আইন লঙ্ঘন করে ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদককে সরানো হয়েছে: রিজভী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০০:০৮, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:২১, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

রুহুল কবীর রিজভী (ফাইল ছবি)

আইন-কানুন লঙ্ঘন করে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পদচ্যুত করে ওই দুটি পদে ভারপ্রাপ্তদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক করে দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইন-কানুন লঙ্ঘন করে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে সরিয়ে ওই দুটি পদে ভারপ্রাপ্তদের দায়িত্ব দিয়েছেন। এটা কোন এখতিয়ার বলে করেছেন? আদালতে এইক্ষেত্রে কি কোনও জুডিশিয়াল নোটিশ প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট আওয়ামী নেতাদের পাঠাতে পারবেন?’

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘ছাত্রলীগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও আওয়ামী লীগের সংশোধিত চূড়ান্ত গঠনতন্ত্রের ২৫(১) ধারা লঙ্ঘন করেছে। ছাত্রদলের কাউন্সিলে মামলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৪০/৪১/৪২ ধারা অনুযায়ী এই মামলাটি মেইন্টেনেবল নয়। ইতোপূর্বে উচ্চতর আদালতের আদেশ অনুযায়ী কোনও রাজনৈতিক দলের বিষয়ে আদালতের কিছু করার নেই। বিএনপি’র বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী শাসনেরই আরেকটি কুদৃষ্টান্ত।’

রিজভীর দাবি, ছাত্রলীগ ইতোপূর্বে আওয়ামী লীগের সহযোগী থাকলেও নতুন ‘দ্য রিপ্রজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার’ (আরপিও) বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। আরপিও অনুযায়ী ছাত্রলীগ স্বাধীন ও স্বতন্ত্র সংগঠন। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রও সেকথাই বলে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া আওয়ামী লীগের সংশোধিত চূড়ান্ত গঠনতন্ত্রের ২৫ (১) ধারা অনুযায়ী ছাত্রলীগ তাদের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন মাত্র। এদিক থেকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ছাত্রলীগকে কোনও আদেশ-নির্দেশ দেওয়া বা তাদের ওপর হস্তক্ষেপ করা সম্পূর্ন বেআইনি। তারা কেবল পরামর্শ দেওয়ার অধিকার রাখে। বিএনপির মতো আওয়ামী লীগও আরপিও অনুযায়ী নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল।

রিজভী আরও বলেন, ‘‘গত রবিবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার সাংবাদিকদের কাছে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশে এই প্রথম শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বাধ্যতামূলক পদত্যাগ করানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেই ছাত্রলীগের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দেখভাল করছেন। ছাত্রলীগের পরবর্তী সম্মেলন সম্পন্ন করতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি।’ এতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ হয় নিয়ম নীতি, বিধি বিধান আইন-কানুন সব লঙ্ঘন করে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে ঢাকঢোল পিটিয়ে হুমকি ধমকি দিয়ে ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ করছেন। তার প্রশ্ন, এতে কি আরপিও ভঙ্গ হয় না ?’’

ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে ১৪ই সেপ্টেম্বর কাউন্সিল অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছিল বলে দাবি করে রিজভী বলেন, ‘কিন্তু কাউন্সিল অনুষ্ঠানের মাত্র দু’দিন আগে সরকার আজ্ঞাবহ নিম্ন আদালত থেকে তড়িঘড়ি করে কাউন্সিলের ওপর একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করে তা থামিয়ে দেওয়া হয়। এখন যদি কেউ শোভন-রাব্বানীর পদচ্যুতিকে চ্যালেঞ্জ করে ঐ একই ঢাকা চতুর্থ সহকারী জজ আদালতে একই ধারায় একটি ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করে, তাহলে বিএনপির ওপরে যেমন শোকজ ও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর একই রকম স্থগিতাদেশ এবং শোকজের আদেশ দিতে পারবে কি? ওবায়দুল কাদেরের কথা অনুযায়ী তারা যে আরপিও এবং দলীয় গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করেছেন সেটা বৈধ আর বিএনপি সকল নিয়মনীতি অনুসরণ করেও অপরাধী ?’

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও আওয়ামী লীগের সংশোধিত চূড়ান্ত গঠনতন্ত্রের ২৫(১) ধারা লঙ্ঘন করেছে। এখন আদালত বা নির্বাচন কমিশন চুপ কেন ? এখন কেন তাদের টনক নড়ে না ? আদালত বা নির্বাচন কমিশনের কাছে তার দাবি, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। এখন কেন অন্ধ সেজে চোখ বন্ধ করে আছেন? আপনারা এই প্রকাশ্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে জনগণের আদালতে আপনাদের জবাবদিহি করতে হবে।

 

 

 

/এএইচআর/টিএন/

লাইভ

টপ