কারাগারে খালেদা জিয়ার টানা ৪ ঈদ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:৫৭, আগস্ট ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪৩, আগস্ট ১২, ২০১৯

খালেদা জিয়া

কারাবন্দি অবস্থায় টানা ৪ ঈদ উদযাপন করতে হচ্ছে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার হয়ে নাজিম উদ্দিন রোড়ের পরিত্যক্ত পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারে দুটি ঈদ পার করেন তিনি। এরপর বন্দি অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে গত ৫ জুন ঈদুল ফিতর কেটেছে তার। এবার ঈদুল আজহাও বিএসএমএমইউ হাসপাতালে থেকেই উদযাপন করতে হবে তাকে। তবে এর আগে ১/১১ সরকারের সময় সংসদ ভবন এলাকায় সাব জেলে বন্দি থাকাকালে ২টি ঈদ কাটিয়েছেন খালেদা জিয়া।

প্রসঙ্গত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে যান। গত ১ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখনও তিনি হাসপাতালে আছেন। যদিও বিএনপির পক্ষে থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে, বিএসএমএমইউতে তার সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না। খালেদা জিয়ার ইচ্ছা অনুযায়ী দেশে-বিদেশে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার দাবি জানিয়ে এ কারণে একাধিকবার সংবাদ সম্মেলন করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে এ দাবি উড়িয়ে দিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দ্বারা বোর্ড গঠন করে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করাচ্ছে সরকার।

দলটির নেতারা বলছেন, ঈদের সময় তিনি দেশে থাকলে সব সময় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান করতেন। সেখানে দলীয় নেতাকর্মী থেকে দেশের বিশিষ্টজনরা যেতেন। কিন্তু গত ৪ টি ঈদে এই অনুষ্ঠান হচ্ছে না। এছাড়া ঈদের সময় তিনি বিশেষ কিছু ব্যক্তিকে ঈদ উপহারও দিতেন। সেই মানুষগুলো এখন সেই উপহার থেকেও বঞ্চিত। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই দলীয় নেতাকর্মীদের মন খারাপ।   

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, মধ্যরাতের ভোটের নির্বাচন করতে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে দেশনেত্রীকে (খালেদা জিয়া) বন্দি করে রাখা হয়েছে। এখন সরকারের বাধার কারণে তার জামিন হচ্ছে না। ন্যায়বিচার পেলে তিনি অনেক আগেই ছাড়া পেয়ে যেতেন।

তিনি আরও বলেন, মাকে কারাগারে রেখে ছেলে কখনও ভালো ঈদ করতে পারে? আজকে হাজার হাজার নেতাকর্মী মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত।

বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, খালেদা জিয়ার জেলবন্দি থাকায় আমরা মায়ের শূন্যতা অনুভব করছি। তিনি আমাদেরকে সন্তানতুল্য ভালোবাসতেন। সেই মাকে রেখে আমরা কীভাবে ঈদ করি? আজকে আমরা মায়ের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, প্রতি ঈদের ন্যায় এবারও ঈদের দিন পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করতে হাসপাতালে যাবেন। কোরবানির মাংস রান্নাসহ তার পছন্দের আরও কিছু খাবার রান্না করে নিয়ে যাবেন তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। এজন্য ইতোমধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে দেখা করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন আহমেদ দিদার বলেন, খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের ঈদের দিন তার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার কথা রয়েছে।   

জানা গেছে, ১/১১-র সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ১৪ অক্টোবর রোজার ঈদ আর ২১ ডিসেম্বর কোরবানির ঈদের সময় জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত সাবজেলে বন্দি ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বিএনপির নেতারা বলছেন, আমাদের ধারণা ছিল একাদশ সংসদ নির্বাচনের পরে এবার খালেদা জিয়ার জামিন হয়ে যাবে। কারণ নির্বাচন শেষ তাকে আটকে রাখার কোনও অর্থ নেই। সর্বশেষ নেতাকর্মীদের মধ্যে ধারণা ছিল, খালেদা জিয়ার মুক্তির সমঝোতার বিনিময়ে বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছিল। কিন্তু, বাস্তবে তার কোনও লক্ষণ নেই। ফলে এখন নেতাকর্মীদের মধ্যে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে হতাশা বিরাজ করছে।

দলটির স্থায়ী কমিটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য বলেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যায়ে সবার মধ্যে একটা ধারণা ছিল এবার হয়তো খালেদা জিয়া মুক্তি পাচ্ছেন। শপথ নেওয়ার বিনিময়ে সরকারের সঙ্গে কোনও সমঝোতা হয়ছে। কিন্তু এখন সবাই হতাশ।

বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অচিরেই সরকার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে বলে আমরা আশা করি। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাকে আটকে রাখা হয়েছে। এসব মামলায় তার সাজা হওয়ার কথা নয়। কারণ এগুলো মিথ্যা মামলা।

 

/এএইচআর/টিএন/

লাইভ

টপ