বিএনপির কাছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

Send
আদিত্য রিমন
প্রকাশিত : ২৩:২৭, অক্টোবর ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৪০, অক্টোবর ১৪, ২০১৯

 

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

রাজপথে সক্রিয় হওয়ার প্রশ্নে বিএনপি নেতারা প্রকাশ্যে ‘ঐক্য আছে, আরও বৃহত্তর ঐক্য প্রয়োজন’ দাবি করলেও কার্যত তাদের অবস্থান ভিন্ন বলে মনে করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলের নেতারা। তাদের অভিযোগ,  বিএনপি নেতারা মুখে যা-ই বলুন, বাস্তবে ফ্রন্ট তাদের উপেক্ষার শিকার। এর রেশ দেখা গেছে রবিবার (১৩ অক্টোবর) জোটের একবছর পূর্তির দিনে আয়োজিত শোকসভা ও র‌্যালিতেও। এই কর্মসূচিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির মাত্র একজন সদস্য ছিলেন মঞ্চে। আর উপস্থিত নেতাকর্মীদের সংখ্যাও ছিল অনেক কম। শরিক দলের অভিযোগের জবাবে বিএনপি নেতারা বলছেন, জোটকে কোনোভাবেই তারা উপেক্ষা করছেন না। তবে, তারা সারাদেশে দলীয় জনসভা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ফ্রন্ট আয়োজিত শোকসভায় অংশ নিতে পারেননি।  

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে আজকের কর্মসূচি ছিল মূলত বুয়েট-শিক্ষার্থী আবরার হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে শোকসভা ও শোকর‌্যালি। একদিন আগে একই দাবিতে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে প্রতিবাদ সমাবেশ করে বিএনপি। সেই বিক্ষোভে স্থায়ী কমিটি, কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা মহানগরের নেতাকর্মীরা প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন-ব্যানার নিয়ে উপস্থিতি জানান দিলেও ঐক্যফ্রন্টের র‌্যালিতে তাদের উপস্থিতি ছিল সামান্য। উপরন্তু শনিবার (১২ অক্টোবর) পুলিশের অনুমতি ছাড়া নয়া পল্টনে সমাবেশ করলেও প্রেসক্লাবের কয়েকগজ দূরের কদমফোয়ারা পেরোতে পারেনি  ফ্রন্টের শোকর‌্যালি। অথচ ফ্রন্টের প্রায় সব শীর্ষনেতাকে নিয়ে এই র‌্যালির লক্ষ্যস্থল ছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফ্রন্ট গঠনে যেভাবে বিএনপি সক্রিয় ছিল, নির্বাচনের পর তা প্রায় শূন্যের কোঠায়। কর্মসূচি নিয়ে কয়েক মাসের অনাগ্রহ, বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অনুপস্থিতি, স্পষ্ট করে ফ্রন্টকে অবস্থান ব্যক্ত না করাসহ নানা অনুযোগ আছে শরিকদের। এসব অনুযোগের মধ্যে অবস্থান পাল্টে একাদশ সংসদে যোগ দেওয়ায় ফ্রন্ট থেকে বের হয়ে গেছেন কাদের সিদ্দিকী।

জানতে চাইলে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য অ্যাডভোটেক সুব্রত চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,  ‘সাধারণত ঐক্যফ্রন্টের সভা-সমাবেশে বিএনপির পক্ষ থেকে শীর্ষ নেতাদের দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির ড. মঈন খান আসেন। কিন্তু মির্জা ফখরুল বিদেশে থাকায় আসতে পারেননি। আর মঈন খান বোধ হয় অসুস্থ। তাই আজকের প্রোগ্রামে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এসেছেন। এছাড়া, গতকাল (১২ অক্টোবর) বিএনপিও একটি সমাবেশ করেছে, সেখান থেকে অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ কারণে হয়তো তাদের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি কম ছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকেও আমরা র‌্যালি নিয়ে কোনও ঝামেলা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতারের পরিকল্পনা ছিল, এটা আমরা জানতে পেরেছি। সব দিক বিবেচনা করে নেতাকর্মীরা শান্ত ছিলেন।’   

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐক্যফ্রন্টের একটি শরিক দলের শীর্ষ নেতা বলেন, ‘একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে যে উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে বিএনপি ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিল, নির্বাচনের পরে সেই উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়ে। তবে আমরা বিষয়টিকে এখন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। আরও কিছুদিন দেখতে চাই, ফ্রন্টে বিএনপির অবস্থানের কোনও পরিবর্তন হয় কিনা। তাদের অবস্থানের পরিবর্তন না হলে আমরা নিজেদের করণীয় ঠিক করবো।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই নেতা আরও বলেন, ‘আজকের শোকসভায় বিএনপির যেসব নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন, তারা সভা শেষে র‌্যালি শুরু হওয়ার আগে প্রেসক্লাব ত্যাগ করে চলে গেছেন। ফলে জোটের অন্য শরিকদের অল্প কিছু নেতাকর্মী র‌্যালি  নিয়ে বের হলে পুলিশ আটকে দিলেও আমরা কিছুই করতে পারিনি।’       

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ঐক্যফ্রন্টের মিটিংগুলোতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ উপস্থিত থাকতেন। কিন্তু নির্বাচনে পরে ড. খন্দকার মোশাররফ ও মওদুদ আহমদ ফ্রন্টের মিটিংসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেন। তখন এই দুই জনের জায়গায় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু মঈন খান কয়েকটি মিটিংয়ে অংশ নিলেও গয়েশ্বর চন্দ্র কোনও মিটিং বা সভা-সমাবেশে অংশ নেননি। সর্বশেষ ঐক্যফ্রন্টের ৩ বৈঠকে বিএনপির কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।

বিএনপি নেতাদের দাবি, বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে  শনিবার (১২ অক্টোবর) ও রবিবার বিএনপির জনসভা ছিল সারাদেশে।  শনিবারের সমাবেশ থেকে অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপরও আজকের ঐক্যফ্রন্টের শোক সভায় আমাদের স্থায়ী কমিটির নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন। আর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার ও দক্ষিণের নেতা ইশরাক হোসেনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘আমি ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য হয়েও আজকে প্রোগ্রামে থাকতে পারিনি।  গতকাল ও আজ সারাদেশে আমাদের জনসভা ছিল। এই কারণে আমি নওগাঁয় এসেছি। অন্য নেতারাও সারাদেশে জনসভা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে ফ্রন্টের শোকসভায় অংশ নিতে পারেননি। তাই সাময়িকভাবে কিছুটা সংকট ছিল। তারপরও আমাদের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য ছিলেন।’ তবে, ফ্রন্টের সামনের সভা-সমাবেশগুলোয় বিএনপির উপস্থিতি ব্যাপক হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।  

/এসটিএস/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ