নেতা নির্বাচন ও কর্মসূচিতে তৃণমূলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে: জিএম কাদের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:৩১, জুন ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৫৫, জুন ২৪, ২০১৯

জাতীয় পার্টির মত বিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি।

এখন থেকে দলে নেতৃত্ব নির্বাচন ও কর্মসূচি প্রণয়নে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের। সোমবার (২৪ জুন) রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের একটি মিলনায়তনে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। 

জিএম কাদের এমপি বলেন, জাতীয় পার্টি ২৯টি বছর ক্ষমতার বাইরে। অনেক ষড়যন্ত্র ও অনেক প্রতিকূল অবস্থা মোকাবিলা করে জাতীয় পার্টি একটি শক্তিশালী অবস্থান সৃষ্টি করতে পেরেছে। জাতীয় পার্টি এখন একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। সম্ভাবনাময় একটি রাজনৈতিক দলে হিসেবে জাতীয় পার্টিকে প্রতিষ্ঠিত করতেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। 

তিনি বলেন, নেতা-কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে আগামী দিনে জাতীয় পার্টি চলবে। আর এ জন্যই জাতীয় পার্টি আটটি বিভাগের নেতা-কর্মীদের মতামত ও পরামর্শ শুনতে বিভাগীয় সাংগঠনিক সভার আয়োজন করা হয়েছে। নেতা-কর্মীরা যেন মনে করে জাতীয় পার্টিতে তাদের মালিকানা আছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু কর্মসূচি বাস্তবায়ন করলেই হবে না। নেতৃত্ব নির্বাচন ও কর্মসূচি প্রণয়নে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। একটি সফল রাজনৈতিক দলের দৃষ্টান্ত হিসেবে জাতীয় পার্টিকে তৈরি করা হবে। 

জিএম কাদের তার বড় ভাই জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রোগমুক্তি এবং দীর্ঘায়ু কামনা করে সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। 

সভায় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি বলেছেন, আমরা জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করেছি। নির্বাচন শেষ, নির্বাচনি জোটও শেষ। তিনি বলেন, আজ বগুড়ায় নির্বাচন হচ্ছে, জাতীয় পার্টি লাঙল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এখন আর কোনও জোট নেই। আগামীতে আমরা এককভাবে নির্বাচন করবো। আর সেজন্যই দলকে আরও শক্তিশালী করতে আট বিভাগের নেতৃবৃন্দের মতামত গ্রহণ করতেই এই আয়োজন। 

তিনি বলেন, এখনই মূল্যায়ন করতে হবে কেন আমরা একাদশ জাতীয় নির্বাচনে মাত্র ২২টি আসনে জয়ী হলাম। কোথায় আমাদের ভুল ও ব্যর্থতা তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

মসিউর রহমান বলেন, ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির সহায়তায় আওয়ামী লীগ ২১ বছর পর ক্ষমতার স্বাদ পেয়েছে। আগামীতে জাতীয় পার্টি যাতে একক ভাবে সরকার গঠন করতে পারে সেজন্য জাতীয় পার্টিকে আরও  শক্তিশালী করতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া যারা পার্টির রাজনৈতিক চর্চায় নিষ্ক্রিয় আছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা দলকে সংগঠিত করতে ব্যর্থ তাদের বাদ দিয়ে নতুন করে জাতীয় পার্টিকে ঢেলে সাজানো হবে। 

অনুষ্ঠানে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের জেলা, মহানগর, উপজেলা ও পৌর কমিটির নেতারা বক্তৃতা করেন। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল কাশেম, সৈয়দ আবু হোসন বাবলা, অ্যাডভোকেট শেখ সিরাজুল ইসলাম,মুজিবুল হক চুন্নু,সৈয়দ আবদুল মান্নান,মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা, মো.আজম খান, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, ব্যরিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, পীরজাদা শফিউল্লা আল  মুনির, রেজাউল ইসলাম ভূইয়া, মো. আবদুস সাত্তার মিয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, ইমরান হোসেন মিয়া। চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ক্বারী হাবিবুল্লাহ বেলালী, ড. নুরুল আজহার শামীম। ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, জহিরুল ইসলাম জহির, দেওয়ান আলীম, নুরুল ইসলাম নুরু, সরদার শাহজাহান, আমানত হোসেন আমানত, মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক, জহিরুল আলম রুবেল, নিগার সুলতানা রানী প্রমুখ। 


/এসটিএস/টিএন/

লাইভ

টপ