বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘সরকারের উদ্দেশ্য দুইটি। একটি হলো, একের পর এক মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাজার স্তূপবৃদ্ধি করা। আরেকটি উদ্দেশ্য, দিনের পর দিন আটকে রেখে শারিরীক অসুস্থতার আরও অবনতি ঘটিয়ে তাকে বিপর্যস্ত করা।’
বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, ‘সরকারপ্রধানের অদম্য প্রতিহিংসা দ্রুত চরিতার্থ করার জন্য আদালত স্থানান্তরের এই অসাংবিধানিক ন্যাক্কারজনক কাজটি করা হয়েছে। সরকার আইন কানুনের কোনও ধার ধারছে না। আদালতকে পাঠানো হয়েছে কারাগারে। দেশের বিপুল জনসমর্থিত নেত্রীকে কারাগারে আটকে রেখে গণতন্ত্রকেই বন্দি করে রাখা হয়েছে।’
গতকাল বুধবার হুইল চেয়ারে করে খালেদা জিয়াকে কারাগারে স্থাপিত আদালতে নিয়ে আসা হয় উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘তার হাত-পা নাড়াতে অসুবিধা হচ্ছিলো। তিনি এতোটাই অসুস্থ ছিলেন যে রীতিমতো কাঁপছিলেন, চেয়ার থেকে দাঁড়াতে পারছিলেন না। বার বার দাবি করা সত্যেও তার সুচিকিৎসায় সরকার অবহেলা করেছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার যথাযথ স্বাস্থ্য পরিক্ষা করানো হয়নি। দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে তার সুচিকিৎসার দাবি বারবার উপেক্ষা করা হয়েছে।’
রিজভী আরও বলেন, ‘গণমাধ্যমের কর্মীরা গতকাল স্বচক্ষে দেখলেন এবং তাদের মাধ্যমে জাতি আবারও জানলো বেগম জিয়া কতটা গুরুতর অসুস্থ। তাকে পরিকল্পিতভাবে কারাগারে রেখে নির্যাতন করছেন সরকারপ্রধান। পরিত্যক্ত কারাগারে তাকে যে কক্ষটি দেওয়া হয়েছে তা বাস করার অনুপযুক্ত। মেরামতহীন অপরিচ্ছন্ন জরাজীর্ণ কক্ষটি দেওয়া হয়েছে সরকারের ইচ্ছায়।’
খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকলেও জোর করে আদালতে নিয়ে আসতে হবে-এটি আক্রোশের মনোভাব বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘গতকালও তাকে জোর করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। অন্ধকার কারাগারে আদালত গঠন করে বেগম জিয়াকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।’
বিএনপি এই নেতা বলেন, ‘যে মামলায় বেগম জিয়াকে কারাগারে নেওয়া হয়েছিল, সেই মামলায় তিনি জামিনে আছেন। অর্থাৎ তাকে এখন বিনা বিচারে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশের সিনিয়র নাগরিক, তার প্রতি সরকারের এমন নিষ্ঠুর আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করছি।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসন্ন নির্বাচন ‘ম্যানেজ’ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘নিষ্ঠার সঙ্গে কাজে লাগাচ্ছেন’ বলেও দাবি করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘তার অধীনে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেই নির্বাচনগুলো জালিয়াতির নির্বাচন হিসেবেই বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে। শেখ হাসিনা অবাধ ও সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে চান না। কারণ এই ধরনের নির্বাচন হলে শেখ হাসিনার লজ্জাজনক পরাজয় হবে। তাই একতরফা ভোটারশূন্য নির্বাচন করার জন্য তিনি সারাদেশে বিরোধীদল শূন্য করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।’
ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়ি ও পরিবার ছেড়ে পলাতক জীবন বেছে নিতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘প্রতি দিন রাতের বেলা পোশাকধারী ও সাদা পোশাকধারীরা বিএনপি নেতাদের বাড়িতে হানা দিচ্ছে। তল্লাশির নামে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও গ্রেফতার করছে। ঈদের কয়েকদিন আগে থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে বিএনপির ১৫ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলা হয়েছে ১২ শতাধিক। নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে ১১ হাজার এবং অজ্ঞাতনামা আসামি সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার।
আরও পড়ুন- সরকার খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে: জয়নুল আবেদীন








