সরকারের পছন্দের ব্যক্তিই বিরোধীদলীয় নেতা হবেন: বিএনপি

Send
আদিত্য রিমন
প্রকাশিত : ২১:২৭, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:২৯, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১৯

জাতীয় পার্টিজাতীয় পার্টির (জাপা’র) চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন নিয়ে গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের ও রওশন এরশাদের মধ্যে বিদ্যমান বিভেদ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। আর এই ঘটনাকে স্বাভাবিকভাবে দেখছে বিএনপি। জাপাকে সরকারের ‘অনুগত’ দল আখ্যায়িত করে বিএনপি নেতারা বলছেন, দলটিতে অভ্যন্তরীণ বিরোধ স্বাভাবিক ঘটনা। ফলে জাপার যে নেতা সরকারের আনুকূল্য পাবেন, তিনিই সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার আসনে বসতে পারবেন। অর্থাৎ সরকারের পছন্দের ব্যক্তিই বিরোধীদলীয় নেতা হবেন বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা।

বিএনপির নেতারা বলেন, জাপার নেতারা যখন তাদের দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সময় চান, তখনই তাদের দেউলিয়াত্ব প্রকাশিত হয়। প্রমাণিত হয়, সরকারের আনুগত্য ছাড়া তাদের নিজস্ব কোনও রাজনীতি নেই। ফলে সরকার-নিয়ন্ত্রিত দলের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটাই স্বাভাবিক। এ ধরনের বিরোধী দল যে গণতন্ত্র কিংবা জাতীয় কোনও উপকারে আসে না, এর বড় উদাহরণ জাপা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে অন্য রাজনৈতিক দল নিয়ে কথা বলা ঠিক নয়। তবে, জাপা যে স্বাধীনভাবে চলতে পারে না, আজকে তাদের মধ্যে পদ-পদবি নিয়ে বিরোধ চলছে, এটি তারই প্রমাণ। তাদের দলের সিদ্ধান্তের জন্য যখন উভয় পক্ষ প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময় চায়, তখন এরচেয়ে দেউলিয়াপনা কী হতে পারে?’
এখন জাতীয় পার্টির মধ্যে সরকারের আনুকূল্য পাওয়ার প্রতিযোগিতা চলবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান। তিনি বলেন, ‘তারা তো সরকারের অনুগত বিরোধী দল। ফলে, কে সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হবেন, তা অনেকটা সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।’

মোহাম্মদ শাহজাহান আরও বলেন, ‘সরকারের অনুগত বিরোধী দলে পদ-পদবি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়াটাই স্বাভাবিক। এটি নতুন কোনও ঘটনা নয়। অতীতেও অনেক দলের এমন ঘটনা আছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে সরকারের অনুগত থাকার কারণে বিরোধীদলীয় নেতা হতে পেরেছেন রওশন এরশাদ। ফলে যে পক্ষ সরকারের কথামতো চলবে, তারাই জাপা ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার আসনে বসতে পারবে।’

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় জাপার কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এরপর জাপার চেয়ারম্যান জিএম কাদের এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘রওশন এরশাদকে সম্মান করি, যতটুকু শুনেছি, তিনি নিজে থেকে নিজের কথা বলেননি। শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটা নিয়ে অস্থির হওয়ার কিছু নেই। জাপা ভাঙেনি। কোনও ভাঙনের মুখে পড়েনি।’ যেকোনও ব্যক্তি যেকোনও ঘোষণা দিলেই তা বাস্তবায়িত হয় না বলেও তিনি মনে করেন।

 

/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ