হতাশ হবেন না, হতাশার কথা শুনতে চাই না: মির্জা ফখরুল

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:৪৬, এপ্রিল ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৫১, এপ্রিল ১৯, ২০১৯

বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির নেতাকর্মীদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আপনারা হতাশ হবেন না। হতাশার কথা শুনতে চাই না। বিএনপি নিঃশেষ হয়ে যায়নি। যারা বলে নিঃশেষ হয়ে গেছে, তাদের সঙ্গে আমি একমত নয়।’

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ‘খালেদা জিয়া:তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে এ কথা বলেন তিনি। শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করে ‘শত নাগরিক কমিটি’।  

বিএনপি প্রতিটি সংকটের মুহূর্তে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি দেশের জনগণের দল। এটা আমাদের বারবার মনে করতে হবে। বারবার চেষ্টা করা হয়েছে বিএনপিকে ভেঙে ফেলার। এবারও খালেদা জিয়া একটিমাত্র কারণে কারাগারে, তা হলো— বিএনপিকে নিঃশেষ, রাজনীতিকে ধ্বংস এবং তাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য। কিন্তু এটি সম্ভব হবে না। কারণ, এই দল ও তার রাজনীতি এ দেশের মানুষের জন্য।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা হতাশ হবেন না। হতাশার কথা শুনতে চাই না। বিএনপি নিঃশেষ হয়ে যায়নি। যারা বলে নিঃশেষ হয়ে গেছে, তাদের সঙ্গে আমি একমত নয়।’

তিনি বলেন, ‘আজকে বিএনপি থেকে নির্বাচিতরা বলছেন, এলাকার মানুষের চাপ আছে শপথ নেওয়ার বিষয়ে। কিন্তু শুনতে চেয়েছিলাম, তারা বলবেন— খালেদা জিয়া আগে মুক্ত হবেন। এরপর দলীয় সিদ্ধান্ত হলে সংসদে যাওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করবো।’

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের নেত্রী যেখানেই থাকুন, জেলে বা বাইরে থাকুন তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা। তিনি আমাদের নেতৃত্ব দিয়ে গণতন্ত্রকে মুক্ত করবেন।’ খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘তিনি এত অসুস্থ যে, বলে বোঝানো যাবে না। নববর্ষের দিন আমরা তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। তিনি এখন হুইল চেয়ার ছাড়া হাটঁতেও পারেন না। বিছানা থেকে ওঠার জন্য তাকে সাহায্য নিতে হয়। তারপরও তিনি এতটুকুও মনোবল হারাননি। এই মনোবল আমাদের মধ্যে সঞ্চারিত করতে হবে। তরুণ ও যুবকদের মধ্যে সঞ্চারিত করতে হবে। সেই মনোবল নিয়ে গণতন্ত্র ও দেশ মাতাকে মুক্ত করতে হবে আমাদের। বাংলাদেশে গণতন্ত্র বলতে যা বোঝায়, তার পুরোটা হচ্ছে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অবদান। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় অবদান খালেদা জিয়ার।’

‘খালেদা জিয়া:তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ শীর্ষক বইটি সম্পাদনা করেছেন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ ও কবি আব্দুল হাই শিকদার। বইটির দুই সম্পাদকসহ আরও  ১২ জনের লেখা রয়েছে এতে। বইটি প্রকাশ করেছে ‘বুক এভিনিউ’, দাম রাখা হয়েছে দুই হাজার টাকা। ৮৬০ পৃষ্ঠার বইটিতে খালেদা জিয়ার ১০ বছরের শাসনামলে শিক্ষা-প্রসার, ভিশন-২০৩০, ১/১১ সরকারের সময়ে বিভিন্ন বক্তব্য, বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ছবি তুলে ধরা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আগমদ, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান,গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু প্রমুখ।

/এএইচআর/এপিএইচ/

লাইভ

টপ