রাজশাহীতে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে যাচ্ছেন না কামাল

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১১:১৪, নভেম্বর ০৯, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:২৪, নভেম্বর ০৯, ২০১৮

বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপচারিতায় ড. কামাল হোসেনরাজশাহীতে আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে যোগ দেবেন না ড. কামাল হোসেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি রাজশাহী যাচ্ছেন না। ড. কামালের দল গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বাংলা ট্রিবিউনকে শুক্রবার (৯ নভেম্বর) সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর বেলা ২টার দিকে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে মঞ্চ প্রস্তুতসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করেছে ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা। সমাবেশস্থলে ব্যাপক মানুষের উপস্থিতি ঘটবে বলে আশা করছেন তারা।

বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, ড. কামাল না এলেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মাহমুদুর রহমান মান্না, আ স ম আব্দুর রব, কর্নেল অলি আহমেদ, আন্দালিব রহমান পার্থ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ সিনিয়র নেতা এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সব নেতা যোগ দেবেন। তারা বিমানে করে আজ রাজশাহী পৌঁছাবেন।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির দফতর সম্পাদক নাজমুল হক ডিকেন বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের রিসিভ করার জন্য সবাই রাজশাহীর শাহ মুখদুম বিমানবন্দরের দিকে রওনা হয়েছি। শুনেছি ড. কামাল হোসেন অসুস্থ। তবে তিনি আসবেন কিনা এ ব্যাপারে বলতে পারছি না। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়ক মিজানুর রহমান মিনু ভাইকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেছেন, বিমানবন্দরে যাচ্ছি। দেখা যাক কে কে আসছেন সমাবেশে।’

বাংলা ট্রিবিউনের রাজশাহী প্রতিনিধিকে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল জানান, ‘সমাবেশের মাত্র ১৪ ঘণ্টা আগে আমরা পুলিশ-প্রশাসনের অনুমতি পেয়েছি। এই অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। সমাবেশস্থলে মাঠ প্রস্তুত করা, মঞ্চ তৈরি ও ডেকোরেশনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন স্থানে মাইক লাগানোর কাজও শেষ হয়েছে।’

মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল অভিযোগ করেন, ‘সমাবেশ যাতে সফল না হয় সেজন্য বিভিন্ন জায়গায় আমাদের কর্মীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ-প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিলে যৌথ মহড়া দিচ্ছে। বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। মাইকিং চলাকালে পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে নেওয়া হয়েছে।’

রাজশাহী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয়ক মিজানুর রহমান বলেন, ‘সরকার ও পুলিশ বিভাগের কিছু অতি উৎসাহী কর্মকর্তা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে। তারা প্রচার মাইকের সঙ্গে থাকা পোস্টার, ব্যানার খুলে নিয়েছে। বিশেষ করে কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটেছে। এছাড়া নেতাকর্মীরা যাতে বাইরের জেলাগুলো থেকে না আসতে পারে তার জন্য রাজশাহীগামী সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। যতই সরকার গ্রেফতার, বাস বন্ধ এবং ভয়ভীতি দেখানো হোক না কেন, আমাদের এই মহাসমাবেশ রাজশাহীর সর্বকালের সর্ববৃহৎ সমাবেশে পরিণত হবে। মাদ্রাসা মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হবে।’

তিনি জানান, বুধবার বিকাল ৪টায় আরএমপি কমিশনার নগরীর গণকপাড়া মোড়ে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু জনদুর্ভোগের বিষয় নিয়ে পুনরায় কমিশনারকে বললে ১২টি শর্ত জুড়ে দিয়ে সমাবেশ করার অনুমতি দেন।

মিজানুর রহমান মিনু আরও বলেন, ‘সমাবেশের মাত্র ১৪ ঘণ্টা আগে ১২টি শর্তে সমাবেশ করার লিখিত অনুমতি পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকাতেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে বাধা দেওয়া হয়। এরপরও এই সমাবেশ সফল হবে এবং এখান থেকেই সুষ্ঠু নির্বাচনের গণআন্দোলন শুরু হবে।’

/এএইচআর/এফএস/এমওএফ/

লাইভ

টপ