গুম হওয়া নেতা-কর্মীদের বাসায় ফলের ঝুড়ি নিয়ে বিএনপি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:১৭, আগস্ট ৩০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:২৯, আগস্ট ৩০, ২০১৯




69309295_2579363865449752_5643408785801216000_nবিএনপির গুম হওয়া নেতা-কর্মীদের বাসায় ফলের ঝুড়ি নিয়ে গেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারা। তারা হলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবি খান সোহেল ও নির্বাহী কমিটির সদস্য ইকশার হোসেন।  এসময় তারা গুম হওয়া নেতা-কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের খোঁজ-খবর নেন।

শুক্রবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গুম হওয়া নেতা-কর্মীদের বাসায় যান তারা।

শুক্রবার বিকালে বনানীতে নিখোঁজ সাবেক সাংসদ এম ইলিয়াস আলীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘গুম-খুনের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারকে একদিন মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হতে হবে। গুম সম্পূর্ণরূপে মানবতাবিরোধী অপরাধ।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা একটা জিনিসে বিশ্বাস করি, একদিন না একদিন এই মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্যে বিচার হবেই। আজকে বাংলাদেশে গণতন্ত্রহীনতা আছে, জনগণের প্রতিনিধি নেই। সত্যিকার অর্থে যেদিন জনগণের প্রতিনিধির সরকার গঠিত হবে, সেইদিন এর বিচার অবশ্যই হবে।’

নিখোঁজ দলীয় নেতা-কর্মীরা তাদের পরিবারের কাছে ফিরে আসবে আশা প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে ইলিয়াস আলীর বাসায় এসেছি, তার ছোট মেয়ে আমাদের সামনে আসেনি। আসেনি এজন্য, সে অত্যন্ত বিব্রতবোধ করে, কষ্ট পায়। আমার মনে আছে, ৬ বছর আগে যখন এখানে আসি, আপনারা সবাই দেখেছেন ফুটফুটে একটি বাচ্চা মেয়ে প্রতিদিন বাবার জন্য অপেক্ষা করতো। আমরা তাদের পাশে আছি।’

ভবিষ্যতে গুমের একটা সুষ্ঠু বিচার হবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গুম হওয়া পরিবারের সঙ্গে আমরা সবসময় যোগাযোগ রাখি, চেষ্টা করি তাদের পাশে দাঁড়ানোর। তাদের কষ্ট আমরা ভাগ করে নিতে পারি না, কিন্তু তাদের কষ্টটা আমরা অনুভব করি।’ তিনি বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গতকাল পরামর্শ দিয়েছেন, আজকে গুম দিবসে আমাদের দলের যারা গুম হয়েছেন, যথাসম্ভব তাদের বাসায় যাওয়ার চেষ্টা যেন করি। আমি ইলিয়াস আলীর বাসাসহ চারটি বাসায় গেছি। আমাদের অন্য নেতারা ঢাকা শহরে যারা আছেন, তাদের বাসায় গেছেন।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে আমি দক্ষিণখানে গিয়েছিলাম ছাত্র নেতা তারিকুল ইসলাম ঝন্টুর বাসায়। তার মা বলছিলেন, আমার এই ছেলেটা ছিল সবচেয়ে ভালো ছেলে, অনার্সে ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছিল। মা বলছিলেন, তাকে সালাম না করে কোনোদিন ঘুমোতে যেতো না। সেই ছেলে গুম হয়ে গেছে। কিছুদিন পরে ছেলের বাবা অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। তাদের তৃতীয় সন্তান দুর্ঘটনায় পা ভেঙে ফেলেছে। এই পরিবারটি অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় আছে।’
বিএনপির এ নেতা বলেন, গুম হওয়া নিজামুদ্দিন মুন্নার বাসায় গিয়েছিলাম। অনেক কষ্ট করে এই ছেলেটি বিএ পাস করেছিল। তার বাবা এমন কোনও জায়গায় যাননি, ভারতেও গেছেন, বহু জায়গায় গিয়ে ছেলেকে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত অসুখ হয়ে মারা গেছেন। এখন অনেক পরিবার আছে, যারা অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে আছে। আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করছি তাদের পাশে দাঁড়ানোর। আজকে গুম দিবসে আমি এই মানবতাবিরোধী অপরাধের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’
ইলিয়াস আলী, নিজামুদ্দিন মুন্না ও তারিকুল ইসলাম ঝন্টুর বাসা ছাড়াও নাখালপাড়ায় সাজেদুল ইসলাম সুমনের বাসায়ও যান মহাসচিব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, শহিদুল ইসলাম বাবুল, ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন, এসএম জাহাঙ্গীর, শায়রুল কবির খান প্রমুখ।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, আজ বিকালে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বংশালে মো. সোহেল, জহিরুল ইসলাম জহির, পারভেজ হোসেন, মো. চঞ্চল, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সূত্রাপুরের খালিদ হোসেন সোহেল, সেলিম রেজা পিন্টু, সম্রাট মোল্লা এবং সেলিমা রহমান সবুজবাগে মাহবুব হাসান সুজন ও কাজী ফরহাদ হোসেনের বাসায় গিয়ে তাদের পরিবারের খোঁজ নেন।

 

/এএইচআর/এমএনএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ