এরশাদের ক্ষমতা দখলের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সংশ্লিষ্টতা ছিল না: মির্জা ফখরুল

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৩:২৫, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৩৫, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৯

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ক্ষমতা দখলের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কোনোভাবেই জড়িত, কিংবা সংশ্লিষ্ট ছিলেন না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘এরশাদের ক্ষমতা দখলের সঙ্গে খালেদা জিয়াকে জড়িয়ে সংসদে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য অসত্য। খালেদা জিয়াকে নিয়ে এ ধরনের মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।’

সোমবার (৯ সেপ্টেম্বরে) বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানানো শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। বিএনপির অঙ্গ-সংগঠন মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে এক শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জেনারেল এরশাদ যে ১৯৮২ সালে ক্ষমতা দখল করেছিলেন, সেই ক্ষমতা দখলের সুযোগটা কিন্তু খালেদা জিয়াই করে দিয়েছিলেন। এ কারণেই তিনি খালেদা জিয়াকে শুধু দুটি বাড়িই নয়, নগদ ১০ লাখ টাকাসহ অনেক সুযোগ-সুবিধা দিয়েছিলেন। এ কারণে জিয়া হত্যার ব্যাপারে যে মামলা হয়েছিল, সেই মামলা বিএনপি চালায়নি। তবে বহু বছর পর ১৯৯১ সালে বা তারপর খালেদা জিয়া জেনারেল এরশাদকে তার স্বামী হত্যার জন্য দায়ী করেছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্বৈরশাসক এরশাদ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনিই তখন বলেছিলেন—আই অ্যাম নট আনহ্যাপি।’

এরশাদের জাতীয় পার্টি বর্তমান সরকারের গৃহপালিত বিরোধী দল বলে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখন এরশাদের মৃত্যুর পর রওশন এরশাদ হয়েছেন গৃহপালিত বিরোধী নেত্রী।’

কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই তাকে জেলখানা থেকে মুক্ত করা হবে। আমরা সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি। বিভেদ ভুলে সম্মিলিত সংগ্রামের মাধ্যমে তার মুক্তির আন্দোলন বেগবান করতে পারলেই হারানো গণতন্ত্র ফিরে আসবে এবং দেশের ১৬ কোটি মানুষেরও মুক্তি মিলবে।’

বর্তমান সরকারকে গণবিরোধী বলে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘জবর দখলকারী এই সরকারকে বিদায় না করা পর্যন্ত এদেশের গণতন্ত্র মুক্ত হবে না। মানুষেরও মুক্তি মিলবে না।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান প্রমুখ। 

/এএইচআর/এপিএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ