হজ তত্ত্বাবধান কমিটিতে সিইসিকে অন্তর্ভুক্তির ব্যাখ্যা চাইলেন মির্জা ফখরুল

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:১৪, জুলাই ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪০, জুলাই ১৯, ২০১৯

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসরকারের হজ তত্ত্বাবধান কমিটিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। অবিলম্বে এই বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে ব্যাখ্যা দাবি করছি।’ শুক্রবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ব্যাখ্যা দাবি করেন।

এরআগে, বেলা ৪টা থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শুরু হয়ে ৬টায় শেষ হয়। বৈঠকে লন্ডন থেকে স্কাইপে যুক্ত ছিলেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, সিইসি কীভাবে সরকারের হজ তত্ত্বাবধান কমিটির সদস্য হন। এটা হাস্যকর, এটা প্রমাণ করে সরকার ও নির্বাচন কমিশন সংবিধানের তোয়াক্কা করে না। একইসঙ্গে তারা রাষ্ট্রকে তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করে। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা কারও নেই। সেখানে কোনও আইন ও ক্ষমতাবলে সিইসি হজ তত্ত্বাবধান কমিটির সদস্য হয়ে হজে যাচ্ছেন?’

সিইসি হজ করতে চাইলে সৌদি বাদশার বিশেষ মেহমান হয়ে যেতে পারতেন উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আত্মসম্মান বিবর্জিত ব্যক্তিদের নির্বাচন কমিশনের প্রধান করা হয়, যারা দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে কোথায় নিয়ে গেছে?’ তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিকভাবে ১১৯ ধারা অনুযায়ী সিইসির দায়িত্ব রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করা, সংসদ সদস্যের নির্বাচন অনুষ্ঠান করা, সংসদ নির্বাচনের জন্য সীমানা নির্ধারণ করা, সংসদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করেছি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমেই ভেঙে পড়ছে। আদালতের ভেতরে হত্যা করা হচ্ছে, প্রকাশ্যে হত্যা করা হচ্ছে। এরপর প্রধান আসামিকে হত্যা করা হচ্ছে, আবার প্রধান সাক্ষীকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। পুরো দেশে আইনশৃঙ্খলা ও বিচার বিভাগে একটা নৈরাজ্য চলছে।’

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদকে গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একজন র‌্যাব সদস্য তার এক আত্মীয়কে জমি নিয়ে বিরোধের কারণে হত্যা করেছেন। আসলে দেশে যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে রয়েছে, তারাই বেশি তা ভঙ্গ করছেন। দেশে কোনও সরকার আছে কিনা, এটাই জনগণের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।’

বন্যা মোকাবিলায় সরকার চরম উদাসীন অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তারা বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে পারছে না। বন্যা মোকাবিলা করার জন্য যে ধরনের উদ্যোগ সাধারণত দেখা যায়, সরকারের সেই ধরনের কোনও উদ্যোগ আমরা দেখছি না। এখন পর্যন্ত ত্রাণমন্ত্রীও কোনও এলাকা থেকে ঘুরে আসেননি। জনগণের প্রতি সরকারের কোনও দায়বদ্ধতা নেই, তা এটা থেকে প্রমাণিত। বন্যা মোকাবিলা সরকারের কাজ, এখানে বিরোধী দলের তো কিছু করার নেই। বিরোধী দল একটা টিম গঠন করে কিছু কিছু সাহায্য পাঠাতে পারে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন দেশের বাইরে যাচ্ছেন, সেটা জানা যায়নি। তিনি কি কোনও অফিসিয়াল সফরে যাচ্ছেন, নাকি ব্যক্তিগত সফরে, না চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন, তাও আমরা জানি না। অর্থাৎ সরকার এই বিষয়ে কিছু বলেনি এখনও। এই রহস্যময়তার প্রয়োজনীয়তা কী, জানি না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বন্যার্তদের সাহায্যের জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে আহ্বায়ক ও ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুর রশীদ ইয়াসিনকে সদস্য সচিব করে ত্রাণ কমিটির গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব ও উপদেষ্টারা থাকবেন।’

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র, ড. মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সেলিনা রহমান।

/এএইচআর/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ