behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

শনিবার জমিয়তের কাউন্সিল: আসছে বড় পরিবর্তন!

সালমান তারেক শাকিল ও চৌধুরী আকবর হোসেন।।১৯:৩৯, নভেম্বর ০৬, ২০১৫

জমিয়তের কাউন্সিলবড় ধরনের পরিবর্তন আসছে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের। শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর আজিমপুর এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দলটির কাউন্সিল। আর এই ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলে দলটির সভাপতি ও মহাসচিব পদসহ বেশ কিছু পদে পরিবর্তন আসতে পারে। এরই মধ্যে দলের সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মহাসচিব পদ নিয়ে লবিং শুরু হয়েছে।  দলের একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে ২৪ বছর ধরে থাকা মাওলানা মুফতি ওয়াক্কাছের মহাসচিব পদে পরিবর্তন হবে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের সময়ের এই ধর্মমন্ত্রী ১৯৯১ সালে জমিয়তের মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন। পাশাপাশি বর্তমান নির্বাহী সভাপতি আরজাবাদ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মোস্তফা আজাদও পদান্তরিত হতে পারেন।

জানতে চাইলে মাওলানা মুফতি ওয়াক্কাছ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আজ নির্বাহী পরিষদের বৈঠক হবে। এরপরেই সিদ্ধান্ত আসবে। পরে শনিবার কাউন্সিলের মাধ্যমে জানানো হবে।

মহাসচিব পদ থেকে সরে পড়তে কোনও চাপ আছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে মুফতি ওয়াক্কাছ বলেন, না, এমন চাপ নেই। দল যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমি তাই মেনে নেব।

জমিয়তের একাধিক শীর্ষ দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এক বছরের বেশি সময় ধরে জমিয়তের মহাসচিব পদ নিয়ে জটিলতা চলছে। এ নিয়ে তিনটি গ্রুপে লবিংও চলছিল। একটি গ্রুপের চেষ্টা ছিল, বর্তমান সহ-সভাপতি ও প্রভাবশালী নেতা, হেফাজতের ঢাকা মহানগর আমির মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীর জামাই মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়াকে মহাসচিব করার। মাওলানা বাহাউদ্দীন আরজাবাদ মাদ্রাসার সাবেক প্রিন্সিপাল মাওলানা শামসুদ্দিন কাসেমীর ছেলে। বয়স বিবেচনায় এই গ্রুপের লবিং শেষ পর্যন্ত মাঠে টেকেনি। পরবর্তী সময়ে মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী নিজেই মহাসচিব হতে নিজের পছন্দ অনুসারীদের জানিয়ে দেন।

অন্য একটি গ্রুপ হচ্ছে জমিয়তের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহীনূর পাশা চৌধুরীর পক্ষে। সিলেট জমিয়তের একটি বড় অংশ তাকে মহাসচিব হিসেবে দেখতে আগ্রহী। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শাহীনূর পাশা চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মহাসচিব বিষয়ে সিদ্ধান্ত কাউন্সিলেই হবে। আপনার মহাসচিব হওয়ার ইচ্ছা আছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এখন নির্বাহী পরিষদের  বৈঠক চলছে। পরে কথা বলি।

তৃতীয় গ্রুপটি এখনও মাওলানা ওয়াক্কাছকেই মহাসচিব হিসেবে দেখতে মরিয়া। জমিয়তের কয়েকজন নেতা জানান, মাওলানা ওয়াক্কাছ রাজনৈতিক-প্রাজ্ঞ মানুষ। তিনি নিজে মন্ত্রী ছিলেন। কয়েকবার জেল খেটেছেন। এখন দেশ ও জাতির ক্রান্তিকালে তাকে সরিয়ে দিলে পরীক্ষিত নতুন নেতা পাওয়া কঠিন।

সূত্র জানায়, শুক্রবার সন্ধার পর রাজধানীর বারিধারা মাদ্রাসায় মজলিসে আমেলার (নির্বাহী পরিষদ) বৈঠক শুরু হবে। ওই বৈঠকেই মহাসচিব পদটি চূড়ান্ত করা হবে। পাশাপাশি নির্বাহী সভাপতি হিসেবেও নতুন কাউকে দেখা যেতে পারে। এ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

শুক্রবার বিকালে বারিধারা মাদ্রাসা থেকে মোবাইলে একজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, মূলত সংকট দুটি পদ নিয়ে। একটি মহাসচিব ও দ্বিতীয়টি নির্বাহী সভাপতি। হতে পারে মহাসচিব হিসেবে মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী ও নির্বাহী সভাপতি হিসেবে মুফতি ওয়াক্কাছই চূড়ান্ত হতে পারেন। তবে মহাসচিব পদ নিয়ে একমত হলেও বর্তমান নির্বাহী সভাপতি মোস্তাফা আজাদকে সরিয়ে নূর হোসাইন কাসেমীকে এ পদে রাখা হতে পারে।সেক্ষেত্রে মোস্তফা আজাদকে সহ-সভাপতি করা হতে পারে।

সূত্র মতে, জমিয়তে ইসলামের সভাপতি পদে কোনও পরিবর্তন আসছে না। বর্তমান সভাপতি আল্লামা হোসাইন আহমদ মাদানীর খলিফা শায়খ আবদুল মোমিন এ দায়িত্বে আছেন। সিনিয়র আলেম ও মাদানীর খলিফা হওয়ায় সম্মাজনকভাবে তাকে এ পদে রাখা হয়েছে। যদিও প্রশাসনিক দায়িত্ব সবটুকু মহাসচিব ও নির্বাহী সভাপতিই পালন করে থাকেন।

/এমএনএইচ/

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ