ড. কামালের অভাবে ঝুলে গেলো ঐক্যফ্রন্টের ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’

Send
আদিত্য রিমন
প্রকাশিত : ২২:২৮, জুন ১০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০০, জুন ১০, ২০১৯




প্রেস-ব্রিফিং-করছেন-আ-স-ম-আবদুর-রব

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন উপস্থিত না হওয়ায় কোনও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক। প্রাথমিকভাবে জোটের পরিধি বাড়ানোসহ আগামী দিনের কর্মসূচি দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে ড. কামাল হোসেনের উপস্থিতিতে। পাশাপাশি জোট ছাড়ার আল্টিমেটাম দিয়ে লেখা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের চিঠির জবাবও দেওয়া হবে ওই বৈঠকে। সোমবার (১০ জুন) বিকাল সাড়ে ৪ থেকে ৬টা পর্যন্ত উত্তরায় জেএসডি সভাপতি আ স ম রবের বাসায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, এমন একাধিক নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগামী সপ্তাহের যেকোনও দিন ড. কামাল হোসেনের উপস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা আবারও বৈঠকে বসবেন।’
ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির একজন সদস্য জানান, বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার নিয়ে কাদের সিদ্দিকীর আল্টিমেটামের চিঠি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে এরমধ্যে কাদের সিদ্দিকী নিজেই তার জোট ছাড়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে জোটের ঐক্য অটুট রাখার বিষয়ে বক্তব্য দেন। তখন আ স ম আবদুর রবসহ অন্য নেতারা কাদের সিদ্দিকীকে লক্ষ করে বলেন, কীভাবে একাদশ সংসদ নির্বাচন হয়েছে, তা সবাই জানেন। এই পরিস্থিতিতে এভাবে হঠাৎ করে সংবাদ সম্মেলন করে আল্টিমেটাম দিয়ে জোট ছাড়ার ঘোষণা মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের মধ্যে মান-অভিমান থাকবে, তবে এ রকম ঘোষণা দেওয়া ঠিক নয়। আগামীতে ড. কামাল হোসেনের উপস্থিতিতে চিঠির জবাব দেওয়া হবে। তখন কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমরা জোটের পক্ষে। সবাইকে জোটের ঐক্য অটুট রাখতে হবে।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অনেক দিন জোটের বৈঠক হয় না। ফলে আজকের বৈঠকে সবাই নিজেদের মধ্যে কথা বলে জোটের ঐক্য অটুট রাখার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। এছাড়া আরও কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সেগুলো কামাল হোসেনকে নিয়ে বৈঠক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দিনে কী ধরনের কর্মসূচি দেওয়া যায়, তার ধরন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।’
সূত্র জানায়, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার বক্তব্যে বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে বিএনপিতে কোনও সংশয় নেই। বরং ঐক্যের ব্যাপ্তি আরও বাড়ানো হবে। খালেদা জিয়াও সবাইকে ঐক্য ধরে রাখতে বলেছেন। তবে, তিনি তার বক্তব্যে বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিষয়ে কিছু বলেননি। তিনি বলেছেন, আজকের বৈঠকে ড. কামাল হোসেন নেই। মাহমুদুর রহমান মান্নাও নেই। সুতরাং এসব বিষয়ে আজ আলোচনা করে কোনও লাভ নেই। কারণ, এই দুই নেতার অনুপস্থিতিতে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। ফলে আগামী বৈঠকে সব বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

ঐক্যফ্রন্টের আরেক নেতা জানান, মির্জা ফখরুলের পরে বক্তব্য রাখেন আ স ম আব্দুর রব। তিনি বলেন, আজকের বৈঠকে আমাদের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেন আসেননি। তাকে ছাড়া কোনও পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। ফলে আগামীতে তাকে নিয়ে বৈঠক করে জোটের পরিধি কীভাবে বাড়ানো যায়, আগামী দিনে কী ধরনের কর্মসূচি দেওয়া যায়, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘কীভাবে আগামীতে জোটকে আরও কার্যকর করা যায়, কী ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হবে, এসব নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সবাই জোটকে ধরে রাখার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। আসলে কামাল হোসেন না থাকায় কোনও বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি।’

বৈঠক শেষে জেএসডি সভাপতি আসম আবদুর রব সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে প্রবল আন্দোলন গড়ে তুলতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্ব আগামী সভা করবো। এই আন্দোলনের রূপ হবে বৃহত্তর ঐক্য। ঐক্যফ্রন্টকে আরও বিস্তৃত ও ব্যাপক করতে হবে।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. মঈন খান, আ স ম আবদুর রব, আবদুল মালেক রতন, কাদের সিদ্দিকী, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, হাবিবুর রহমান তালুকদার, ইকবাল সিদ্দিকী, অধ্যাপক আবু সাঈদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, ড. রেজা কিবরিয়া, ডা. জাহিদুর রহমান, মমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ