নতুন সংগঠনের রূপরেখা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে জামায়াত

Send
সালমান তারেক শাকিল
প্রকাশিত : ১৩:১৮, জুলাই ২৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪০, জুলাই ২৬, ২০১৯

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

রাজনৈতিকভাবে নতুন সংগঠন গড়ে তোলার বিষয়টি গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দলের নেতাকর্মীদের জানিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। ১৬-১৭ ফেব্রুয়ারি দলের দায়িত্বশীলদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতেও এ উদ্যোগের কথা জানানো হয়। এরপর ছয় মাস পার হলেও নতুন সংগঠনের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে পারেনি ৫ সদস্য নিয়ে গঠিত বিশেষ কমিটি। নানা বিষয়ে কমিটির সদস্যদের মধ্যেই তৈরি হয়েছে মতদ্বৈততা।

জামায়াতের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নতুন সংগঠনের সাংগঠনিক, আদর্শিক, অর্থনৈতিক উৎসসহ নানা বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি পাঁচ সদস্যের কমিটি। বিশেষ করে নতুন সংগঠনটি কি জামায়াতের অঙ্গ হিসেবে থাকবে, নাকি পৃথক বা আলাদা হবে, এনিয়ে এখনও সুরাহা হয়নি। দলের আদর্শ ধর্মভিত্তিক নাকি সেক্যুলার হবে, ইসলামিক এজেন্ডা থাকবে কিনা, গঠনতন্ত্রের ফরম্যাট কী হবে, নেতৃত্ব কারা দেবে, সংগঠনের অর্থনৈতিক কাঠামো কী হবে, যারা নতুন সংগঠনে যুক্ত হবেন, তারা মূল দল জামায়াতের স্বপদে থাকবে কিনা— এসব প্রশ্নের কোনও সমাধানে আসতে পারেননি জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বিশেষ কমিটি।

জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা জানান, নতুন সংগঠনের সদস্য পদের কাঠামো কী হবে, জামায়াতের মতো হবে কিনা, তা  এখনও প্রশ্নসাপেক্ষ। এছাড়া, কর্মী গঠন প্রক্রিয়ায় জামায়াত-শিবিরের পাঠ্যক্রম বজায় থাকবে, নাকি বাতিল হবে, তা নিয়েও কমিটির মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা অব্যাহত আছে। এসব কারণে নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ বিলম্বিত হচ্ছে—  বলেছেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের এক নেতা।

তবে নির্বাহী পরিষদের এক সদস্য মনে করেন, ‘নতুন সংগঠন সম্পূর্ণ আলাদা,স্বাধীন ও নতুন নেতৃত্বেই গঠিত হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ‘নতুন সংগঠনের অগ্রগতি হচ্ছে’ বলে দাবি করেন বিশেষ কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা.সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘নতুন সংগঠনের কাজ চলছে। অগ্রগতিও আছে।’

এক মাস আগেও জামায়াতের নীতিনির্ধারকদের অন্যতম একনেতা বলেছিলেন, ‘জামায়াতের নতুন সংগঠনের কাজে যুক্ত প্রভাবশালী একনেতা তাকে জানিয়েছেন, নতুন সংগঠনের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। এক্ষেত্রে বেশকিছু আনুষঙ্গিক কাজ আছে। খুব বেশি সময় লাগবে না। সবকিছু খেয়াল করে, সুন্দরভাবে গুছিয়ে আনতে হচ্ছে।’

জামায়াতের নির্ভরযোগ্য দায়িত্বশীল একাধিক পক্ষ বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছে, রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকায় সাংগঠনিক ও অভ্যন্তরীণ দাওয়াতি কাজে ব্যস্ত রয়েছে জামায়াত। গত তিন মাসে বিশেষ কমিটির সদস্যদের কয়েক জন কারাগারে এবং দেশের বাইরে থাকায় ‘নতুন নাম’ এর বিষয়টি নিয়ে খুব একটা অগ্রগতি হয়নি। এছাড়া, অভ্যন্তরীণ কাজে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকায় সময় বেশি লাগছে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘নতুন সংগঠনের বিষয়ে বিশেষ কমিটিকে কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার পক্ষ থেকে কোনও সুনির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়নি। ফলে সময়ের কোনও ব্যাপার নেই। দ্বিতীয়ত, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ সুস্থ নয়।’

এক মাস আগে ছাত্রশিবিরের এক কেন্দ্রীয় নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘নতুন নামের প্রাসঙ্গিকতা কতটা এবং এই নতুন নামে আত্মপ্রকাশ করলেও কতটা রাজনৈতিক ফল আসবে, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে জামায়াতের যে অবস্থান, সেখান থেকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার কোনও পরিকল্পনা তাদের নেই। সেক্ষেত্রে নতুন নামে এলেও এ বিষয়টি থেকে কতটা নিস্তার পাওয়া যাবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থাকবে।’

গত ১৪ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক থেকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্যদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রস্তাবনা পাঠানো হয় বিবেচনার জন্য। এরপর শুরা সদস্যদের অভিমতের ভিত্তিতেই নতুন নামে সংগঠন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয় এবং পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠিত হয়। যদিও এই কমিটি গঠনের বিষয়টি গোপন রাখার অভিযোগ এনে ১৫ ফেব্রুয়ারি লন্ডনে অবস্থানকারী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে দল থেকে বহিষ্কার করা হয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মুজিবুর রহমান মনজুকে। এই মনজুর উদ্যোগে একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন:

বহিষ্কৃত জামায়াত নেতা মনজুর দল গঠনে অগ্রগতি কতটা

কতদূর এগোলো জামায়াতের নতুন সংগঠনের কাজ?

 

 

/এসটিএস/এপিএইচ/

লাইভ

টপ