বাংলা ট্রিবিউনকে ড. কামাল হোসেন ঐক্যের উদ্দেশ্যের বাইরে আমি যাবো না

Send
সালমান তারেক শাকিল
প্রকাশিত : ২০:১৮, অক্টোবর ১৯, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৩৮, অক্টোবর ২০, ২০১৮

নিজের চেম্বারে হাস্যোজ্জ্বল ড. কামাল হোসেন

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম প্রধান নেতা, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যে উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, এর বাইরে তিনি যাবেন না। যেতে পারেন না।’

গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য ও কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিকের সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এই জোটে বিকল্প ধারার অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলটির সভাপতি বি চৌধুরী জানিয়ে দেন, জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না জানালে বিএনপিকে এককভাবে ক্ষমতায় বসানোর ঐক্যে তার দল থাকবে না। বি চৌধুরীর এই প্রস্থানকে জোটের অনেকে স্বস্তিদায়ক হিসেবে মনে করলেও সাবেক রাষ্ট্রপতির দলের নেতারা বলছেন, ড. কামাল হোসেনই বরং সই দিয়ে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। এরপর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা আছে— শেষ পর্যন্ত ড.কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে থাকবেন কিনা?

এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে গত মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে তার মতিঝিলের চেম্বারে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের। বেইলি রোডের বাড়িতে এসে বি চৌধুরীর ফিরে যাওয়ার বিষয়েও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি।  জাতীয় ঐক্য যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়েছে, সেটা ঠিক থাকলে তিনিও (কামাল হোসেন) জোটে থাকবেন। নিচে ড. কামাল হোসেনের সাক্ষাৎকারটি হবহু তুলে দেওয়া হলো।

বাংলা ট্রিবিউন: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সূচনা হলো। এই ফ্রন্টকে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিতে যেতে আপনি কতটা আশাবাদী?
ড. কামাল হোসেন: এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয় এই আশা করে ঐক্যমত গঠনে ভূমিকা রাখবে। এটি মৌলিক বিষয়, আমাদের কথা হলো— এখানে কোনও দলীয় অবস্থানকে সমর্থন করা না।  যেটি আমাদের সাত দফার মধ্যে— অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিষয়ে ঐক্যমত গঠন করা, দলমত নির্বিশেষে। আমি তো বলি, আমাদের এই প্রক্রিয়ার মধ্যে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করলেও সমস্যা নাই। আমরা কোনও দলীয় বক্তব্য এখানে দিতে চাচ্ছি না। আমরা বলছি, সকল মানুষের যেটা চাহিদা, দাবি সংবিধান অনুযায়ী সবকিছু হোক।’

বাংলা ট্রিবিউন: এখন (১৬ অক্টোবার) তো জোটের নেতারা মিটিং এ বসবেন, এখন পর্যন্ত কি প্রক্রিয়াটা ঠিকঠাক অবস্থায় আছে?

ড. কামাল হোসেন:  এটা প্রথম বৈঠক। আমরা সুষ্ঠু পরিবেশে সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। এটাই আমাদের মূল বিষয়।

বাংলা ট্রিবিউন: এই যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করলেন, এটার হাত ধরে কি নির্বাচন পর্যন্ত যেতে পারবেন?

ড. কামাল হোসেন: আমার কোনও উত্তর দেওয়া সম্ভব না। এটাই মাত্র শুরু হলো।

বাংলা ট্রিবিউন: একটা সংশয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে, আপনি এখান থেকে সরে যেতে পারেন।

ড. কামাল হোসেন: নাহ, সরে যেতে পারি না। আমার কথা হলো— এই ঐক্য যে উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়েছে, সে উদ্দেশ্যের বাইরে আমি যেতে পারি না। এর বাইরে আমার কিছু বলা ও করা সম্ভব না। হবে না।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনবাংলা ট্রিবিউন: আগামী নির্বাচনে আপনার নির্বাচন করার কি ইচ্ছা আছে?

ড. কামাল হোসেন: আমার তো কোনোই চিন্তা নেই, একদম কোনও চিন্তা নাই। আমার না নেওয়ারই ইচ্ছা। এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে (সিদ্ধান্ত) নেই নাই আমি। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে আমি। এখানে হবে যে... আমাদের দলের বা জোটের, তারা হয়তো বলবেন, যে নির্বাচন করবেন।

বাংলা ট্রিবিউন: সেটা কি তাহলে জোট বা দলের চাহিদার ওপর নির্ভর করবে?

ড. কামাল হোসেন: না নির্ভর করবে না, কিন্তু তাদের চাহিদা তো একটা থাকবেই।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি ২০১২ সাল থেকে অসংখ্যবার বি. চৌধুরীর সঙ্গে ঐক্যমত প্রদর্শন করেছেন। আমরা দেখেছি, আপনারা দুইবার সইও দিয়েছেন। সর্বশেষ  যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াও হয়েছে। তারপরও উনি সেদিন এসেছিলেন এবং ফেরত গেলেন। এটা নিয়ে আপনার কোনও কথা আছে কিনা?

ড. কামাল হোসেন: ওনাকে জানানো হয়েছিল— আমরা এখানে বসছি। আপনি এখানে আসলে ভালো হয়। আমার বাসায় কেউ ছিল না, যেটা উনি পরে বলেছেন। কেউ না, এটা জানানো হয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: এরপর কি বি চৌধুরীর সঙ্গে কথা হয়েছে আপনার?

ড. কামাল হোসেন: না, এরপর আর উনার সঙ্গে কথা হয়নি।

বাংলা ট্রিবিউন: তাকে কি আপনি ঐক্যফ্রন্টে আনার চেষ্টা করবেন?

ড. কামাল হোসেন: আমার অনুরোধ তো থাকবেই। আমি তো বলবো, আমার সেখানে (বাড়িতে) না থাকাটা যদি উনি ভুল বুঝে থাকেন, এটাই বড় কথা। আর  আপনাকে (বি চৌধুরী) বলবো, আপনি যদি জয়েন করতে পারেন, তাহলে তো খুবই ভালো।

বাংলা ট্রিবিউন: বিএনপির সঙ্গে আপনার যে ঐক্যটা হলো, এটা শুধু বিএনপির সঙ্গেই হয়েছে। কিন্তু দলটির সঙ্গে একটি জোট আছে— এই যে প্যারালাল যাওয়া, এটা আপনি কিভাবে দেখেন?

ড. কামাল হোসেন: এই সাত দফাকে সমর্থনে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো। এ পর্যন্ত বলেছি এবং করার চেষ্টা করছি। এর বাইরে আমার কোনও কিছু করা সম্ভবও না।

বাংলা ট্রিবিউন: জোট গঠনের পর সরকার দলীয় লোকজন অনেক সমালোচনা করছে, এটাকে আপনি কিভাবে নিচ্ছেন?

ড. কামাল হোসেনের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করছেন বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদকড. কামাল হোসেন: সমালোচনা সব শুনতে হবে। সমালোচনা করার অধিকার আছে, মানুষ করবে।

বাংলা ট্রিবিউন: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একনম্বর দাবির কথাই বলি, এক্ষেত্রে এটা কি শুধু দাবিই থাকবে, নাকি এর জন্য কোনও কার্যকর আন্দোলনও থাকবে?

ড. কামাল হোসেন: আমার বক্তব্য হলো— গণতান্ত্রিক পদক্ষেপ যেগুলো নিতে পারেন নেবেন। আইন অনুযায়ী যা নিতে পারেন, তা সবাই নেবেন।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনাদের ঐক্যে বিএনপি আছে। দলটি অনেক বছর ক্ষমতায় ছিল। ওই সময়গুলোতে তারা ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করেনি। প্রতিষ্ঠানগুলোকেও শক্তিশালী করেনি। এক্ষেত্রে জোটের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ভারসাম্য সৃষ্টির, বিএনপি কি এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করবে?

ড. কামাল হোসেন: ‘এটা কোনও পার্টির পক্ষে না। নির্বাচন, অবাধ নির্বাচন হোক, এই স্বার্থকে কেন্দ্র করে আমি নেমেছি। ধরে নেওয়া হয়েছে যারা স্বাক্ষর করেছেন— তারা দাবিগুলোকে সমর্থন করেই করেছেন। সামনে দেখা হবে, যারা স্বাক্ষর করেছেন তারা সেটাকে পালন করেছেন কিনা।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি কি ফ্রন্টের কর্মসূচিতে অংশ নেবেন?

ড. কামাল হোসেন: আমার তো সীমাবদ্ধতা আছে স্বাস্থ্যের, এরপরও গুরুত্বপূর্ণ হলে অংশ নেবো।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন এর বেশি কথা বলতে নারাজ। সাক্ষাৎকার নিয়ে মিডিয়ায় তার বক্তব্য ভিন্নভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ তুলে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন। শেষ পর্যায়ে বাংলা ট্রিবিউনকে কামাল হোসেন বলেন, ‘বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে। আমি কোনও বিতর্ক সৃষ্টি করতে চাই না।’

ছবি: নাসিরুল ইসলাম

/এসটিএস/এপিএইচ/

লাইভ

টপ