বিএনপির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ সর্বোচ্চ সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনে শোডাউনের প্রস্তুতি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০২:২৩, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:৩৫, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৯

 

 দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ রবিবার (১ সেপ্টম্বর)। চরম দুঃসময় পার করা দলটির সাংগঠনিক অবস্থা এখন অনেকটাই নড়েবড়ে। এরপরেও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিজেদের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করে শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। এ লক্ষ্যে ঢাকাসহ আশপাশের জেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, দল প্রতিষ্ঠার আগে ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল জিয়াউর রহমান তার ‘সামরিক শাসন’কে ‘বেসামরিক’ করার লক্ষ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুর করেন। এরপর ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় রমনা রেস্তোরাঁয় এক সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র যাত্রা শুরু।

সংবাদ সম্মেলনে নতুন দলের আহ্বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রথমে ১৮ জন সদস্যের নাম ঘোষণা করেন। পরে ১৯৭৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ওই ১৮ জনসহ ৭৬ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। যদিও বিএনপি গঠনের আগে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) নামে আরেকটি দল তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সভাপতি করে গঠিত হয়েছিল। ২৮ আগস্ট ১৯৭৮ সালে নতুন দল গঠন করার লক্ষ্যে জাগদলের বর্ধিত সভায় ওই দলটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করাই মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে দলটি। সেই লক্ষ্যে ২ সেপ্টেম্বর বিকালে রাজধানীতে নয়াপল্টন থেকে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালিতে সর্বোচ্চ সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিতে ঢাকা ও আশপাশের জেলার দায়িত্বশীল নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, বিএনপির সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। তারমধ্যে দলকে সুসংহত করা হচ্ছে প্রধান লক্ষ্য। জিয়াউর রহমানের আদর্শে সবাইকে উজ্জীবিত করে দলকে সংঘবদ্ধ করতে হবে। এরপর জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করতে হবে। তবে বর্তমানে দেশের যে অবস্থা, বিএনপির একার পক্ষে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে একটি সর্বদলীয় ঐক্যের মাধ্যমে বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন আনতে হবে।

বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র‌্যালির সব ধরনের প্রস্তুতি আমরা শেষ করেছি। র‌্যালি সআয়োজনে পুলিশের অনুমতিও পেয়েছি। কোনও রকম বাধার সম্মুখীন না হলে বিশাল র‌্যালি হবে।

৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ১ সেপ্টেম্বর ভোরে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ১০টায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে দলকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে মনেপ্রাণে কাজ করার জন্য সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, বর্তমান দুঃসময়ে জনগণকে সংগঠিত করার কোনও বিকল্প নেই। দেশ আজ দুঃশাসনকবলিত। আইন, বিচার, প্রশাসনকে সরকার কব্জার মধ্যে রাখার চেষ্টায় মরিয়া। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেআইনি কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। ফলে সমাজে দেখা দিয়েছে বিপজ্জনক বিশৃঙ্খলা।

দেশে খুন, নারী-শিশু নির্যাতন, অপহরণ, গুপ্তহত্যা ইত্যাদি অনাচারের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে দাবি করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, সরকার যেখানে জনগণের প্রতিপক্ষ, সেখানে মানুষের জানমালের কোনও নিরাপত্তা থাকতে পারে না। সুতরাং জনগণের নিরাপত্তা বিধানের জন্যই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন বেগবান করতে হবে। তিনি প্রতিহিংসার শিকার। কারণ তিনিই গণতন্ত্রের প্রতীক এবং জনগণের নাগরিক ও বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতার পক্ষে প্রধান কণ্ঠস্বর। পাশাপাশি দেশের যেকোনও ক্রান্তিলগ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব দেশবাসীকে বিএনপির পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।

 

/এএইচআর/টিটি/

লাইভ

টপ