অধিকাংশ সময় কাটে আদালতের বারান্দায়: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০০:০০, জুন ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:০৪, জুন ২৪, ২০১৯

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (ফাইল ছবি)

আদালতের বারান্দায় দিনের অধিকাংশ সময় কাটাতে হয়, এজন্য অনুষ্ঠানে আসতেও দেরি হয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, এ কারণেই দিনের অধিকাংশ অনুষ্ঠানে পৌঁছাতে তার দেরি হয়, ততক্ষণে অনুষ্ঠানস্থল থেকে সরকারের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দিয়ে চলে যান। কারও অনুপস্থিতিতে সমালোচনা করতে ভালো লাগে না, তার পরেও নিজেদের অভিমত তো তুলে ধরতেই হয়। সেই জন্যই সরকারি প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে না থাকলেও তিনি তার ও দলের অবস্থান তুলে ধরেন।

রবিবার (২৩ জুন) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে সিপিডি আয়োজিত বাজেট বিশ্লেষণ অনুষ্ঠানে পৌঁছাতে দেরি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে বলে গেলেন, যে দেশের মানুষ তাদের সঙ্গে আছেন তাদের তারা  সম্মান করেন। যদি তাই হয়, তবে জনগণের রায়কে এতো ভয় পায় কেন সরকার? তাহলে তো জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। এই সরকার তো ৩০ ডিসেম্বরে তিন দফা ভোট চুরি করেছে। জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে জনগণের ভোট জনগণকে ফিরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন বিএনপির এই নেতা।

তিনি আরও বলেন, সরকারের দেখানো প্রবৃদ্ধির সঙ্গে অর্থনীতির অন্যান্য সূচকগুলো জাস্টিফাই করছে না। দেশের জিডিপিকেও পলিটিসাইজড করা হয়েছে। দেশে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ নাই। ব্যাক্তি খাতের বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে। এফডিএ নাই। অথচ আমাদের বিএনপি সরকারের মূল টার্গেটই ছিল ব্যাক্তি খাতের বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা এবং এর মাধ্যমে অর্থনীতির সূচকগুলোকে সম্মানের জায়গায় নিয়ে যাওয়া।

তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন নাই। দেশে গণতন্ত্র নাই। বিএনপির সময়কালের পুঁজিবাজারের দুই হাজার কোটি টাকার লেনদেন ৩শ’ কোটি টাকায় নেমেছে। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে নিয়ে গেছে লুটেরারা। টাকার অভাবে ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে লেনদেন করতে পারছে না, অথচ সরকার বলছে ব্যাংকে কোনও সমস্যা নাই।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংরক্ষিত মহিলা আসনের বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, সরকারের দেওয়া বাজেটে সরকারের চরিত্র প্রকাশ করে দেয়। দেশে ধনী ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে বৈষম্য বেড়েছে। এ সম্পর্কে বাজেটে কিছুই বলা হয় নাই।

তিনি জানান, দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৪ কোটি, আর হতদরিদ্র মানুষের সংখ্যা ২ কোটি। দেশে বেকারের সংখ্যা ৪ কোটি। অথচ বাজেটে বলা হয়েছে ২০৩০ সালে নাকি ৩ কোটি বেকারের কর্মসংস্থান হবে। কিভাবে হবে তা সম্পর্কে বাজেটে কোনও দিক নির্দেশনা নাই। বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থান হবে কিভাবে- এমন প্রশ্ন করে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, এখনও বিনিয়োগ হার ১৮ থেকে ২০ শতাংশে। এ হার বাড়েনি। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট বাজেটের ৬ শতাংশ বরাদ্দের কথা বলা হলেও এখাতে সরকারের বরাদ্দের পরিমাণ সে হারে দেওয়া হয়নি।

তিনি আরও জানান, নানা ফন্দি ফিকির একত্রিত করলে ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণের পরিমাণ তিন লাখ কোটি টাকা। দেশের জিডিপি বর্তমানে কী অবস্থায় রয়েছে তা খুঁজে দেওয়ার জন্যও সিপিডিকে পরামর্শ দিয়েছেন।

গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান বলেছেন, বিদ্যুৎখাতে কোনও জবাবদিহিতা নাই। এ নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা রয়েছে। আমরা চাই সাধারণ মানুষের এই উদ্যোগ উৎকণ্ঠা নিরসন হোক। মোকাব্বির খান জানান, হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। ব্যাংকগুলো থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা নিয়ে গেছে। এসব বন্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পরামর্শ দিয়ে মোকাব্বির খান বলেছেন, এ ধরনের অন্তত এক ডজন দুর্নীতিবাজকে ধরে এনে বিচারের মখোমুখি করতে পারলে দেশ থেকে অন্তত ৫০ শতাংশ দুর্নীতি কমে যাবে।

অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে বাজেট বিশ্লেষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এ ছাড়াও সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান, সরকার দলীয় সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান, বিএনপি নেতা তাবিদ আউয়াল, মেঘনা ব্যাংকের সাবেক এমডি নুরুল আমিন, অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক বজলুল হক খন্দকার, ব্যবসায়ী নেতা এস এম আকরাম, মনজুর আহমেদ, হেলাল উদ্দিন প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

 

 

 

/এসআই/টিএন/

লাইভ

টপ