শহীদ মিনারে খোকাকে সর্বজনের শ্রদ্ধা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:০১, নভেম্বর ০৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫৫, নভেম্বর ০৭, ২০১৯

 শহীদ মিনারে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকাকে সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাও এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মুক্তিযোদ্ধা খোকার মরদেহ শহীদ মিনারে আনা হয়। দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে তাকে শ্রদ্ধা জানাতে নামে মানুষের ঢল।

খোকাকে শেষ শ্রদ্ধা জানায় গণফোরাম, সিপিবি, এলডিপি, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ জাসদ, বাসদ, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, গণসংহতি আন্দোলন, মনোবিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, জাগপা, তাঁতী দল, জাতীয় হিন্দু মহাজোট, ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, ছাত্র ইউনিয়ন, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল, বাংলাদেশ যুব সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন।

শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি অনেকে এই মুক্তিযোদ্ধার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সফলতার কথাও তুলে ধরেন। আবার কেউ কেউ সাদেক হোসেন খোকাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট না দেওয়ায় সরকারের সমালোচনা করেন।

শ্রদ্ধা জানিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘বিভিন্ন আন্দোলনে ঢাকার রাজপথে খোকার সহযোদ্ধা ছিলাম। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের উদ্দেশে বুক পেতে দিয়ে খোকা বলেছিলেন, গুলি করো, আমার এখানে গুলি করো। তার জোরালো কণ্ঠের ফলে পুলিশ তখন ভয় পেয়ে গিয়েছিল। বাবরি মসজিদ ভাঙার পর পুরান ঢাকায় হিন্দুদের বাড়িঘর, মন্দির রক্ষাতেও তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘যে দেশের জন্য তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, তার পাসপোর্টের জন্য তাকে দূতাবাসে ধরনা দিতে হয়েছে। সেটা কি প্রমাণ করে না, আমরা কি সম্মান তাকে দিয়েছি? সাদেক হোসেন খোকার শেষ ইচ্ছা ছিল, যে দেশ তিনি স্বাধীন করেছেন, সে দেশের আলো-বাতাস, পশু-পাখির সুন্দরের মধ্যে তার শেষ নিঃশ্বাস নেবেন। তাকে বিদেশি নাগরিকের মতো ট্রাভেল ভিসায় দেশে আনা হয়েছে, এটা তো আমাদেরই আক্ষেপ হওয়া উচিত।’

 সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে ইশরাক হোসেন বলেন, “আজ আমি দেখলাম, দল-মত নির্বিশেষে এখানে সবাই একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন, যা একটি অনুকরণীয় বিষয়। আমি তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হয়ে কিছু কথা বলতে চাই। আজ আমরা ভুক্তভোগী, আমার বাবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। গত পাঁচ বছরে আমি বাবার সঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছি। তিনি সব সময় আমাদের বলতেন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু আজ আমরা দেখছি, দেশে হানাহানির রাজনীতি চলছে। যেটাকে বলে ‘পলিটিক্স অব অ্যানাইমেশন’। এই রাজনীতির জন্য আমার বাবা দেশকে স্বাধীন করেননি।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে ইশরাক বলেন, ‘আপনি আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার জামিনের যে বাধাগুলো রয়েছে সেগুলো এবং প্রশাসনিক হ্স্তক্ষেপ দূর করুন। আপনার (শেখ হাসিনা) আশপাশে যেসব স্বার্থবাজ আছেন, তাদের বাদ দিয়ে একান্তে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলুন। কথা বলে দেশের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা ঠিক করে দিয়ে যান। কারণ আমরা নতুন প্রজম্ম চাই না, আমাদের পরিবারের মতো আরেকটি পরিবার বা অন্যসময় আাওয়ামী লীগের কোনও পরিবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হোক।’

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর, চিত্রনায়ক উজ্জ্বল প্রমুখ।

 এরআগে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাদেক হোসেন খোকার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বাদ এশা জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ২৬ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় এই মুক্তিযোদ্ধার কফিন।

 

আরও পড়ুন:
সংসদ ভবনে খোকার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত

খোকার মরদেহে মেয়র আতিকের শ্রদ্ধা

 

/এসআইআর/ এএইচআর/টিটি/

লাইভ

টপ