যে কারণে খালেদা জিয়ার জন্মদিন একদিন পরে পালন করছে বিএনপি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০০:২৬, আগস্ট ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:৩১, আগস্ট ১৬, ২০১৯

খালেদা জিয়া

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস নিয়ে নতুন করে কোনও বির্তক সৃষ্টি করতে চায় না বিএনপি। তাই এবার জাতীয় শোক দিবসের দিন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৭৫ তম জন্মদিন পালন করেনি দলটি। বিতর্ক এড়াতে ১৫ আগস্টের জন্মদিনের কর্মসূচি একদিন পিছিয়ে ১৬ আগস্ট পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এমনকি দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকেও ১৫ আগস্ট জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটতে অনুৎসাহিত করা হয়েছে। 

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার জন্মদিন নিয়ে বিতর্ক আছে। খালেদা জিয়ার বাবা এস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনী হলেও তিনি দিনাজপুরে বসবাস করতেন। খালেদা জিয়ার জন্মও সেখানে। তার মায়ের নাম তৈয়বা মজুমদার। ১৯৬০ সালের আগস্ট মাসে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ইন্টারনেটে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, বাংলা পিডিয়াসহ খালেদা জিয়ার জীবনীর ওপর রচিত কয়েকটি বইয়েও তার জন্মদিন ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট উল্লেখ আছে।

দলটির নেতারা বলছেন, ১৫ আগস্ট নিয়ে নমনীয় হচ্ছে বিএনপি। এই কারণে বুধবার (১৪ আগস্ট) লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা আসে খালেদা জিয়ার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে ১৫ আগস্ট কর্মসূচি পালন না করে ১৬ আগস্ট করতে। সেই নির্দেশনাটি দলের বিভিন্ন স্তরে পৌঁছে দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রিজভী জানান, ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে ১৬ আগস্ট সারাদেশে তার রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনা করে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠানের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার জন্মদিনের একদিন পরে কেন কর্মসূচি দেওয়া হলো- জানতে চাইলে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় সাজা হয়ে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জেলে। এর প্রতিবাদে আমরা তার জন্মদিনের কর্মসূচি একদিন পরে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ 

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৫ অগাস্ট ৫০ পাউন্ডের কেক কেটে জন্মদিন পালন করেন খালেদা জিয়া। ২০১৫ সালের ১৫ অগাস্ট প্রথম প্রহরে তিনি কেক না কাটলেও সন্ধ্যার পরে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করেছিলেন। তবে ২০১৬ সালে বন্যা, গুম-খুনকে কারণে দেখিয়ে কেক কাটার কর্মসূচি বাতিল করেন খালেদা জিয়া। ২০১৭ সালে জন্মদিনে লন্ডনে ছিলেন খালেদা জিয়া। এরপর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দুর্নীতির মামলা সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে আছেন তিনি। এরমধ্যে ৭৪তম জন্মদিনে দিনে তিনি ছিলেন নাজিম উদ্দিন রোড়ের কেন্দ্রীয় কারাগারে। আর এবারের (১৫ আগস্ট) ৭৫তম জন্মদিন কেটেছে কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসার জন্য থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক নেতা বলেন, ২০১৬ সালে খালেদা জিয়া উপস্থিতিতে দলের স্থায়ী কমিটির এক মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয় ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকীর দিন জন্মদিনের বির্তক এড়াতে তিনি কেক কাটবেন না। এরপর তিনি নিজেই বিভিন্ন সময় বক্তব্যে বলেছেন, জাতীয় নেতাদের নিয়ে বিতর্ক বন্ধ করতে হবে। 

বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের এক সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেরেবাংলা একে ফজলুল হক, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং জিয়াউর রহমানসহ জাতীয় নেতাদের বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে বলেছিলেন খালেদা জিয়া। এরপর ২০১৬ সালের ১৫ আগস্ট ৭১তম জন্মদিনে কেক না কেটে সকালে জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত ও মিলাদ মাহফিল করা হয়। এবার ১৫ আগস্ট মাজার জিয়ারত ও মিলাদ মাহফিল থেকেও সরে এসেছে বিএনপি। কারণ হিসেবে দলটির নেতারা বলছেন, শোক দিবস নিয়ে বির্তক সৃষ্টি করে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিএনপি। এই কারণে তারেক রহমান শোক দিবসে বির্তক সৃষ্টি না করে একদিন পরে মায়ের জন্মদিনের কর্মসূচির পালন করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শাহাদাতবার্ষিকীর দিনে খালেদা জিয়ার মতো রাজনৈতিক নেতার জন্মদিন উদযাপন করাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেননি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারাও।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ম্যাডাম খালেদা জিয়ার ৭০তম জন্মদিন থেকে সিদ্ধান্ত হয় আগামীতে তার জন্মদিনে কেক কাটা হবে না। কেক কাটার পরিবর্তে মিলাদ মাহফিল ও জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করার সিদ্ধান্ত হয়। আর ১৫ আগস্ট তো শোক দিবস।’

 

 

/এএইচআর/এএ/

লাইভ

টপ