আ.লীগের কোনও বন্ধু নেই: মির্জা ফখরুল

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:২৭, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০৪, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৯

মির্জা-ফখরুল-ইসলাম-আলমগীরকূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণে আওয়ামী লীগ সরকার রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে পাঠাতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণভাবে আওয়ামী লীগের কূটনৈতিক ব্যর্থতা। আজ তাদের কোনও বন্ধু নেই।’ রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে বিএনপির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বড় গলায় বলে চীনের সঙ্গে তাদের সুউচ্চ বন্ধুত্ব। ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব আরও বেশি। তাহলে কেন তারা চীন ও ভারতকে বোঝাতে পারছে না রোহিঙ্গা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ও সমাজে কত বড় বোঝা? মানবিক কারণে তাদের মিয়ানমারে পাঠানো জরুরি, সেটা কেন বোঝাতে পারছে না?’

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সবদিক থেকে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সেই জন্যই বিএনপির প্রয়োজনীয়তা সব থেকে বেশি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বলছে , বিএনপি নাকি রোহিঙ্গাদের যেতে বাধা দিচ্ছে। তারা নিজেদের ব্যর্থতা অন্যের ওপর চাপাচ্ছে। তারা ব্যর্থ হয়েছে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে দিতে। কিন্তু ৭৮ সালে জিয়াউর রহমান আর পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়া ২ লাখ ৩৩ হাজার রোহিঙ্গাকে আলোচনার মাধ্যমে মিয়ানমারে পাঠিয়েছে। আজকে দুই বছর চলে গেছে, দুইবার চেষ্টা করেও সরকার একজন রোহিঙ্গাকেও তাদের নিজ দেশে পাঠাতে পারেনি।’

খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি গতকাল খোঁজ নিয়েছিলাম, তিনি হাঁটতে পারছেন না। তার ব্লাডপ্রেসার ও সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকছে না। কিন্তু এ অবস্থায় তিনি মাথানত করছেন না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে দুঃখ হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি ছিল আওয়ামী লীগের। সেখান থেকে তারা সরে গিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে নিজেদের সুবিধামতো সংবিধান পরিবর্তন করে নিয়েছে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে। কারণ, তারা জানে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে কোনও দিন ক্ষমতায় আসতে পারবে না। আওয়ামী লীগ এত অন্যায়, দুর্নীতি করেছে যে, মানুষ এখন তাদের একেবারেই পছন্দ করে না।’

একাদশ সংসদ নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এ নির্বাচন আপনার চুরি করে নিয়ে গেছেন। ফলে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে। এই নির্বাচন কমিশন দিয়ে হবে না।’

বিএনপির জন্ম হয়েছিল আওয়ামী লীগের ব্যর্থতার জন্য উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্বাধীনতার পরে আওয়ামী লীগ যে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি করেছিল, তা থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে জিয়াউর রহমান দল সৃষ্টি করেছেন।’

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জেএসডির আসম আব্দুর রব, গণফোরামের রেজা কিবরিয়া, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা ইসহাক।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রমুখ।

/এএইচআর/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ