‘দেশবিরোধী চুক্তি’ বাতিল ও আবরার হত্যার প্রতিবাদে বিএনপির দুই দিনের কর্মসূচি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৪:২১, অক্টোবর ১০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:০০, অক্টোবর ১০, ২০১৯

 



সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে স্বাক্ষরিত দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল এবং এসব চুক্তির বিরোধিতার কারণে বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদের হত্যার প্রতিবাদে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার  মোশাররফ হোসেন বলেন,  ‘দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল ও চুক্তির বিরোধিতা করার কারণে শহীদ আবরার হত্যার প্রতিবাদে আমরা দুই দিনের কর্মসূচি পালন করবো।’

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কর্মসূচির ঘোষণা করেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন,  ‘আগামী ১২ অক্টোবর (শনিবার) ঢাকাসহ সারাদেশের মহানগরে জনসভা এবং একই দাবিতে ১৩ অক্টোবর (রবিবার) জেলা শহরে জনসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করছি।’ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদ জিয়ার মুক্তি আন্দোলনসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দেশবাসীকে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

খন্দকার মোশাররফ  বলেন, ‘আমরা নিকট প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সমতাভিত্তিক সুসম্পর্ক চাই। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার যা করছে তাতে দেওয়া-নেওয়ার বিষয় নেই। আছে শুধু একতরফাভাবে ভারতকে দেওয়ার। দেশের স্বার্থবিরোধী এমন অসম চুক্তির অধিকার জনগণ সরকারকে দেয়নি। কাজেই আমরা প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সব চুক্তি ও সমঝোতার বিস্তারিত জানতে চাই। দেশবিরোধী চুক্তির বাতিল চাই।’

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘শেখ হাসিনার সফরকালে স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে সরকার বাংলাদেশের ফেনী নদী থেকে ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি ত্রিপুরার সাব্রুম শহরের জনগণের ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। চট্টগ্রাম ও মঙ্গলা বন্দর নির্বিঘ্নে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। বাংলাদেশের সমূদ্র উপকূলে যৌথ পর্যবেক্ষণের জন্য রাডার বসানোর অনুমতি দিয়েছে। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশ থেকে এলপিজি গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা দিয়েছে। অথচ বহু বছর ধরে তিস্তা এবং ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার ব্যাপারে শুধুই আলোচনা করে চলেছে। এবারও সরকার শুধু আশ্বাসই পেয়েছে, কোনও স্পষ্ট নিশ্চয়তা পায়নি।’

আসামের নাগরিক পঞ্জির কারণে কয়েক লাখ আসামবাসীকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আসাম রাজ্য ও কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের স্পষ্ট হুমকির মুখে দুই প্রধানমন্ত্রীর যৌথ বিবৃতিতে এ ব্যাপারে ইতিবাচক কোনও স্পষ্ট প্রতিশ্রুতির উল্লেখ নেই বলে দাবি করেন বিএনপির এই সিনিয়র নেতা।

ভারতে পাটজাত দ্রব্যসহ অন্যান্য পণ্য রফতানির ওপর আরোপিত অন্যায় বাধা অপসারণে নিশ্চয়তা আদায় করতেও বাংলাদেশ সরকার নিদারুনভাবে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে মোশাররফ বলেন, ‘নিজ দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে শক্তিমান প্রতিবেশীকে খুশি করে ক্ষমতার মসনদ টিকিয়ে রাখার সাময়িক ও ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র।’

ফেনী নদী আগে বাংলাদেশেরই নদী ছিল বলে উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই নেতা বলেন, ‘‘কিন্তু বর্তমান সরকার আরও ৬টি যৌথ নদীর সঙ্গে ফেনী নদীর নাম সংযুক্ত করে এসব নদীর পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনায় রাজি হয়। আমাদের পররাষ্ট্র সচিব বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন — ‘ফেনী নদীর পানি না দিলে ভারতের সাব্রুম শহর কারবালা হয়ে যেত।’ কিন্তু বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবের তো প্রথমে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ দেখার কথা। ফারাক্কার কারণে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল খরাক্রান্ত হওয়ায় লাখ লাখ মানুষের আহাজারি তাকে স্পর্শ করেনি। তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলের মরুকরণ ও লাখো মানুষের আর্তনাদ তার কানে পৌঁছে না ।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘বাংলাদেশ এলপিজি আমদানিকারক দেশ হয়ে প্রতিবেশীর প্রয়োজনে রফতানির জন্য ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত ‘ওমেরা পেট্টোলিয়াম লি. এবং বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট-১’কে লাভবান করার উদ্যোগ ব্যক্তি ও গোষ্ঠীবিশেষকে লাভবান করবে, দেশকে নয়। দেড় হাজার কিলোমিটার পথের স্থলে এখন মাত্র ২০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে এলপিজি গ্যাস ভারত পৌঁছবে। তাদের এই সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে ‘ঠাকুর শান্তি পুরস্কার’ ছাড়া আমরা কী পেলাম?’’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান প্রমুখ।

 

/এএইচআর/এপিএইচ/

লাইভ

টপ