আপিলে প্রার্থিতা ফেরত পেলেন ২৪৩ জন, পাননি খালেদা জিয়া

Send
রাফসান জানি
প্রকাশিত : ০২:১৮, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:২৮, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৮

খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে  প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ২৪৩ জন প্রার্থী। তাদের একটি বড় অংশ দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির মনোনীত। দলটির অন্তত ৭৮ জন তাদের প্রার্থিতা ফেরত পেলেও  বিএনপি প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পাননি।

সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনটি আসনের আপিল আবেদন নামঞ্জুর হয়। এছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে অবৈধ প্রার্থীরা প্রার্থিতা ফেরত পেলেও বৈধ প্রার্থীর ক্ষেত্রে কেউ সফলতা পায়নি। বিভিন্ন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা বৈধ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অন্তত ২০ জন আপিল করেন। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী বৈধ প্রার্থীর বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল দায়ের করেছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বিরা।

বিএনপি ছাড়াও প্রার্থীতা ফেরত পাওয়া অন্য দলের মধ্যে আওয়ামী লীগের দুইজন, জাতীয় পার্টি ১৭, গণফোরাম ৬, খেলাফত মজলিস ৩, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ৫, বিকল্পধারা ৫, এলডিপি ৪ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি ২, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ ৬,  বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট  ৪, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ১, ইসলামী ঐক্যজোট ৫ জন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১৫, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি ৬, জাকের পার্টি ১৮, মুসলিম লীগ ৫, সিপিবি ৫ জন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা ১, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ ৬, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ১ জন, মুসলিম লীগের ২ জন খেলাফত আন্দোলন ১ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ৪ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র ৪৪ জনের প্রার্থির আপিল মঞ্জুর হয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ৩ হাজার ৬৫ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে ৩৯টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ৫৬৭ ও বাকি ৪৯৮ জন স্বতন্ত্র। ২ ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই করে ৭৮৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। এর মধ্যে বিএনপির ১৪১ ও আওয়ামী লীগের ৩ জন রয়েছেন। পরে কমিশনে আপিল করেন ৫৪৩ জন। আপিলকারীদের মধ্যে অন্তত ২০ প্রার্থীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আপিল জমা হয়। বাকি সবাই প্রার্থিতা ফিরে পেতে আবেদন করেন। সিইসি কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের কমিশন এসব আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করেন।

নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তরা জানান, শুনানির প্রথম দিন ৮০ জন, দ্বিতীয় দিনে ৭৮ জন এবং শনিবার শেষ দিনে ৮৫ জনসহ তিন দিনে মোট ২৪৩ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। আগে থেকে বৈধ থাকা দুই হাজার ২৭৯ জন প্রার্থীর সঙ্গে আপিলে ফিরে আসা প্রার্থী মিলে প্রায় দুই হাজার ৫২২ জন বৈধ প্রার্থী হলো এবার। শুনানির শেষ দিন শনিবার রাত সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত আপিল আবেদনের শুনানি চলে।

শেষ দিনে প্রার্থিতা পেলেন যারা:

ইসির আপিল শুনানির শেষ দিনে ৮৪জন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- জামালপুর-৩ আসনের নঈম জাহাঙ্গীর, নেত্রকোনা-১ আসনের আব্দুল কাইয়ুম খান, ময়মনসিংহ-৬ আসনের চৌধুরী মুহাম্মাদ ইসহাক, ব্রাম্মণবাড়িয়া-২ শাহ মফিজ, ব্রাম্মণবাড়িয়া-২ মহিউদ্দিন মোল্লা, ব্রাম্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সৈয়দ মাহমুদুল হক, চট্টগ্রাম-৯ আসনের মো. মোরশেদ সিদ্দিকি, চাঁদপুর-৪ আসনের জেড খান মো. রিয়াজ উদ্দিন, খাগড়াছড়ি আসনের নতুন কুমার চাকমা, চট্টগ্রাম-৫ আসনের নাসির উদ্দিন, বান্দরবান আসনের মা ম্যা চিং, চট্টগ্রাম-৮ আসনের এম মোরশেদ খান, রাজশাহী-৫ আসনের মো. আবু বকর সিদ্দিকি ও নাদিম মোস্তফা, রাজশাহী-৬ আবু সাঈদ চাঁদ, জয়পুরহাট-১ আসনের আলেয়া বেগম, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের মো. আলী আলম, রাজশাহী-১ মুজিবুর রহমান, যশোর-৫ ইবাদুল খালেসী, কুষ্টিয়া-৪ আসনের মো. তছির উদ্দিন, যশোর-১ আসনের মো. সাজেদুর রহমান, যশোর-৪ লিটন মোল্লা, যশোর-৫ রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইল-১ ফকির মাহবুব আনান স্বপন, ঢাকা-১৭ শওকত আজিজ, ঢাকা-১৯ মো. কফিল উদ্দিন, লক্ষীপুর-২ রহুল আমিন ভূঞা, চট্টগ্রাম-৫ আসনে মাসুদুল আলম বাবলু, ব্রাম্মণবাড়িয়া-৬ আসনের এ কে এম জাবির, চট্রগ্রাম-১৩ নারায়ণ রক্ষিত, কুমিল্লা-৩ মো. আকবর আমিন বাবুল, ব্রাম্মণবাড়িয়া-৫ আসনের কাজী নাজমুল হোসেন, যশোর-৪ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, যশোর-৫ আসনের নিজাম উদ্দিন অমিত, যশোর-৩ আসনের সৈয়দ বিপ্লব আজাদ, যশোর-২ আসনের এম আছাদুজ্জামান ও ফিরোজ শাহ, হবিগঞ্জ-৪ আনছারুল হক, সিলেট-১ আনোয়ার উদ্দিন বোরহান, সিলেট-৫ মো. নুরুল আমিন, নীলফামারী-১ এ আহম্মেদ বাবের বিল্লাহ (মুন), নীলফামারী-৩ আব্দুল ওয়াহেদ, রংপুর-৪ বেলাল হোসেন, ঢাকা-১৭ আসনের নাজমুল হুদা, রাজশাহী- ৩ মেরাজ উদ্দিন মোল্লা। নারায়নগঞ্জ -১ মো. মাহফুজুর রহমান, ঝিনাইদহ -৩ ইসমাইল হোসেন, কুষ্টিয়া -১ মো. আবদুল খালেক সরকার, রাজশাহী-১ মো. আলফাজ হোসেন, কক্সবাজার -১ মো. হাবিবুল্লাহ, বি বাড়িয়া -৩ মওলানা মুজিবুর রহমান, বান্দরবান ওম্মে ককুলসুম সুলতানা লীনা, কুমিল্লা-৬ সৈয়দ গোলাম মহিউদ্দিন , চট্টগ্রাম -৪ আসনের মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী।

 

আরজে/এমএইচ/

লাইভ

টপ