ফল প্রত্যাখ্যান, ফের নির্বাচনের দাবি ইসলামী আন্দোলনের

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০১ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:২৫আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:৩৩

ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ  সম্মেলনে এ কথা জানান। মঙ্গলবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চরমোনাই পীর বলেন, প্রহসনের নির্বাচন বাতিল করে অবিলম্বে দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের উদ্যোগ না গ্রহণ করলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে তীব্র আন্দোলনের সূচনা করবো।

ইসলামী আন্দোলনের  আমির বলেন,  ‘বাংলাদেশের সচেতন জনগণ  এবং যারা দেশের পক্ষে তাদের সঙ্গেই আমাদের ঐক্য হবে। দাবিগুলো এক হলে ঐক্যফ্রণ্টের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘যদি সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মীদেরকে  স্বাধীনভাবে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো তাহলে হাজার হাজার ভোট ডাকাতির চিত্র তারা ধারণ করতে পারতেন। কিন্তু সরকার তা আগেই বন্ধ করে রেখেছে। ৩০ তারিখের প্রহসনের নির্বাচনে যেহেতু জনগণের মতামতের কোনও প্রতিফলনই ঘটেনি। তাই এ নির্বাচনের ফলাফল আমরা প্রত্যাখ্যান করছি এবং অনতিবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে পুনরায় নির্বাচনের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে রেজাউল করীম বলেন, ‘ইসি নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং করতে  কিছু কৌশল অবলম্বন করেছে যার মধ্যে ছিল ইন্টারনেট বন্ধ, গণমাধ্যম কর্মীদের ছবি তুলতে বিধি-নিষেধ আরোপ, টেন্ডার ভোট পদ্ধতি ও তা গণনা না করা। এরকম নির্বাচনের নামে প্রহসন ও তামাশা জাতি স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও প্রত্যক্ষ করেনি। যেহেতু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সব আসনে অর্থাৎ ২৯৮ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। সব আসনে প্রার্থী থাকায় অনিয়মের বিষয়ে আমরা বেশি অবগত। আমরা বারবার নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি এবং আমাদের নেতারা সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অভিযোগ দেওয়ার পরও কার্যকর কোনও ব্যবস্থা করেননি। একটি  স্বাধীন দেশের সম্মানিত নাগরিকরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে এভাবে অপমানিত ও অপদস্ত হবেন, তা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।’

অভিযোগ করে চরমোনই পীর বলেন, আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করার পরও প্রশাসন ছিল নিরব। পুলিশসহ সব প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ছিল সরকার দলীয় কর্মীদেরকে বিরোধী দলীয় প্রার্থী ও কর্মীদের ওপর আক্রমণের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া। নৌকার প্রার্থীকে সর্বোচ্চ ভোট দেখিয়ে দেশে রের্কড করার জন্য সর্বোচ্চ ভোট ডাকাতি করা। পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকতার নামে দলীয় ক্যাডারদের কার্ড দিয়ে কেন্দ্রে ঢুকিয়ে ব্যালট কাটার সুযোগ করে দেয়া। আগের নির্বাচনগুলোয় কিছু কেন্দ্রে কারচুপি হত। এবার সব আসনের সব কেন্দ্রেই ভোট ডাকাতি হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য নির্বাচন কমিশন, প্রশাসনের সব বিভাগ সারাদেশের ৪০ হাজারের বেশি কেন্দ্রে নৌকা ও মহাজোটের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে একযোগে কাজ করেছে।

 এ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন ২৯৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা-৪ আসনের প্রাথী সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, যুগ্ম মহাসচিব এটিএম হেমায়েতউদ্দীন, যুগ্ম মহাসচিব মাবুবুর রহমান,  ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি  ইমতিয়াজ আলম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফজলে বারী মাসউদ, ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী আবুল কাশেম, গণমাধ্যম সমন্বয় শহিদুল ইসলাম কবির প্রমুখ।

 

 

/সিএ/এসটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
‘ব্রাজিল ফেবারিট হলেও আগের মতো নয়, ভয় পাওয়ার কিছু নেই’ 
‘ব্রাজিল ফেবারিট হলেও আগের মতো নয়, ভয় পাওয়ার কিছু নেই’ 
আর্জেন্টিনার অনুশীলন বাতিল 
আর্জেন্টিনার অনুশীলন বাতিল 
নরওয়ের কোচের ‘উসকানিতে’ কী বললেন ব্রাজিলের কোচ 
নরওয়ের কোচের ‘উসকানিতে’ কী বললেন ব্রাজিলের কোচ 
টিভিতে আজকের খেলা (৫ জুলাই, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা (৫ জুলাই, ২০২৬)
সর্বাধিক পঠিত
ফের বিয়ে করেছেন মৌসুমী হামিদ, বরসহ প্রকাশ্যে বেবিবাম্প নিয়ে হাজির
ফের বিয়ে করেছেন মৌসুমী হামিদ, বরসহ প্রকাশ্যে বেবিবাম্প নিয়ে হাজির
আটা দিয়ে ঝটপট হেলদি স্ন্যাকস, বাচ্চাদের জন্য পারফেক্ট টিফিন
আটা দিয়ে ঝটপট হেলদি স্ন্যাকস, বাচ্চাদের জন্য পারফেক্ট টিফিন
৫ গোলের ম্যাচ জিতে কেপ ভার্দে নিয়ে যা বললেন মেসি 
৫ গোলের ম্যাচ জিতে কেপ ভার্দে নিয়ে যা বললেন মেসি 
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গোল করে কাকে জড়িয়ে ধরতে গিয়েছিলেন কাবরাল?
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গোল করে কাকে জড়িয়ে ধরতে গিয়েছিলেন কাবরাল?
শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান, আটক ৮২
শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান, আটক ৮২