behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

স্থানীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ার চিন্তা জামায়াতের!

সালমান তারেক শাকিল।।১৯:১০, অক্টোবর ১৩, ২০১৫

জামায়াত-ই-ইসলামী লোগোস্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় পরিচয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকলেও স্বতন্ত্র পরিচয়ে দলীয় প্রার্থী দেবে জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন স্থগিত থাকায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। তবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও ইতিবাচক চিন্তা-ভাবনা চলছে বলে জামায়াতের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে নিজেদের মধ্যে অালোচনা করেছে জামায়াত। এক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটিও গঠন করেছে দলটি। দলীয় ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ডা. শফিকুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এ কমিটিতে নায়েবে অামির মাওলানা অাবদুল হালিম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, মহানগর সেক্রেটারি সেলিম উদ্দিন, ড. রেজাউল করিমসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা রয়েছেন।

পরিচয় গোপনের শর্তে জামায়াতের একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানান, স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নিতে বরাবর উৎসাহী। এতে ‌‌নেতিবাচক হলে জনপ্রতিনিধিদের বিরূপ প্রভাব পড়বে। তবে দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচন হলে সরকার ফায়দা নেবে বেশি। এতে করে সরকারদলীয় প্রার্থীরা প্রশ্নহীন সুবিধা পাবে।

প্রসঙ্গক্রমে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় সরকারের সব স্তরে দলীয় প্রতীক ও দলীয় মনোনয়নের ভিত্তিতে নির্বাচন করার জন্য যে সিদ্ধান্ত মন্ত্রিপরিষদে গ্রহণ করা হয়েছে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও দুরভিসন্ধিমূলক। জামায়াত নেতা বলেন, দলবাজি ষোলকলায় পরিপূর্ণ করে অঘোষিত বাকশাল কায়েমের নীল-নক্শা থেকেই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাতিল করে সবার আগে সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদের নির্বাচন প্রদান করার জন্য আমরা আবারও জোর দাবি জানাচ্ছি।

সূত্রগুলো দাবি করেছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও কেন্দ্র থেকে পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে বিগত ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনের ফলাফলের কারণে অাগ্রহ তৈরি হয়েছে। ওই নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ৩৪ জন সমর্থিত প্রার্থী, ১৩৪ জন পুরুষ ভাইসচেয়ারম্যান ও ৪৫টির বেশি নারী ভাইসচেয়ারম্যান পদে দলটির সমর্থিতদের বিজয়ী করতে সক্ষম হয়েছিল জামায়াত। এবার পৌরসভা ও অাগামী দিনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও ‘ভাল’ ফলাফল অাশা করছে দলটি। তবে দলীয় নেতাকর্মীদের অানুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশ দেওয়ার অাগে বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার হতে চায় জামায়াত। মঙ্গলবার পর্যন্ত বিএনপি দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিরোধিতা করে এসেছে।

জানা গেছে, দলীয়ভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে জামায়াতকে কোণঠাসা করাই সরকারের পরিকল্পনা হিসেবে কাজ করেছে। সেক্ষেত্রে বাংলা ট্রিবিউনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জামায়াতকে জন প্রতিনিধিহীন করে তোলা দলীয় ব্যানারে স্থানীয় নির্বাচনের অন্যতম কারণ। স্থানীয়ভাবে জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করা গেলে জাতীয়ভাবেও নির্মূল করা সম্ভব হবে দলটিকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতোমধ্যে তৃণমূলে যোগাযোগ শুরু করেছেন জামায়াতের জেলা দায়িত্বশীলেরা। হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার একটি ইউনিয়নের জামায়াতের এক নেতা জানান, তাকে জেলা অামির মুখলেসুর রহমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে অনুমতি দিয়েছেন। সূত্রমতে, মাধবপুর উপজেলায় পৌরসভা নির্বাচনে উপজেলা অামির অাবদুশ শহীদ প্রার্থিতা করবেন স্বতন্ত্র পরিচয়ে।

এছাড়া বি-বাড়িয়া জেলার অামির খাদেমুল ইসলামও পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য দলীয় প্রার্থী বাছাই করবেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অাকাঙ্ক্ষা থাকায় তিনি নিজে শহর পৌরসভায় প্রার্থিতা করবেন না। এ কারণে বিকল্প প্রার্থী খুঁজছেন কেন্দ্রের পরামর্শে।

জানা গেছে, কুমিল্লা শহরের সদর দক্ষিণের ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম অাগামী স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থিতা করার নির্দেশনা পেয়েছেন। চাঁদপুর-হাজীগঞ্জ পৌরসভায় নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা পেয়েছেন বুরহান উদ্দিন। রাজধানীতে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত এ নেতা এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অাশা প্রকাশ করেছেন। তবে দলের অনুমতি পেলেই তিনি প্রার্থিতা করবেন। লক্ষ্মীপুর জেলার একটি ইউনিয়ন নির্বাচন করতেন মিজানুর রহমান নামে এক জামায়াত নেতা। তিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জেলা জামায়াত সূত্রে জানা গেছে।

জেলা পর্যায়ের কয়েকজন নেতা জানান, কেন্দ্র থেকে পরিষ্কার ও সুস্পষ্ট কোনও নির্দেশনা এখন পর্যন্ত না দেওয়ায় প্রকাশ্যে এখনও কোনও কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছেন না তারা। এমনকি অানুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায়ও অাসছেন না সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রার্থীরা।

জামায়াতের মহানগর এক নেতার সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান ও ২০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্তের ওপর জামায়াতের দৃশ্যত অবস্থান নির্ভর করছে। দলীয়ভাবে শেষপর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে গেলে, সেটা জোটগতভাবে হবে নাকি দলীয় হবে; জামায়াতকে দলীয় প্রতীক দেওয়া হবে কি না, সেটি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়নি।

এই সূত্রের দাবি, দলীয় বা জোটগত হলেও বিপাকে পড়তে হবে জামায়াতকে। যেহেতু নির্বাচন কমিশনে দলীয় নিবন্ধন স্থগিত, সে কারণে শেষপর্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নিজেদের প্রার্থীদের পরিচয় দিতে হবে। এরপর বিএনপি কয়টি এলাকা জামায়াতকে ছাড়বে, সে প্রশ্ন এখনও অাছে। পাশাপাশি সরকার ও অাইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অাচরণ নিয়ে দলটির প্রশ্নও তো রয়েছেই।

এ প্রসঙ্গে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা চেয়ারম্যানরা স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করে স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীদের যে বিজয়ী ঘোষণা করবে এতে কোনও সন্দেহ নেই। সরকারি দলের নেতারা রিটার্নিং অফিসারের ওপর অবাঞ্ছিত চাপ প্রয়োগ করে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করবে। এমনকি আওয়ামী লীগের লোকেরা পুলিশ প্রশাসনকে অবৈধভাবে ব্যবহার করে বিরোধী দলের প্রার্থীদের গ্রেফতার করে নির্বাচনে প্রার্থী হতে দেবে না।

এসব বিষয়ে জানতে চেয়ে জামায়াতের প্রচার বিভাগের দায়িত্বশীলদের একাধিক নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও তাদের সেলফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

/এএইচ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ