জোট ছাড়তে আরও অপেক্ষা করবেন কাদের সিদ্দিকী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:৩৪, জুন ১০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৩৯, জুন ১০, ২০১৯

কাদের সিদ্দিকী

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পরিচালনায় অনেক অসঙ্গতি রয়েছে অভিযোগ করে এর ব্যাখা চেয়ে ড. কামাল হোসেনকে চিঠি দিয়েছিলেন জোটের শরিক দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী। গত ৫ মে দেওয়া চিঠিতে তিনি বলেছেন, ৮ জুনের মধ্যে এর উত্তর না দিলে তিনি জোট থেকে নিজের দলকে প্রত্যাহার করে নেবেন। কিন্তু ১০ জুন পর্যন্ত এই বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনও জবাব পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন অসুস্থ থাকায় আজকের বৈঠকে এই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এ জন্য আমি আমার দলের সভায় আলোচনা করে আরও অপেক্ষা করবো।’ সোমবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় উত্তরায় আ স ম রবের বাসায় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা আট তারিখ পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনও উত্তর পাইনি। আজ সে বিষয় নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, আমাদের নেতা ড. কামাল হোসেন অসুস্থ। এ কারণে সভা মুলতবি রাখা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এজন্য আমি আমার দলের সভায় আলোচনা করে আরও অপেক্ষা করবো। যদি সুরাহা হয়, তাহলে জান-প্রাণ দিয়ে লড়াই করবো। আমরাও চাই জাতীয় ঐক্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যের ভীত শক্তিশালী হয়নি।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জাতীয় প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে বলে দাবি করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘সেই আশাতেই আমরা ঐক্যফ্রন্টে অংশ নিয়েছি। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা ঐক্যফ্রন্টের যুক্তিযুক্ত হয়েছে। যদি তা না করা হতো, তাহলে নির্বাচনে এমন প্রহসন হতে পারে, তা সারা বিশ্ব দেখতো না, জানতেও পারতো না। এদিক থেকে ঐক্যফ্রন্ট সফল হয়েছে।’

নির্বাচন প্রত্যাখ্যান ও পুনঃনির্বাচন জাতীয় আকাঙ্ক্ষা বলে মন্তব্য করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘এটা পুরো জাতির কথা। তবে ঐক্যফ্রন্টের সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ায় জাতি মর্মাহত হয়েছে। সে প্রশ্নগুলোই আমরা ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামালের কাছে করেছি।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আরও শক্তিশালী ঐক্য দরকার মনে করেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘আমরা সেটা করতে চাই। কিন্তু এখন পর্যন্ত জাতির প্রত্যাশা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পূরণ করতে পারেনি।’

জোট ছাড়ার আল্টিমেটামের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলেছি, এ ব্যাপারটা সমাধান করার জন্যই এই আলোচনা। ৪ জুন আমি কামাল হোসেনের সঙ্গে আলোচনা করেছি। কিন্তু তিনি অসুস্থ থাকায় এই বিষয়টা সম্পন্ন হয়নি। সেজন্য কিছু সময় আমাদের ধৈর্য ধরতেই হবে। অনেক বিষয়ে আলোচনা করেছি, অনেক জবাব এসেছে কিন্তু বলার মতো অবস্থায় আসেনি।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডি সভাপতি আ স ম রব, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি আবু সাঈদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।

/এএইচআর/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ