জাতির কাছে বলার মতো বিএনপির কিছু নেই: হানিফ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৫:০৪, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:২৯, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা

বিএনপি জামায়াতের সামনে এখন রাজনৈতিক কোনও ইস্যু নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। তিনি বলেন, ‘বিএনপির কাছে এখন রাজনীতি নিয়ে কোনও ইস্যু নেই। জাতির কাছে বলার মতো তাদের কিছু নেই। যে দলের শীর্ষ নেতানেত্রী আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে এবং বিদেশে পলাতক থাকেন, সেই দলের দেশের জনগণের জন্য বলার কোনও নৈতিক অধিকার থাকে না।’
বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে স্বপ্ন ফাউন্ডেশনের আয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘যারা একাত্তরের দোসর, তারা আবার নতুনভাবে ষড়যন্ত্র করছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অকারণে অহেতুক বিতর্ক তুলে আবার দেশের মধ্যে একটি অস্থিরতা তৈরির চক্রান্ত করছে। নির্বাচন হয়ে গেছে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে। এই বিজয় ছিল প্রত্যাশিত। আওয়ামী লীগ যে এই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করবে এটি দেশবাসী জানতো, বিশ্ববাসীও জানতো।’
হানিফ অভিযোগ করেন, ‘যারা ক্ষমতায় থাকতে দেশকে কোনও কিছু দিতে পারেনি, ক্ষমতায় থাকতে যারা দেশকে দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল, ক্ষমতার বাইরে থেকেও যারা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করেছিল, সেসব রাজনীতিবিদ তাদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে এখন নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন কথা বলছেন।’
পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক আচরণের কথা উল্লেখ করে এই নেতা বলেন, ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে আমরা আমাদের মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিলাম। পৃথিবীর মধ্যে আর কোনও দ্বিতীয় দেশ খুঁজে পাওয়া যাবে না, যাদের তার মায়ের ভাষার জন্য প্রাণ দিতে হয়েছে। একটি জাতির কত দুঃখজনক ব্যাপার যে তারা মায়ের ভাষায় কথা বলতে পারবে না। এর মধ্যদিয়ে প্রমাণ হয়েছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কতটা বৈষম্যমূলক আচরণ আমাদের সঙ্গে করেছে।
বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়ে তিনি বলেন, ‘একটা বিষয়ে আমাদের মধ্যে এখনও কষ্ট রয়ে গেছে। এখনও বাংলা ভাষার ব্যবহার সব জায়গায় পরিপূর্ণভাবে হচ্ছে না। বিশেষ করে আমরা দেখি আদালতে যে রায়গুলো লেখা হয়, তা ইংরেজিতে লেখা হয়। আদালত ইংরেজি ভাষায় এই রায়গুলো যেভাবে লিখেন, একমাত্র ওই আদালতের যারা প্র্যাকটিস করা আইনজীবী শুধু তারাই ভালো বুঝতে পারেন। এত দুর্বোধ্যভাবে লেখা হয়, যা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না। আমরা সকলের কাছে আশা করি, যে মাতৃভাষার জন্য আমরা প্রাণ দিয়েছিলাম তা সকল জায়গায় আমরা যেন ব্যবহার করতে পারি।’
ডাকসু নির্বাচন নিয়ে এই নেতা বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে বিবেচিত। এটি আমাদের বাংলাদেশের ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন হবে। আমরা আশা করছি এই নির্বাচনে যত ছাত্র সংগঠন আছে তারা সবাই অংশ নেবে।’
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ এবং স্বপ্ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ প্রমুখ।

/এইচএন/টিটি/এমওএফ/

লাইভ

টপ