তৃতীয় দিনের মতো ছাত্রদলের বিক্ষোভ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৪:২৬, জুন ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৪৭, জুন ১৭, ২০১৯

বিএনপির কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত ছাত্রদল নেতাকর্মীরাবয়সসীমা না করে ধারাবাহিক কমিটি গঠনের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির নেতারা। সোমবার (১৭ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন। দাবি আদায় না হওয়ায় পর্যন্ত কর্মসূচি চলমান থাকবে বলেও জানান সংগঠনটির নেতারা।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে ছাত্রদল। এ সময় খালেদা জিয়া মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা গেছে তাদের।

এর আগে গত ১১ জুন একই দাবিতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা দিয়ে ভবনের গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন আন্দোলনরত ছাত্রদল নেতারা। পরে বিএনপি নেতাদের আশ্বাসে কার্যালয় ছেড়ে চলে যান তারা। কিন্তু তাদের দাবির বিষয়ে কোনও সুরাহা না হওয়ায় ১৬ জুন আবারও সকাল ১১টা থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। তবে এই দুই দিনে কর্মসূচি চলাকালে বিএনপির কোনও নেতাকে তাদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়নি।

এ প্রসঙ্গে সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘আমরা দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।’

বিএনপির কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত ছাত্রদল নেতাকর্মীরা

ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের দাবি হচ্ছে বয়সের সুনির্দিষ্ট সীমারেখা না রেখে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত একটি ধারাবাহিক কমিটি গঠন করতে হবে। পরবর্তীতে স্বল্পমেয়াদি একটি ধারাবাহিক কমিটি গঠন। এরপর নিয়মিত ছাত্রদের দিয়ে কমিটি হলে সম্মানজনকভাবে বিদায় নিতে পারবেন সিনিয়র নেতারা।

বিলুপ্ত ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট বলেন, ‘আমরা চাই নিয়মিত ছাত্রদের দিয়ে ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হোক। কিন্তু সদ্য বিলুপ্ত কমিটি দুই বছরের জায়গায় পাঁচ বছর ছিল। এখানে তো আমাদের তিন বছর নষ্ট হয়েছে। এখন কমিটির যারা সিনিয়র রয়েছেন তারা কোথায় যাবেন। যাতে সিনিয়ররা সম্মানজনকভাবে বিদায় নিতে পারেন এই জন্য ২০০০ সালের যে বয়সসীমা করা হয়েছে তা বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্দোলনকারী এক ছাত্রনেতা বলেন, ‘ছাত্রদলের কাউন্সিলে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। তারা ষড়যন্ত্র করে তারেক রহমানকে ভুল বুঝিয়ে ছাত্রদলের কমিটির ক্ষেত্রে বয়সসীমার বিষয়টি সামনে এনেছেন। ২০০০ সালের কেউ যদি কমিটির প্রার্থী হতে পারে, তার বয়স হবে ৩৫ বছর। তারা কীভাবে নিয়মিত ছাত্র হয়। তাই বয়সসীমা তুলে দিতে হবে।’

এর আগে গত ৩ জুন এক বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন কেন্দ্রীয় সংসদ গঠন করা হবে। কাউন্সিলে প্রার্থী হতে হলে তাকে কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র হতে হবে। কেবল ২০০০ সাল থেকে পরবর্তীতে যেকোনও বছরে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।’

আরও পড়ুন- 

বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ফের বিক্ষোভ ছাত্রদলের

সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির ‘বয়স্ক’ নেতারা 

 

/এএইচআর/এফএস/এমওএফ/

লাইভ

টপ