মেননের বক্তব্যে বিব্রত নয় ১৪ দল: নাসিম

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৪:৫৮, অক্টোবর ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫৩, অক্টোবর ২২, ২০১৯

গোল টেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখছেন মোহাম্মদ নাসিম

নির্বাচন নিয়ে শরিক দল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বক্তব্যে ১৪ দল বিব্রত নয় বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, ‘কোনও একক ব্যক্তির বক্তব্যে ১৪ দল বিব্রত হবে কেন? এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে করা আদর্শিক জোট।’ তবে জোটের বৈঠকে রাশেদ খান মেননের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে বলে জানান নাসিম।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের ওপর মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) ১৪ দল আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

নাসিম বলেন, ‘জোটের বৈঠকে এ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। তারপর করণীয় ঠিক করা হবে।’

তবে বৈঠকে রাশেদ খান মেনন উপস্থিত ছিলেন না। এ বিষয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, তার পার্টির সেক্রেটারি এসেছেন। তিনি কেন আসেননি, তা আমি বলতে পারবো না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম মাহবুবের মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, একটি মহল স্বাধীনতার পর জাতির স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে, তারা দেশের স্বার্থ বিলিয়ে ভারতের সঙ্গে চুক্তি করা হচ্ছে বলে জিকির তুলে আসছে। কিন্তু তারা বারবার ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের করা কোনও চুক্তিই কিন্তু বাতিল করেনি। এতে প্রমাণ হয় এটা অপপ্রচার বই কিছু না।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, বিএনপি ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের এ দেশে আশ্রয় দিয়ে, অস্ত্রের ট্রেনিং দিয়ে, তাদের জন্য দশ ট্রাক অস্ত্র এনে ভারতের কাছে মাফ চেয়েছে। তারা সুসম্পর্ক তৈরি করতে পারেনি বলে আমরা সুসম্পর্ক রাখবো না?

অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, বিরোধী মহলের কাছে ভারত বিরোধিতা তুরুপের তাস। তারাই ক্ষমতায় থাকলে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করে। সুতরাং তাদের এসব বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়ার কোনও কারণ নেই।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে যেসব সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে তা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক।

বৈঠকে উপস্থিত ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ দেখার পাশাপাশি ভারতের মতো প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ধরে রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ পেতেই পারেন।

গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন— সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশের জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, গণআজাদী লীগের সভাপতি এস কে শিকদারসহ শরিক দলের অন্য নেতারা। এছাড়া আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, অধ্যাপক এ আরাফাত বৈঠকে বক্তব্য রাখেন।

/এমএইচবি/টিটি/এপিএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ