behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

আওয়ামী লীগ কঠোর, বিদ্রোহীরা অনড়

পাভেল হায়দার চৌধুরী০৭:২৫, ডিসেম্বর ১১, ২০১৫

পৌর নির্বাচন-আ.লীগপৌর নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার নিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্র যতই হুঁশিয়ারি দিক, সেটা আমলে নিচ্ছে না বিদ্রোহী প্রার্থীরা। কেন্দ্রীয় নেতারা যতই কঠোর অবস্থানের কথা জানাচ্ছেন, ততই যেন আরও অনড় অবস্থানে যাচ্ছেন তারা। বিদ্রোহীদের এক কথা- দল যত শাস্তিই দিক, নির্বাচনের মাঠে আছি।
বেশিরভাগ বিদ্রোহী প্রার্থীর অভিযোগ- মনোনয়ন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়নি। জেলার নেতারা প্রার্থী নিয়ে সঠিক তথ্য কেন্দ্রে পাঠায়নি। মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছে যোগ্যরা।
বিদ্রোহীদের সরে দাঁড়াতে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে গত বুধবার রাতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয় বিদ্রোহীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন যারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি এবং করবেন না বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন।

রাঙ্গামাটি সদর পৌরসভার বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও একাধিকবার নির্বাচিত মেয়র হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, যত বাধাই আসুক ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাঠে থাকব। তিনি বলেন, রাঙ্গামাটি পৌরসভায় জনগণের প্রত্যাশিত প্রার্থী আওয়ামী লীগ দেয়নি। প্রার্থী সম্পর্কে রাঙ্গামাটি জেলার দায়িত্বশীল নেতারা কেন্দ্রে সঠিক তথ্য পাঠায়নি। এতে সদর পৌরসভায় যোগ্য প্রার্থী দিতে ব্যর্থ হয়েছে আওয়ামী লীগ। হাবিব বলেন, ‘জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। এখানে দুবার মেয়র হয়েছি। অতীতে অরাজনৈতিক ভোটারও আমাকে নির্বাচিত করেছে। এবারও তারা আমার সঙ্গে আছে।’ উল্লেখ্য, এখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা যুবলীগের সভাপতি আকবর হোসেন চৌধুরী।

ভোলার দৌলতখান পৌরসভার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আলমগীর হোসেন। তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। কেন্দ্রের আল্টিমেটাম প্রসঙ্গে আলমগীর বলেন, ‘পৌরসভার দলের সবাই আমাকে প্রার্থী হিসেবে গ্রহণ করেছে। সুতরাং দল ব্যবস্থা নিলেও আমি নির্বাচন করব। ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাঠে থাকব। আমি আইনকে শ্রদ্ধা করি।’ জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী মন্তব্য করে আলমগীর বলেন, ‘আমি এলাকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারব না। তাই শাস্তির চিন্তা করছি না। এখানে দলের প্রার্থী জাকির হোসেন তালুকদার।’

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থী শওকত আকবর। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। প্রত্যাহার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনি লড়াইতে আছি। শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব। এখানে দল মনোনয়ন দিয়েছে আনোয়ার হোসেনকে। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ঘনিষ্ট আত্মীয়।    

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ মো. হাসু। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন কিনা জানতে চাইলে হাসু বলেন, আমি আওয়ামী লীগের আদর্শে বিশ্বাস করি। দলের কর্মীও। তবে আমি কোনও পদে নেই। সুতরাং আওয়ামী লীগ আমার বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নিতে পারে না। এখানে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল কাইয়ুম খোকনকে।  

সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজুল জাব্বার চৌধুরী। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এখানে আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম রাবেল। আল্টিমেটাম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিরাজুল জাব্বার বলেন, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইনি। আমাকে বিদ্রোহী প্রার্থী বলবেন না।

এদিকে বিদ্রোহীদের অনড় অবস্থান পাওয়া গেলেও আওয়ামী লীগ বলছে ভিন্ন কথা। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে দলের হয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, পৌর নির্বাচনে দলের অর্ধেক বিদ্রোহী প্রার্থী ইতিমধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিদ্রোহীদের কাছে ইতিমধ্যে একটি মেসেজ দিয়েছি। যদি প্রত্যাহার না করে পরে আরও কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

তবে বিদ্রোহীদের দমাতে সরল স্বীকারোক্তি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজি জাফরউল্যাহ। তিনি বলেন, বিদ্রোহী থামাতে শত চেষ্টা করা হলেও শতভাগ প্রার্থী বসে যাবে আমি তা মনে করি না। তবু চেষ্টা চলছে, দেখা যাক।

 

/এফএ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ