মহাসড়কে টোল আদায়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ গণবিরোধী: রিজভী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৩:০৪, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:০৫, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৯

বক্তব্য রাখছেন রুহুল কবির রিজভীদেশের মহাসড়ক থেকে টোল আদায় করতে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশ সম্পূর্ণ গণবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘গত ৫ সেপ্টেম্বর একনেকের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মহাসড়ক থেকে টোল আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ গণবিরোধী। জনগণের পকেট কাটতেই এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার।’

শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘মহাসড়ক থেকে টোল আদায় করা হলে তা যাত্রীদের পকেট থেকেই দিতে হবে। এতে করে যানজটের তীব্রতা বাড়বে, নষ্ট হবে সময়।’

দেশের মহাসড়কগুলো টোল আদায়ের জন্য উপযুক্ত নয় বলে দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সারাদেশের বেশির ভাগ রাস্তা খানাখন্দে ভরা। এসব কারণে সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল থামছে না। এছাড়া, নানা কারণে সব সড়কে যানজট লেগেই আছে। যানজটের কারণে গাড়ি ঠিকমতো চলতে পারে না৷ এর মধ্যে টোলঘর বসালে প্রতিবন্ধকতা আরও বাড়বে। যানজটের পরিমাণও বেড়ে যাবে।’

টোল থেকে আদায় হওয়া টাকার কত অংশ সরকারি কোষাগারে জমা পড়বে, সেই প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, ‘সরকার নিজেরা টাকা ওঠালে সেখানে দুর্নীতির কারণে নয়-ছয় হয়৷ আবার ইজারা দিলে খাতিরের লোকজনকে নামমাত্র মূল্যে দেওয়া হয়। ফলে সরকারি কোষাগারে খুব বেশি টাকা জমা পড়ে না।’

সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা ও নির্যাতন আরও  বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ করে রিজভী বলেন,‘বেড়েছে বিএসএফের নৃশংসতার ধরনও। বিশেষ করে দেশের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় আটক বাংলাদেশিদের প্রতি ভয়ঙ্কর ও নৃশংস আচরণ করেছে বিএসএফ। বিএসএফ বাংলাদেশিদের ওপর যে নিষ্ঠুর আচরণ করছে তা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।’

আটক বাংলাদেশিদের বিষয়ে আইন প্রয়োগের সুযোগ থাকলেও তাদের নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘সুযোগ পেলেই এদেশের নিরীহ লোকদের ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হচ্ছে। দিন দিন বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি হত্যার সংখ্যা বাড়লেও নীরবতা পালন করে আসছে বর্তমান সরকার। মানবধিকার সংস্থাগুলোর মতে চলতি বছরের ৬ মাসে বিএসএফের হাতে নিহত হয়েছেন ১৮ জন বাংলাদেশি। গত তিন দিনে বিএসএফের গুলিতে দুজন জন নিহত হয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্তে হত্যা নিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্র একবারে চুপ করে বসে আছে। কিংবা কোনও কোনও সময় প্রতিবাদের বদলে বিএসএফের পক্ষ নিয়ে কথা বলছেন সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা। দুনিয়ার কোনও দেশের সীমান্তে এত হত্যা ও রক্তপাতের একতরফা ঘটনা ঘটে না। রাষ্ট্রীয়পর্যায়ে প্রতিবাদ হলে এসব ঘটনা কমতে পারতো। কিন্তু সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে সীমান্ত নিরাপদ হচ্ছে না। সীমান্ত হত্যা বন্ধে ব্যর্থ হয়েছে সরকার।’

/এএইচআর/এপিএইচ/

লাইভ

টপ