তীব্র আন্দোলনের বিকল্প দেখছে না বিএনপির তৃণমূল

Send
সালমান তারেক শাকিল
প্রকাশিত : ২১:০০, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:০০, সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৮

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে নেতাকর্মীরা

২০১৪ সালের অভিজ্ঞতাকে মাথায় রেখে আগামী নির্বাচনের আগে দাবি আদায়ে কঠোর ও তীব্র আন্দোলন করাই একমাত্র পথ বলে মনে করছেন বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করে নির্বাচনে যাওয়ার একমাত্র উপায় সক্রিয় আন্দোলন, যা ২০১৪ সালের মতো নিষ্ফলা হবে না।
শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে আসা বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে আলাপ করে তাদের এমন মনোভাব জানা গেছে।
এদিন দুপুর ২টায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ শুরু হলেও সমাবেশস্থলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন আরও আগে থেকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর নয়াপল্টনের চিত্র বদলে যেতে থাকে। নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুল ও পুরানা পল্টন মোড়ের দিকেও ছড়িয়ে পড়েন বিএনপির নেতাকর্মীরা। মঞ্চের নেতারাও বলেন, আগামী নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে এবং তার মুক্তির বাইরে নির্বাচনে না যাওয়ার কথাও বলছিলেন নেতারা।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জেলে আছেন খালেদা জিয়া। এ মামলায় তার পাঁচ বছরের সাজা হলেও তিনি জামিন পেয়েছেন। তবে তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে। সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নাল আবদিন জানান, ‘আর মাত্র দুটি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন প্রয়োজন। এরপরই তিনি মুক্ত হবেন।’
সমাবেশের মূল মঞ্চ থেকে একটু দূরে আইল্যান্ডে গাছের নিচে বসে বক্তব্য শুনছিলেন চকবাজার থানা কমিটির নেতা কুতুব উদ্দিন। ৫২ বছর বয়সী এই নেতা বলেন, ‘আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। তাকে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বিএনপি।’
কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘২০১৪ সালের প্রেক্ষাপট ভিন্ন ছিল। তবে এটা ঠিক আন্দোলনের বাইরে সরকার কোনও দাবিই মানবে না। এক্ষেত্রে আরও সক্রিয় আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’
কয়েকজন নেতাকর্মী নিয়ে ঘিরে থাকা চকবাজার থানার এই নেতা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘হাইকমান্ড যা-ই বলুক, আমরা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আন্দোলনের মাধ্যমেই লক্ষ্যে পৌঁছাবো।’
তবে মোহাম্মদপুর থানা কমিটির সদস্য মাহবুব মিয়া কুতুব উদ্দিনের কথার সঙ্গে একটু দ্বিমত পোষণ করলেন। হাইকমান্ড যা সিদ্ধান্ত নেবে, তা কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই নেবেন, এমন বিশ্বাস তার। মাহবুব মিয়া বলেন, ‘আজকের সমাবেশের মেসেজ হচ্ছে, ম্যাডামকে ছাড়া আমরা নির্বাচনে যাবো না। তাকে জেলে রেখে কোনও নির্বাচনে যেতে চাই না আমরা।’
তবে আন্দোলন ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি অসম্ভব বলেই দাবি করেন মাহবুব মিয়া। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ‘আগামীতে আমরা সরকার গঠন করবো।’
আগামী নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকারকে বাধ্য করতে হবে বলে মত দেন রেলওয়ে কলোনি ইউনিয়ন সেক্রেটারি গোলাম মাওলা। সমাবেশে যোগ দেওয়া মানুষের সংখ্যা লাখের ওপরে, এমন তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এত মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে বিএনপির জনপ্রিয়তা কতটা! আর এই উপস্থিতি রাজপথে লাগবে।’
গোলাম মাওলা বলেন, ‘আমাদের চিন্তা ম্যাডামকে মুক্ত করে সরকারকে সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধ্য করতে হবে।’
সমাবেশস্থলের পাশে নাইটিঙ্গেল মোড়ে কথা হয় তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী ছাত্রদলকর্মী মিজানুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আজকে সমাবেশে নেতাদের বক্তব্যে পরিষ্কার হয়েছে, বেগম জিয়াকে ছাড়া কোনও নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। আমরাও চাই, সেই হিসেবেই চলবে দল।’
সমাবেশে ঢাকা শহরের বাইরে থেকেও অনেকে যোগ দেন। এর মধ্যে মানিকগঞ্জ, সাভার, টঙ্গি ও নারায়ণগঞ্জসহ অন্য জেলার অনেক নেতাকর্মী আসেন।
পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার সাবেক ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক জহির হোসেন বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলন করতে হবে। কারণ, তখন প্রশাসন কিছুটা নমনীয় থাকবে।’
বরগুনা জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। এরপর নির্বাচন নিয়ে চিন্তা করতে হবে। চলমান আন্দোলন দিয়ে তাকে মুক্ত করা যাবে না।’
বিএনপির মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বাংলা ট্রিবউনকে বলেন, ‘গণমানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে দাবির পক্ষে মানুষের অবস্থান। বিএনপি যে দাবি নিয়ে সংগ্রাম করছে, তার পক্ষে যৌক্তিক অবস্থান মিলেছে সমাবেশের মধ্য দিয়ে।’
সাধারণ নেতাকর্মীরা কেবল নয়, মূল মঞ্চে কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতাদের প্রায় সবাই একই কণ্ঠে বলেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার প্রশ্ন রাখেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনে এত ভয় কেন?

/এএইচআর/এইচআই/

লাইভ

টপ