বর্তমান সরকারের অধীনে আর নির্বাচনে যাবে না জামায়াত

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:২৮, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫৩, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৯

জামায়াতক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে আরও কোনও নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর আমির মকবুল আহমাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে বর্তমান সরকারের অধীনে আর কোনও নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ অভিমত দেয় যে, ‘বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে বিগত ১০ বছরে কোনও নির্বাচনই অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়নি। তাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বর্তমান ক্ষমতাসীন কর্তৃত্ববাদী সরকারের অধীনে কোনও নির্বাচনেই অংশগ্রহণ করবে না।’
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার যে ব্যবস্থা করে, তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে নির্বাচন ব্যবস্থার কবর রচিত হয়েছে।’
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, “জাতি গত ১০ বছর যাবৎ প্রত্যক্ষ করে আসছে যে, বর্তমান সরকারের অধীনে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একটি ভোটারবিহীন ব্যালট ডাকাতির প্রহসনের নির্বাচনের নাটক অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক না হওয়ার আশঙ্কায় জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলো অংশগ্রহণ করেনি। জনগণ বিরোধী দলের ডাকে সাড়া দিয়ে এ নির্বাচন বয়কট করে। নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাড়া আর কোনও প্রার্থী ছিল না। অবশিষ্ট আসনগুলোতে শতকরা ৫ ভাগ ভোটারও ভোট দিতে কেন্দ্রে যায়নি। নির্বাচনের নামে এই প্রহসন সারা দুনিয়ায় নজিরবিহীন। প্রবল সমালোচনার মুখে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছিলেন, ‘এটি নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। দ্রুতই আর একটি নির্বাচন হবে।’ কিন্তু ক্ষমতার মোহে তিনি তার ঘোষণা থেকে সরে আসেন এবং জোর করে ক্ষমতা ধরে রেখে দলীয়করণ আরও পাকাপোক্ত করেন।”
বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ, ‘পরবর্তী সময়ে এই ভোটারবিহীন সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশনসহ অন্য নির্বাচনে বিরোধী দলগুলো অংশগ্রহণ করলেও কোনও নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। সেই নির্বাচনগুলোতে ভোট ডাকাতি মোকাবিলা করে যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন, বর্তমান কর্তৃত্বপরায়ণ সরকার নানা ছল-ছুঁতোয় তাদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে জেলখানায় আটক রেখে অনেককেই বারবার বরখাস্ত করেছে। শুধু তা-ই নয়, অনেককে গুমও করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও বর্তমান কর্তৃত্ববাদী সরকার এবং তার আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের গালভরা প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে বিরোধী দলগুলো গত ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং সরকার ও তার আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের দ্বারা নজিরবিহীনভাবে প্রতারিত হয়।’
বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, ‘ক্ষমতাসীন কর্তৃত্ববাদী সরকার নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করার পরিবর্তে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্ব থেকেই বিরোধী দলগুলোর ওপর জুলুম-নির্যাতনের মাত্রা ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেয়। সরকার বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত গায়েবি মামলা দিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে জেলে আবদ্ধ করে রাখে। অনেককে গুম করে বিরোধী দলগুলোকে মাঠ থেকে বিতাড়িত করে দেয়।’
এতে আরও বলা হয়, ‘বিরোধীদলীয় জোটের ধানের শীষ প্রতীকের ১৬ জন প্রার্থীকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়, অনেককে গুলি করে আহত এবং গুম করে। সরকার বিরোধী দলের নেতাকর্মী এবং নির্বাচনি এজেন্টদের ব্যাপকভাবে গ্রেফতার করে। এহেন পরিস্থিতিতে ২৯ ডিসেম্বর রাতে সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবৈধভাবে ব্যবহার করে সরকারের মনোনীত প্রার্থীদের নৌকা ও লাঙ্গল প্রতীকে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে এবং ভোটের দিন বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা প্রদান করে। এভাবে একতরফা নির্বাচনের নাটক মঞ্চস্থ করে আওয়ামী লীগ আবারও জোর করে ক্ষমতায় বসে। বর্তমান সরকারের ১০ বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হচ্ছে, দলীয় সরকারের অধীনে কখনোই অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচন তিনটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। তাতে জনগণ ভোট দিতে পেরেছে এবং সে নির্বাচন তিনটি দেশে-বিদেশে সবার নিকট প্রশংসিত ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের যে দাবি জানিয়ে আসছি, তা আবারও সঠিক প্রমাণিত হয়েছে।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এমতাবস্থায় জামায়াতে ইসলামী বর্তমান কর্তৃত্ববাদী সরকারের অধীনে কোনও নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য আমাদের দাবি অব্যাহত থাকবে এবং একটি সুদৃঢ় ও কার্যকর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার জন্য আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো, ইনশাআল্লাহ। দেশের সর্বস্তরের জনগণকে সব অন্যায়-জুলুম-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার এবং সচেতন হওয়ার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।’

/এসটিএস/এমএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ