বিএনপির স্থায়ী কমিটির শূন্য তিন পদে আলোচনায় যারা

Send
আদিত্য রিমন
প্রকাশিত : ২৩:৫১, জুন ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪৭, জুন ২০, ২০১৯

বিএনপির স্থায়ী কমিটির পদপূরণে আলোচনায় দলের সাত ভাইস চেয়ারম্যান যথাক্রমে আবদুল্লাহ আল নোমান, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির ৫টি শূন্য পদের মধ্যে দুটি পূরণ করা হয়েছে। দলের ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে পদোন্নতি দিয়ে ২ জনকে স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। বাকি তিনটিও পদেও ভাইস চেয়ারম্যান থেকে পদোন্নতি দেওয়া হবে। ফলে এসব পদে কারা আসছেন সে আলোচনা আছে দলটির নেতা-কর্মীদের মুখে মুখে। বিএনপির একাধিক সূত্র   জানিয়েছে,পদগুলো পূরণের জন্য দলটির ৭ জন ভাইস চেয়ারম্যানের নাম রয়েছে আলোচনায়। তবে এসব পদ তিনটি ধরন (ক্যাটেগরি)নির্ধারণ করে পূরণ করার সম্ভাবনা রয়েছে।  

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপি ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কমিটি ঘোষণার সময়ই ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির দুটি পদ ফাঁকা ছিল। বাকি ১৭ সদস্যের মধ্যে তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ ও এম কে আনোয়ার মারা যাওয়ায় ফাঁকা হয়ে যায় ৫টি পদ। দীর্ঘ ৩ বছর পর বুধবার (১৯ জুন) স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তারা দুজনই বর্তমান কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। 

বাকি তিনটি পদের জন্য আলোচনায় আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

বিএনপির সূত্রে জানা গেছে,স্থায়ী কমিটির শূন্য তিনটি পদ তিনটি ক্যাটেগরির মাধ্যমে পূরণ করার কথা ভাবছেন নীতি নির্ধারকরা। এই তিন ক্যাটেগরি হচ্ছে সাবেক সেনা কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও আইনজীবী।

দলটির একটি সূত্র জানায়,সাবেক সেনা কর্মকর্তা ক্যাটেগরিতে বিবেচনায় আছেন ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ব্যবসায়ী ক্যাটেগরিতে বিবেচিত হচ্ছেন আবদুল্লাহ আল নোমান ও আব্দুল আউয়াল মিন্টু। অপরজন নেওয়া হবে আইনজীবী থেকে। এই তালিকায় অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নাম রয়েছে। সূত্রটি জানায়, ব্যবসায়ী ক্যাটেগরিতে আব্দুল আউয়াল মিন্টুর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর আইনজীবী ক্যাটেগরিতে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন এগিয়ে আছেন। সাবেক সেনা কর্মকর্তা ক্যাটেগরির বিষয়ে কোনও কিছু জানাতে পারেনি সূত্রটি।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘ আমি যেখানে আছি ভালো আছি। তবে দল যদি যোগ্য মনে করে স্থায়ী কমিটির সদস্য করে, দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত আছি।’ 

অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘দল যা ভালো মনে করছে, সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ফলে আমি চুপ থাকতে চাইছি। পদ নিতে আমরা হ্যাঁ বা না কোনোটাই বলতে চাই না।’

ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বলেন, ‘এসব বিষয়ে কথা বলা আমরা জন্য বিব্রতকর। আমি কিছু বলতে চাই না। আরও আগেই আমার স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়ার কথা।’

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক নেতা বলেন, ‘শাহজাহান ওমরকে এবার স্থায়ী কমিটির সদস্য না করা হলে তিনি দল থেকে পদত্যাগও করতে পারেন। তার কাছের লোকজনকে এমন কথাও তিনি বলে রেখেছেন।’  

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতা জানান, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেড় বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে স্থায়ী কমিটির কয়েকজন নেতা রাজনীতিতে সক্রিয় নন। এমনকি তারা স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থেকে দলের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনও কার্যকর ও সুচিন্তিত মতামত রাখতে পারছেন না। এরমধ্যে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার জন্য এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান ব্যক্তিগত কারণে দীর্ঘদিন স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন না। আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন চৌধুরী মামলা জটিলতায় রয়েছেন ভারতে। এমন পরিস্থিতিতে স্থায়ী কমিটি শূন্যপদগুলো সমন্বয়ে পুনর্গঠন জরুরি ছিল।

এদিকে, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে স্থায়ী কমিটির সদস্য করায় বিএনপির একটি অংশ ক্ষুব্ধ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব নেতারা বলছেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এমপিদের আত্মীয়-স্বজনদের স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। তাদেরকে নিয়ে বিএনপি সরকার বিরোধী আন্দোলনে যাবে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে? এগুলো পাগলের প্রলাপের মতো।’

প্রসঙ্গত সেলিমা রহমান আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বোন। আর ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ সেলিমের বেয়াই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের কারণে খালেদা জিয়ার জামিন হচ্ছে না। আর এখন বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পায় আওয়ামী লীগের এমপিদের আত্মীয়স্বজন। আমাদের স্থায়ী কমিটি যে কোন সিদ্ধান্ত এখন সহজে আওয়ামী লীগের কাছে পৌঁছে যাবে। এর চাইতে কষ্টের বিষয় আর কী হতে পারে! তাদেরকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি আমরা কেউ জানতাম না।’ 

 

 

/এএইচআর /টিএন/

লাইভ

টপ