রিজভীকে নাজেহালের কারণে ছাত্রদলের ১২ নেতা বহিষ্কার, প্রতিবাদে আজও বিক্ষোভ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১০:৩১, জুন ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:১১, জুন ২৪, ২০১৯

দলীয় কার্যালয় ঘেরাও করে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ (ফাইল ফটো)

ছাত্রদলের আন্দোলনকারী ১২ নেতাকে বহিষ্কারের নেপথ্যে রয়েছে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে নাজেহালের ঘটনা। ২২ জুন রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রিজভীকে নাজেহালের বিষয়টি আলোচনায় ওঠে। তখন লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ওই ছাত্রনেতাদের সংগঠন থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন। এরপর রাতেই প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১২ ছাত্রনেতাকে বহিষ্কার করা হয়।

তবে বহিষ্কারের পরও থেমে নেই বিলুপ্ত কমিটির এই ১২ নেতা এবং তাদের অনুসারীরা। তারা বহিষ্কারের প্রতিবাদে ও নেতৃত্ব নির্বাচনে বয়সসীমা বেঁধে না দিয়ে ধারাবাহিক কমিটি গঠনের দাবিতে আজ সোমবার (২৪ জুন) আবারও নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভসহ অবস্থান করার ঘোষণা দেন।

প্রসঙ্গত, গত ৩ জুন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের একাংশ আন্দোলন করে আসছেন।

ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত রবিবার (২৩ জুন) রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের দাবি আদায়ে সোমবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাবো। আগের মতোই শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে জেল খেটেছি। পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তার পুরস্কার হিসেবে সংগঠন থেকে আমাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন আমরা কোথায় যাবো, যাওয়ার কোনও জায়গা নেই। ফলে আমাদের দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চলমান থাকবে।’  

প্রসঙ্গত, ২২ জুন রাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘দলীয় শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ১২ নেতাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।’ 

বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২২ জুন বেলা ১২টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে ছাত্রদলের আন্দোলনকারী নেতাদের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় ওই নেতারা রিজভীকে নাজেহাল করেন এবং তাকে দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেন। পরে ওইদিন রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় লন্ডন থেকে তারেক রহমান ওই ছাত্রনেতাদের সংগঠন থেকে বহিষ্কারের জন্য ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নির্দেশ দেন।  

ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব বাছাই কমিটির সদস্য বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু এ বিষয়ে বলেন, ‘রুহুল কবির রিজভী পার্টির একজন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। তিনি আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে সরাসরি পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছিলেন। তিনি এখানে পার্টির নির্দেশে ভূমিকা পালন করছেন। পার্টি তাকে যা বলতে বলেন, তিনি তা করেন। সেই কারণে তাকে টার্গেট করাটা কখনও সমুচিত নয়, বরং এটা বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে। স্বাভাবিকভাবে এটা অনৈতিক ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এটা ছাত্রদলের সঙ্গে যায় না। সুতরাং এই বিষয়ে পার্টি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা যথাযোগ্য হয়েছে।’

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শুরু থেকেই আমাদের কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ। আমাদের আদর্শ হচ্ছে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে আমাদের রাজনীতি। সুতরাং কাউকে আমরা নাজেহাল করতে যাবো কেন।’

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৩ জুন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেছিলেন, ‘ছাত্রদলের আগামী কাউন্সিলে কেবল ২০০০ সাল থেকে পরবর্তী যেকোনও বছরে যারা এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, কেবল তারাই প্রার্থী হতে পারবে।’ তার এই ঘোষণার পর ১১ জুন থেকে বয়সসীমা না করে ধারাবাহিক কমিটি গঠনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির সিনিয়র নেতারা।  

উল্লেখ্য, ২২ জুন রাতে ছাত্রদল থেকে যে ১২ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়, তারা হলেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, ছাত্রদলের সদ্য বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, ইকতিয়ার কবির, জয়দেব জয়, মামুন বিল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, বায়েজিদ আরেফিন, দবির উদ্দিন তুষার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত, আব্দুল মালেক, সদস্য আজীম পাটোয়ারী।

/এপিএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ