শিকে ছিঁড়লো না গানির, ফুফু রিটা পেলেন ধানের শীষ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:১১, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:২৮, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৮


নির্বাচনে প্রয়াত মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে রিটা রহমান ও তার ভাতিজা ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি
চমক জাগিয়ে বিএনপি থেকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে রংপুর-৩ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশের চেয়ারপারসন রিটা রহমান। তবে জোট পাল্টেও সুফল পেলেন না তার ভাতিজা বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ছেড়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটে যুক্তফ্রন্টের শরিক হয়েও নীলফামারী-১ আসনে নৌকা প্রতীক পাননি তিনি, আসনটিতে নিজস্ব চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ।
রিটা রহমান বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) একাংশের চেয়ারম্যান ও জিয়া সরকারের মন্ত্রী প্রয়াত মশিউর রহমান যাদু মিয়ার কন্যা। তার (রিটা) ভাই এরশাদ সরকারের মন্ত্রী প্রয়াত শফিকুল গনি স্বপনের ছেলে জেবেল রহমান গানি। রিটা রহমানের আপন ভাতিজা গানি।
পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশের জন্ম গত ৪ নভেম্বর। জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দলটির আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেন বিএনপির প্রয়াত মন্ত্রী মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে রিটা রহমান।এর চারদিন পর ৮ নভেম্বর রাতে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খানের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেন তিনি। তার যোগদান অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ছিলেন। আর এর ঠিক এক মাস পর ৭ ডিসেম্বর রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে মির্জা ফখরুল বিএনপির যে ২০৬ জন চূড়ান্ত প্রার্থীর নামের তালিকা ঘোষণা করেন তার মধ্যে রংপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষিত হয়েছে রিটা রহমানের।
এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নেই, মহাজোটের প্রার্থী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তার। যদিও আসনটি ১৯৯১ সাল থেকেই জাতীয় পার্টির দখলে।
অন্যদিকে, সেই ২০ দলীয় জোট ৬ বছর আগে যখন ১৮ দলীয় জোট ছিল সেই সময় থেকেই এর অন্যতম শরিক ছিল বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)। এর দলীয় প্রধান মশিউর রহমান যাদু মিয়ারই নাতি জেবেল রহমান গানি। কিন্তু, একাদশ নির্বাচনের মাত্র দেড় মাস আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের কারণে বিএনপির কাছে ২০ দলীয় জোটের নেতারা কোণঠাসা হয়ে পড়বেন এই আশঙ্কায় মতবিরোধ তৈরি হয় তার। এই মতভিন্নতার কারণে ১৬ অক্টোবর এই জোট থেকে বেরিয়ে যান তিনি।
তবে এই দলেরই নেতা রিটা রহমান ওই দিন গুলশানের একটি কমিউনিটি সেন্টারে ন্যাপের সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন, তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাসী। দল হিসেবে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন। নতুন দল করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তার উত্তর ছিল, ‘না’। তবে শেষ পর্যন্ত দল গঠন করেই বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেন তিনি।
এদিকে জেবেল রহমান গানির দল ন্যাপ যোগ দেয় বিকল্পধারার নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টে। এরপর যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা হয়ে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে অংশ নেন তিনি। যুক্তফ্রন্টও যোগ দেয় মহাজোটে। এরপর জেবেল রহমান গানি একাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেন নীলফামারী-১ আসনে। কিন্তু, মহাজোটের শরিক হিসেবে যুক্তফ্রন্টকে মাত্র ৩টি আসনে ছাড় দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আর অনেক আগেই নীলফামারী-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হয়েছে বর্তমান সংসদ সদস্য ও ডিমলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফতাব উদ্দিন সরকারের নাম। ফলে এই আসনে মহাজোটের প্রার্থী হওয়ার কোনও সম্ভাবনা তার নেই বললেই চলে। নির্বাচন করলে দলীয় গাভী প্রতীক নিয়েই মাঠে নামতে হবে তাকে।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে রিটা রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এই আসনে (রংপুর-৩) নির্বাচনের জন্য তিন-চার বছর আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। দলের স্থানীয় নেতারাও তার সঙ্গে আছেন। রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়ায় তিনি নিজেও কয়েক দশক ধরেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরে বিএনপির ও জাসাসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্যও তিনি।
তবে কেন নতুন করে দল গঠন করতে হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণেই এটা করতে হয়েছিল। তবে আমি বিএনপিতেই আছি।’
অবশ্য নিজের দল পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশ অবলুপ্ত হয়ে গেছে কিনা তা জানাননি তিনি।
এদিকে, যুক্তফ্রন্টে গিয়েও মহাজোটের মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়ে ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি বলেন, ‘মহাজোটের চিঠি এখনও পাইনি। না পেলে আমাদের দলীয় প্রতীক (গাভী) নিয়েই নির্বাচনে অংশ নেবো।’


/এসটিএস/ওআর/টিএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ