রংপুরে লাঙ্গল পাচ্ছেন কে?

Send
আদিত্য রিমন
প্রকাশিত : ২৩:২২, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪৭, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৯

শাদ-ইয়াসির

রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে একক প্রার্থী নির্বাচনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দলের চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন নিয়ে গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের ও রওশন এরশাদের বিবদমান সংকট নিরসন না হলে এই উপনির্বাচনেও দলের একক প্রার্থী মনোনয়নে অনিশ্চয়তা কাটার সম্ভাবনা দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। জাপার শীর্ষ নেতা ও রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উপনির্বাচনে পার্টি থেকে একক প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে জাপার বিবদমান দুই পক্ষ একমত হতে না পারলে একাধিক প্রার্থী মনোনয়নের দিকে গড়াতে পারে দলটিতে। সেক্ষেত্রে রওশনপন্থীদের পছন্দ এরশাদের ছেলে রাহগির আল মাহির (সাদ এরশাদ)। আর জিএম কাদেরপন্থীরা চান দলটির রংপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসিরকে। তবে, পরিস্থিতি সেদিকে গড়ালে সংকট দেখা দেবে দলীয় প্রতীক ‘লাঙ্গল’ বরাদ্দ পাবেন কে, তা নিয়ে। একটি সূত্র বলছে, জাপার শীর্ষ নেতারা একমত হতে ব্যর্থ হলে ‘লাঙ্গল’ প্রতীক বরাদ্দের বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)-এর ওপর।

ইসি-ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রংপুর-৩ আসন উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। বাছাই হবে ১১ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর। আর ৫ অক্টোবর হবে ভোটগ্রহণ।

রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে জাপা থেকে প্রার্থী হতে দলটির মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন এরশাদের ছেলে রাহগির আল মাহির (সাদ এরশাদ), দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর, দলটির রংপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির, এরশাদের ভাগ্নি ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন বাবলুর স্ত্রী ড. মেহেজেবুন্নেছা রহমান (টুম্পা)।

শুক্রবার (৬ আগস্ট) বিকালে বনানী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে জিএম কাদেরের সভাপতিত্বে দলটির পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভায় রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর, এস এম ইয়াসির। তবে, উপস্থিত না থাকলেও ফোনে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ড. মেহেজেবুন্নেছা রহমান। কিন্তু সাক্ষাৎকার দিতে আসেননি রওশনপন্থীদের পছন্দের সাদ এরশাদ। এমনকি তিনি মনোনয়নপত্রও জমা দেননি।

বৈঠকে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাপার একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, ‘সাদ এরশাদ সাক্ষাৎকার দিতে না আসায় এই আসনে জাপার প্রার্থী হিসেবে জিএম কাদেরপন্থীদের পছন্দের এস এম ইয়াসিরকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।’

পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘রংপুর-৩ আসনে দলের প্রার্থী হতে আগ্রহীদের সভায় উপস্থিত ছিলেন না সাদ এরশাদ। এমনকি তিনি মনোনয়নপত্রও জমা দেননি।’

এদিকে রওশন এরশাদপন্থীরা রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে সাদ এরশাদকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছেন বলে একটি সূত্র জানায়। রওশনপন্থী জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। আগামীকাল (৭ সেপ্টেম্বর) চূড়ান্ত করা হবে।’

শুক্রবার জিএম কাদেরের সভাপতিত্বে জাতীয় পার্টির পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভায় সাদ এরশাদ কেন উপস্থিত হননি–এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফখরুল ইমাম বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাই না। পার্টির চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ। তিনি কাল এ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেন।’

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির একাংশ রওশন এরশাদকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মারা যাওয়ার পর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের পদটি খালি আছে। আর মহাসচিব হিসেবে মসিউর রহমান রাঙ্গার নাম রয়েছে। কিন্তু চেয়ারম্যান হিসেবে জিএম কাদের ও রওশন এরশাদ দুজনেরই নাম যুক্ত করা দুটি আবেদন গেছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। এখন উপনির্বাচনের আগে দলটির চেয়ারম্যান নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন না হলে মহাসচিব হিসেবে মসিউর রহমান রাঙ্গা যার মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করবেন, তাকেই ‘লাঙ্গল’ প্রতীক দেওয়া হবে। তবে জাতীয় পার্টির নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, দলের চেয়ারম্যান হিসেবে এখনও  হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নাম রয়েছে। মহাসচিব হিসেবে কারও নাম নেই। 

এদিকে, বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রওশন এরশাদ কিংবা জিএম কাদের কারও সংবাদ সম্মেলনে দেখা যায়নি মসিউর রহমান রাঙ্গাকে।

মসিউর রহমান রাঙ্গা কোথায়—জানতে চাইলে জিএম কাদেরপন্থী জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তিনি কোথায় আছেন জানি না। তাকে জিজ্ঞাসা করুন, তিনি কোথায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘তবে, জিএম কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা করতে যে ১৫ জন সংসদ সদস্য স্বাক্ষর করে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন, সেখানে রাঙ্গা প্রথম স্বাক্ষর করেছেন।’

এদিকে, ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের সভাপতিত্বে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্যদের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা সূত্রে জানা গেছে, যৌথ সভায় রওশনপন্থী দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও ফখরুল ইমামের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় পার্টির এক প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, ‘আনিসুল ইসলাম ও ফখরুল ইমামকে প্রেসিডিয়াম সদস্যপদ থেকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হবে না, সেই বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হতে পারে।’ তবে, চিঠি দিতে কয়েকদিন সময় নেওয়া হতে পারে বলেও তিনি জানান।

/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ