বিভক্ত কামাল-মন্টু, বিপাকে ঐক্যফ্রন্টের শরিকরা

Send
আদিত্য রিমন
প্রকাশিত : ২১:৫১, মে ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:২৫, মে ২৪, ২০১৯

ড.-কামাল-হোসেন-ও-মোস্তফা-মোহসীন-মন্টু

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল গণফোরামে ভাঙনের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। দলটিতে এই বিভক্তির সুর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে। আগামী ২৬ মে একই দিন ইফতারের আয়োজন করেছেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও দলটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু। একই দিনে এই দুই নেতার ইফতার পার্টির আয়োজনে বিপাকে ঐক্যফ্রন্টের অন্য শরিকরা। তারা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে শরিক দলগুলো বিপাকে পড়েছে। একই দিনে গণফোরামের দুই নেতার আলাদা ইফতার পার্টি বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

ফ্রন্ট সূত্রের দাবি, গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খানের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণের পর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় দূরত্ব সৃষ্টি হয় ড. কামাল হোসেন ও মোস্তফা মোহসীন মন্টুর মধ্যে। এরই ধারাবাহিকতা গত ২৬ এপ্রিল গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিলে যাননি মোস্তফা মোহসীন মন্টু। এরপর গত ৫ মে দলের নতুন কমিটি ঘোষণার দিনও দেখা যায়নি তাকে। ফলে দলটির নতুন কমিটিতে মন্টুকে বাদ দিয়ে সাধারণ সম্পাদক করা হয় ড. রেজা কিবরিয়াকে। আর মন্টুকে করা হয় এক নম্বর সদস্য।

একই দিনে দলের দুই নেতার ইফতার পার্টি আয়োজনের বিষয়ে জানতে চাইলে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের ইফতারের তারিখ ছিল ২৫ মে। আবার সেই দিন ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাও ইফতারের আয়োজন করেছেন। ড. কামাল হোসেনকে মান্না জানান, ২৫ তারিখে তার ইফতার মাহফিল। এ উপলক্ষে তিনি হল বুকিংও করেছেন। তখন কামাল হোসেন আমাদের ২৫ তারিখ থেকে একদিন পিছিয়ে দিতে বলেছেন। আবার ২৭ তারিখ আমি সিলেটে চলে যাবো। এ কারণে ২৬ তারিখে আমরা ইফতারের আয়োজন করি। এটাই মূলত ঘটনা।’

গণফোরাম কি বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘আমার তা মনে হয় না।’ অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেহেতু একই দিনে দুটি ইফতার পার্টি, সেহেতু আমাদের কারো মন্টু ভাইয়ের ইফতারে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ, দুই ইফতারে যাওয়া কঠিন।’

এ প্রসঙ্গে মোস্তফা মোহসীন মন্টু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার ইফতারের তারিখ আগেই ঠিক করা ছিল। গণফোরাম তারিখ পরে নির্ধারণ করেছে। গণফোরাম থেকে ফোন করার পর বলেছি, আমার তারিখ তো আগেই ঠিক করা হয়েছে। এখন কীভাবে পরিবর্তন করবো?’

মোস্তফা মোহসীন মন্টু আরও বলেন, ‘আমার ইফতার পার্টি ব্যক্তিগত উদ্যোগে। কোনও রাজনৈতিক দলের ইফতার নয়। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে আমরা প্রতিবছর একটি সংগঠনের ব্যানারে ইফতারের আয়োজন করি। ইফতারে ঐক্যফ্রন্টের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ কয়েকজনকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।’

গণফোরামের রাজনীতিতে মোস্তফা মোহসীন মন্টুর সক্রিয় না থাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পারিবারিক কারণে গণফোরামের রাজনীতিতে আমি নিষ্ক্রিয় আছি।’ নতুন কোনও দল করছেন কিনা—জানতে চাইলে মন্টু বলেন, ‘আপাতত কোনও দল গঠনের চিন্তা নেই।’

উল্লেখ্য, ২৬ মে রাজধানীর একটি হোটেলে রাজনৈতিক নেতাদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের ঘোষণা দেয় গণফোরাম। একইদিন রাজধানীর আরেকটি হোটেলে ইফতারের আয়োজন করেছেন মোস্তফা মোহসিন মন্টু। দুটি ইফতারে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলের নেতাদের। কার ইফতারে অংশ নেবেন—এই নিয়ে বিপাকে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। তারা বলছেন, ২৫ মে নাগরিক ঐক্যের ইফতারে ঐক্যফ্রন্টের সবাই যাবেন। তখন সেখানে আলোচনা করে এ বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। হয়তো দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দুই ইফতারে অংশ নিতে পারেন তারা।

ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বলছেন, এমনিতে জোটের শরিকদের মধ্যে টানাপড়েন চলছে। এরমধ্যে জোটের শরিক দলের মধ্যে ভাঙান শুরু হওয়া যেমন ওই দলটির জন্য খারাপ, তেমনি জোটের জন্যও শুভকর নয়। আগামীতে জোটের বৈঠক হলে সেখানে বিষয়টি আলোচনায় আসবে নিশ্চয়।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দুটি জিনিস এক নয়। একটি হচ্ছে ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরামের ইফতার। অন্যটি হচ্ছে মোস্তফা মোহসীন মন্টুর ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিল।’

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ওই দিন আমার নিজেরও অন্য একটা দাওয়াত আছে। এরপরও সব জায়গায়ই একবার করে যাওয়ার চেষ্টা করবো। সময়ের কারণে পৌঁছাতে পারবো কিনা জানি না।’

ইফতারকেন্দ্রিক এই বিভক্তি প্রসঙ্গে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমরা একটা বিপদে পড়েছি। গণফোরাম থেকে আমাদের ৪ জনকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। আর মোস্তফা মোহসীন মন্টু আমাদের সবাইকে দাওয়াত দিয়েছেন। ফলে ভাগ করে যেতে হবে।’

একই দিনে দুই নেতার ইফতার প্রসঙ্গে মান্না বলেন, ‘এটা আসলে খুবই খারাপ সংকেত। যদিও তারা বলছেন, এটা কিছু না, তারপরও আমরা জানি, একটি বিশেষ কারণে এগুলো হচ্ছে। জানি না কীভাবে ড. কামাল হোসেন বিষয়টি সামাল দেবেন।’

জোটের আরেক শরিক দল জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন বলেন, ‘একদিনে গণফোরামের দুই নেতার আলাদা ইফতার পার্টি আমাদের জন্য বিব্রতকর। কাল মান্নার ইফতার পার্টি আছে। সেখানে জোটের সব নেতা যাবেন। তখন এই বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

ড. কামাল হোসেন ও মোস্তফা মোহসীন মন্টুর এই বিভক্তি জোটের মধ্যে কোনও প্রভাব ফেলবে কিনা, জানতে চাইলে মালেক রতন বলেন, ‘এটি নিয়ে জোটের মধ্যে আলোচনা করা ছাড়া মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’ তবে, আগামীতে জোটের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলেও তিনি জানান।

/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ