মাওলানা হাবিবুর রহমান বুলবুলি হুজুর ও মহাসচিব মাওলানা মাহফুযূল হক।

দলটির একাধিক নেতা জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জোটেই তাদের যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কয়েক দফায় জাপার বিভিন্ন পর্যায়ে সাক্ষাৎ করেছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। যদিও পারিবারিকভাবে কয়েকজন নেতা দলটিতে প্রভাবশালী হওয়ায় তারা চাইছেন এককভাবে না গিয়ে আরও কয়েকটি ইসলামী দলকে একত্র করে এরশাদের জোটে শরিক হতে।

তবে দলটির তৃণমূলের একটি অংশ চায় বিএনপির সঙ্গে জোট করতে।  বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত আল্লামা আজিজুল হক বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। এ কারণে চার দলীয় জোটের ব্যাপারে অনেকের আবেগ কাজ করে বলেও মনে করেন কয়েকজন নেতা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এরশাদের রাজনৈতিক সচিব ও জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে আমাদের ঐক্যের বিষয়টি ইতিবাচক। এটা দিনক্ষণ বলা যাবে না— কবে নাগাদ তারা আসবে। তবে এটা ঠিক যে, তাদের সঙ্গে জাপার আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক।’

বৃহত্তর নির্বাচনি সমঝোতা চায় ইসলামী ঐক্যজোটও

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আসে ইসলামী ঐক্যজোট।ওই সময় আলোচনা ছিল— ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণেই তারা বিএনপি ত্যাগ করেছে। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে দলটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি চিঠিও দেয় ইসলামী ঐক্যজোট।

ওই চিঠিতে তারা অন্তত ২০টি আসন দাবি করে দলের জন্য। যদিও গত দেড় বছর ধরে দলটির শীর্ষ নেতারা বলছেন, তারা একটি বৃহত্তর ঐক্যের চেষ্টা করছেন ইসলামী দলগুলোর মধ্যে। যদিও এ পর্যন্ত তেমন কোনও ইতিবাচক সাড়া দলটি পায়নি।

(ওপরে) ইসলামিক ফ্রন্ট, জমিয়ত, খেলাফত আন্দোলন, গণফ্রন্ট, জাকের পার্টি ও ইসলামী ফ্রন্ট; (নিচে) ইসলামী আন্দোলন, তরিকত ফেডারেশন, খেলাফত মজলিস, পিডিবি, ইসলামী ঐক্যজোট ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসইসলামী ঐকজোটের দায়িত্বশীল নেতারা জানান, তাদের এখনও চেষ্টা চলছে নির্বাচনি সমঝোতাভিত্তিক ইসলামী ঐক্য গঠনের। এই ঐক্যে থাকার বিষয়ে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও ফরায়েজি আন্দোলনের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। নির্বাচনের আগে কোনও ঐক্য স্থাপিত হলে পরবর্তীতে তারা এরশাদের সঙ্গে ভিড়তে পারে, এমন ইঙ্গিত মিলছে দলটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে।

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগও না বিএনপিও না, মধ্যপন্থা অবলম্বন করছি। সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আমরা নির্বাচনি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছি, মোটামুটি যারা আগে ইসলামী ঐক্যজোটের শরিক ছিল।’

এ প্রসঙ্গে আবদুল লতিফ নেজামী আরও বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি তিনশ’ আসনের প্রত্যেকটিতে অন্তত একজন করে ইসলামী দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এখনও আমরা তিনশ’র মধ্যে আছি। কাটছাঁট করার সময় এখনও আসেনি। অন্যান্য দলের সঙ্গে যদি সমঝোতা হয়, তাহলে সেটা পরে দেখা যাবে। এই সমঝোতা হবে ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে।’

তবে ঠিক কোন দিকে যাওয়ার চেষ্টা থাকবে ইসলামী ঐক্যজোটের, এমন প্রশ্নের উত্তরে মাওলানা নেজামী বলেন, ‘যে টানতে পারে, তার দিকেই যাবে।’

জোট চায় তরিকতও

১৪ দলীয় জোটের শরিক দলের নেতা বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব এম এ আউয়াল এমপিও চাইছেন একটি ধর্মভিত্তিক জোট করতে। এই জোটে কওমি, তরিকতপন্থী ও খানকাকেন্দ্রিক সংগঠনকে রাখার চেষ্টা আছে তার। বিগত একবছর ধরে এই চেষ্টা চলছে।

গত ১৭ এপ্রিল এম এ আউয়ালকে তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিবের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার অভিযোগ, এই দলের ওই সিদ্ধান্ত ছিল অগণতান্ত্রিক।

এম এ আউয়াল এমপি’র ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দলের মহাসচিব পদ থেকে অপসারিত হলেও নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের অনুকূলে একটি বৃহত্তর ধর্মীয় রাজনৈতিক ঐক্য করতে তার বৈঠক হয়েছে। এছাড়া, একটি নিবন্ধিত দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও তার কয়েকদফা বৈঠক হয়েছে বলেও সূত্রের দাবি।

জানতে চাইলে এম আউয়াল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ধর্মীয় ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক ইসলামী দলগুলোর একটি কার্যকর ঐক্য এখন সময়ের দাবি। আমি এ বিষয়ে তরিকতপন্থী, খানকা, মাজার ও মাদ্রাসাভিত্তিক অনেক দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।’ তবে এই জোট কোন ফরম্যাটে হবে, তা এখনও জানা যায়নি।

কোনও জোটেই যাবে না ইসলামী আন্দোলন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসা ইসলামী আন্দোলন আগামী নির্বাচনের আগে কোনও জোটেই যাচ্ছে না। দলটির নেতারা পরিষ্কার করেই বলছেন,দুর্বৃত্তায়িত কোনও জোটেই তারা শরিক হবেন না। এমনকী এই দুর্বৃত্তদের যারা সহযোগিতা করছে, তাদের সঙ্গেও কোনও জোটে অংশ নেবে না দলটি।

ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মো.রেজাউল করিম বলেছেন,‘আগামী নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে। এরমধ্যে সব আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।’

জানতে চাইলে দলটির সহকারী মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা তিনশ’ আসনে প্রার্থী দিয়ে কাজ শুরু করেছি। আমাদের মাথায় জোটের কোনও চিন্তাই নেই। আর জোট কাদের সঙ্গে করবো, কেন করবো?’

জোট না করার বিষয়ে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘জোট করার তো একটা কারণ লাগবে। আমরা চাই, দেশের মানুষের পক্ষে একটি স্বচ্ছ ধারার রাজনৈতিক গুণগত পরিবর্তন। যারা অতীতে দেশটাকে বারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে, এখনও যারা দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত এবং তাদেরকে যারা সহযোগিতা করেছে, তাদের সঙ্গে জোট কেন করবো?’

আরও  যারা আগ্রহী

এছাড়া, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট আছে এরশাদের সম্মিলিত জাতীয় জোটে। আর ইসলামীক ফ্রন্ট চায় ১৪ দলীয় জোটে যেতে। মাওলানা জাফরুল্লাহ খানের নেতৃত্বাধীন খেলাফত আন্দোলন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না করলেও আওয়ামী লীগের পক্ষেই কোনও জোটে থাকবেন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের উভয় অংশ, ইসলামী ঐক্যজোট (রকিব) ও খেলাফত মজলিস রয়েছে ২০ দলীয় জোটে। তবে জমিয়ত (কাসেমী) অংশটি নির্বাচনের আগে বিএনপি জোট ছাড়তে পারে—এমন গুঞ্জন রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। মোস্তফা আমীর ফয়সালের নেতৃত্বাধীন জাকের পার্টিও শেষমেষ আওয়ামী লীগের সঙ্গে যেতে পারে। নেজামে ইসলাম পার্টি (ইজহার) বিএনপির সঙ্গে জোট গড়তে রাজি হয়েছে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কোনও ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করতে চায়, আমরা তাদেরকে স্বাগত জানাবো।’

ইসলামী দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন কারণে বিএনপির সঙ্গে জোটে যাওয়ার সম্ভাবনা ফুরিয়ে এসেছে। এছাড়া, কওমি মাদ্রাসার সরকারি স্বীকৃতি, কওমি মাদ্রাসার আলেমদের চাকরিসহ নানা কারণে ক্ষমতাসীনদের প্রতি দুবর্লতা কাজ করছে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর। ফলে, আগামী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকেন্দ্রিক সুবিধা বা অন্যান্য রাজনৈতিক সুবিধা প্রাপ্তির জন্য ক্ষমতাসীনদের দিকেই হেলে থাকতে চায় দলগুলো।এক্ষেত্রে নির্বাচনি কৌশল অনুযায়ী প্রয়োজনে এরশাদের সঙ্গেও জোট গঠনে সম্মতি জানিয়েছে দলগুলো।

কেউ কেউ ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতকাণ্ড ও শাপলা চত্বরে আইনশৃংখলাবাহিনীর তৎপরতাকে সামনে আনলেও বেশিরভাগ ইসলামী দলগুলো এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। বিশেষ করে হেফাজতের আমির আল্লামা শফীর সঙ্গে সুসম্পর্ক ও স্থিতিশীল সম্পর্কের কারণে রাজনৈতিকভাবে বিরোধিতা অনেকটাই কমে এসেছে, এমন ধারণা অনেক কওমিপন্থী রাজনীতিকের।

আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মো. আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের নেত্রী বলেছেন—  ‘আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ও বঙ্গবন্ধুর আর্দশে বিশ্বাসী সব দলকে নিয়ে ১৪ দলীয় জোট আরও সম্প্রসারণ করা হবে। সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক দলগুলো আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।’

উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই ভারত সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, ‘ফোর্স’ দিয়ে নয়, বরং কৌশলের সঙ্গে (‘ট্যাক্টফুলি’) হেফাজতের সঙ্গে ডিল করছি। আর এখন তার সুফলও মিলতে শুরু করেছে। কওমি মাদ্রাসার বহু ছাত্রও এখন আওয়ামী লীগকে সমর্থন করতে শুরু করেছে!’

 

/এসটিএস/এপিএইচ/

লাইভ

টপ