ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণায় সময় লাগবে আরও তিন-চার দিন

Send
মাহবুব হাসান
প্রকাশিত : ২০:৫৩, এপ্রিল ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:২০, এপ্রিল ২৩, ২০১৯

বাংলাদেশ ছাত্রলীগপূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য ছাত্রলীগকে বেঁধে দেওয়া এক সপ্তাহ সময় শেষ হচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল)। সংগঠনটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের প্রতিশ্রুত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি দেওয়ার সময় পেরিয়েছে গত শনিবারেই (২০ এপ্রিল)। কমিটি গঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খসড়া কমিটি প্রস্তুত। কিন্তু চূড়ান্তভাবে কমিটি ঘোষণা করতে আরও কয়েকদিন (৩-৪) দিন সময় লাগবে।

গত বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী জানান, তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন। তখন আওয়ামী লীগ নেতারা তাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করার জন্য এক সপ্তাহ সময় বরাদ্দ করেন।

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমানের কাছে সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমিটি চূড়ান্ত হওয়ার পথে। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক একটি খসড়া কমিটি জমা দিয়েছেন। সেটা পূর্ণাঙ্গ করতে আলোচনা চলছে। কমিটি চূড়ান্ত হলে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদন সাপেক্ষে তা প্রকাশ করা হবে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও তিন থেকে চারদিন সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল সোমবার ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে দীর্ঘসূত্রতা ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ছাত্রলীগের অভিভাবক সংগঠন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে ব্যর্থ হলে প্রয়োজনে ছাত্রলীগের বর্তমান দুই সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে নতুন সম্মেলন করার হুমকি দেন তিনি। সেদিন তার বাসভবন গণভবনে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের চার নেতাকে ছাত্রলীগের বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বও দেন তিনি।

ছাত্রলীগের কমিটি দেখভালের দায়িত্ব পেয়ে পরদিনই সংগঠনটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম এবং বি এম মোজাম্মেল হক। ১৭ এপ্রিল তারা বৈঠক করেন আগের কমিটি সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের সঙ্গে। এর ধারাবাহিকতায় গত রবিবার (২১ এপ্রিল) আওয়ামী লীগের বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে টানা নয় ঘণ্টা বৈঠক করেন ওই চার নেতা। গতকাল সোমবার আবারও তাদের মধ্যে চার ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ কমিটি গঠন নিয়ে দেনদরবার শুরু করেছে। সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক তাদের অনুসারীদের কমিটিতে রাখার জন্য একটি তালিকা দিয়েছেন। বর্তমান সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নিজেদের অনুসারীদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জায়গা করে দিতে চাইছেন। আবার ছাত্রলীগের আলোচিত ‘সিন্ডিকেট’ সংগঠনটি নিজেদের ‘হাতে রাখতে’ তাদের লোক ঢুকাতে চাইছেন। তাদের হয়ে কথা বলছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। আবার বর্তমান সভাপতির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে চাইছেন সাবেক এক সভাপতি ও তার সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। তাদের পরামর্শ দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা। তাছাড়া ছাত্রলীগের সাবেক শীর্ষ নেতারাসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে যারা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তারাও পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্ব-স্ব অনুসারীদের চান। এসব বিষয় সমন্বয় করতে গিয়ে হিমশিম অবস্থা কমিটি গঠন সংশ্লিষ্টদের। তবে, খুব দ্রুতই কমিটি ঘোষণার আশা করছেন সংশ্লিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতারা।

কমিটি গঠনের অন্যতম দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রক্রিয়া চূড়ান্তের পথে। সুনির্দিষ্ট তারিখ না বলা গেলেও কয়েকদিনের মধ্যেই কমিটি প্রকাশ করা সম্ভব বলে বলে তিনি মনে করছেন।

তবে, পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা নিয়ে কোনও কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিজেরা কমিটি করতে ব্যর্থ হলে ৩১ জুলাই শেখ হাসিনা সাংগঠনিকভাবে অর্পিত ক্ষমতাবলে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি এবং গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিও গঠন করে দেন তিনি। কিন্তু আজ অবধি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেননি নতুন সভাপতি শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক রাব্বানী।

/টিএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ