ঐক্যবদ্ধভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়: ড. কামাল

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:২৩, মে ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:২৫, মে ২৫, ২০১৯



জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘ঐক্যবদ্ধ থাকলে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। এটা আমরা বার বার প্রমাণ করেছি। আমরা যখনই একটা লক্ষ্য নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি, তখনই জয়ী হয়েছি। স্বাধীনতার সুফল সবার ঘরে পৌঁছাতে জনগণের ঐক্য অপরিহার্য।’


শনিবার (২৩ মে) রাজধানীতে সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের মিলনায়নে ‘মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নে, মুক্তির লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হোন, কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তুলুন’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে ড. কামাল এসব কথা বলেন।
এ আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে নাগরিক ঐক্য।
কামাল হোসেন বলেন, ‘দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে হবে, সংবিধান দেশের মৌলিক আইন, সংবিধানকে যদি আমরা সমর্থন করি তাহলে এটাকে সমুন্নত রাখতে আমরা বাধ্য। গণতন্ত্রের পক্ষেও আমরা একটা ঐক্য বজায় রাখবো। ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে নিয়েই দেশে আমরা প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারবো।’
তিনি বলেন, ‘ইতিহাস বলে বাংলাদেশের এমন কোনও সমস্যা নাই যে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে সমাধান করা যায় নাই। আমরা অনেক কঠিন সময় দেখেছি। স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে আমরা অসম্ভবকে সম্ভব করেছি। দেশ স্বাধীন করতে পেরেছি। অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়—এটা আমরা বার বার প্রমাণ করেছি।’
এই সংবিধানপ্রণেতা বলেন, ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র হতে পারে কিছু মৌলিক বিষয়ে ঐক্যমতের ভিত্তিতে। আমাদের ভিন্ন মত ও বিষয় থাকতে পারে, কিন্তু দেশের জনগণ সব ক্ষমতার মালিক, এটা নিয়ে দ্বিমতের কোনও অবকাশ নাই। নির্বাচনের অর্থ হবে তখনই, যখন অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। নির্বাচনের মধ্যে ত্রুটি থাকলে যারা নির্বাচিত হবেন তারা জনগণের প্রতিনিধি দাবি করতে পারবেন না। সেটা করতে পারলে আমি বলবো স্বাধীন দেশের যে বৈশিষ্ট্য, সেটাই হারিয়ে ফেলবো।’
উপস্থিত বিভিন্ন দলের নেতাদের উদ্দেশে ড. কামাল বলেন, ‘সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকেন, সংবিধানকে সমুন্নত রেখে। সংবিধানের প্রতিশ্রুতি, নির্ভেজাল গণতন্ত্র, মানুষের মৌলিক অধিকার আমরা নিশ্চিত করবো ঐক্যবদ্ধ হয়ে।’
পৃথিবীর রাজনীতিতে পরিবর্তন হচ্ছে: মির্জা ফখরুল
আজকে সমগ্র পৃথিবীর রাজনীতি পরিবর্তন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘সমগ্র পৃথিবীর আমাদের যে ধারণা ছিল গণতন্ত্র, রাষ্ট্র ও নির্বাচন সম্পর্কে, তার পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন আমাদের ঠিক একইভাবে সেই ধারণাগুলোকে জেনে-বুঝে কী করা উচিত তার করণীয় নির্ধারণ করতে হবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা অত্যন্ত আনন্দের কথা, যারা গণতন্ত্রকে ভালোবাসেন ও মানুষের অধিকারকে ফিরে পেতে চান, তারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের পরাজিত করতে হবে।’
যারা এখন ক্ষমতায় আছেন তারা কেউ বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন না বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘তারা গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল করে নিয়েছেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের সংবিধানকে কেটেছিঁড়ে তছনছ করে দিয়েছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সরকার খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করে রেখেছে একটি মাত্র কারণে। তারা জানে, তিনি (খালেদা জিয়া) বাইরে থাকলে সব ষড়যন্ত্র বানচাল হয়ে যাবে। তার নেতৃত্বে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হবে।’
ফের একমঞ্চে কামাল ও মন্টু
গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খানের শপথ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ দেখা দেয় দলটির শীর্ষ দুই নেতা ড. কামাল হোসেন ও মোস্তফা মহসীন মন্টুর মধ্যে। এ কারণে দলটির সর্বশেষ বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশনে যোগ দেননি মন্টু। এ জন্য দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে তাকে সরিয়ে বসানো হয় ড. রেজা কিবরিয়াকে। নাগরিক ঐক্য আয়োজিত এই ইফতার মাহফিলে ২ মাস পর আবারও একমঞ্চে বসলেন কামাল ও মন্টু।
এসময় মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, ‘মানুষের কাছে লজ্জা হয়, আমাদের কথা বলতে লজ্জা লাগে। আমরাও নির্বাচনের পরে বলেছিলাম, কেউ শপথ নেবে না। কিন্তু সেই কথা রাখতে পারি নাই। যারা কথা দিয়ে কথা রাখে না ভবিষ্যতে তাদের চিহ্নিত করতে হবে।’
মির্জা ফখরুলের সমালোচনায় আসিফ নজরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষক আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, “৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের কয়েক দিন আগে থেকে আমার জানি কী হতে যাচ্ছে এতে। ২৯ তারিখ রাতে নির্বাচনের ভোট হয়ে গেলো। আর মির্জা ফখরুল নির্বাচনের দিন সকাল ১১টায় তিনি বললেন, ‘ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে।’ তার লজ্জা থাকা উচিত।”
আসিফ নজরুলের এ মন্তব্যের সময় অবশ্য মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন না মির্জা ফখরুল। মঞ্চে উপস্থিত অন্য অতিথিদের উদ্দেশে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমি বলেছি তার লজ্জা করা উচিত।’ তার বক্তব্যের কয়েক মিনিট পরে ইফতার মাহফিলে যোগ দেন মির্জা ফখরুল।
হরতাল চান ঐক্যফ্রন্ট নেতারা
নির্বাচনের পরে প্রতিবাদ করতে না পারায় একে অপরের সমালোচনা করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। ইফতার মাহফিলে বক্তব্যের শুরুতে আসিফ নজরুল গত নির্বাচনকে ‘জঘণ্য’ অভিহিত করেন।
এরপর বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের আব্দুস সালাম তার বক্তব্যে বলেন, ‘নির্বাচনের পরে হরতাল দিতে পারি নাই, এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। কিন্তু তাই বলে এখন দিতে পারবো না, এমন তো নয়।’
সালামের কথার সঙ্গে সুর মিলিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘নির্বাচনের পরে আমি এই প্রস্তাব এনেছিলাম। কিন্তু হয়নি। তারপরও আমি বলেতে চাই, এখন যে আর হরতাল দেওয়া যাবে না তা কিন্তু নয়। এখন হরতাল দেওয়া যাবে।’
ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার পার্টির সভাপতি সাইফুল হক, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী প্রমুখ।

/এএইচআর/এইচআই/

লাইভ

টপ