behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

বিএনপির ‘আন্দোলন’র ট্রাম্পকার্ড পৌর নির্বাচন

সালমান তারেক শাকিল০২:২৭, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৫

 

আসন্ন ৩০ ডিসেম্বর পৌরসভা নির্বাচনকে পরবর্তী বছরে আন্দোলনের ইস্যু হিসেবেই দেখছে বিএনপি। পৌর নির্বাচনে ‘সরকারের’ পক্ষ থেকে ‘ভোট জালিয়াতি, কারচুপি’ ও পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের ‘বিজয় ঠেকানো’ হলে ভোটের দিন থেকেই কর্মসূচি দেবে দলটি। এ কারণে পৌর ভোটের শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পাশাপাশি দলের সিনিয়র নেতাদের নিজ নিজ এলাকায় যাওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

NUR_9623

শনিবার রাতে গুলশানে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে নীতি নির্ধারণী এ সিদ্ধান্তের কথা জানান খালেদা জিয়া। বৈঠকে অংশ নেওয়া অন্তত সাতজন নেতার সঙ্গে আলাপকালে এসব বিষয় জানা গেছে। শনিবার রাত সোয়া দশটায় বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার তিনি স্থায়ী কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

নতুন বছরে বিএনপির ট্রাম্পকার্ড পৌরসভা নির্বাচন

এ বছর শেষ হওয়ার একদিন আগে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে খালেদা জিয়া এ নির্বাচনের পক্ষে দলের নেতাদের কাজ করতে সর্বোচ্চ নির্দেশনা দিয়েছেন। বৈঠক সূত্র জানায়, পৌর নির্বাচনে বিএনপি যাওয়ার কারণ হচ্ছে, তৃণমূলে ধানের শীষের পরিস্থিতি কি, তা পরিষ্কার হওয়ার জন্য। সরকারের উদ্দেশ্য জানা না গেলেও খালেদা জিয়া বলেছেন, ধানের শীষের জনপ্রিয়তা এখন কোনও পর্যায়ে সেটি বেরিয়ে আসবে।

সূত্রের দাবি, খালেদা জিয়া এটাও বলেছেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে যদি জোর করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে জেতানো, কারচুপি, কেন্দ্র দখল, ভোট জালিয়ালিতসহ স্বচ্ছ নির্বাচন ব্যহত করে এমন কর্মকাণ্ড সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে এই বিষয়গুলোকেই পরবর্তী আন্দোলনের ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করবে বিএনপি। এক্ষেত্রে ফলোআপ কর্মসূচি, কি ধরনের কর্মসূচি এবং কোন দিন থেকে দেওয়া হবে তা নিয়ে শীর্ষনেতাদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেবেন খালেদা জিয়া।

এ ব্যাপারে বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন সাংগঠনিক সম্পাদক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রতিবাদ কর্মসূচি থাকবে। তবে কি কর্মসূচি থাকবে, তা এখনও আলোচনা করেননি ম্যাডাম।

এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার একজন প্রভাবশালী উপদেষ্টা বলেন, ভোট কারচুপি হলে, কেন্দ্র দখল করলে সারাদেশে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হবে। তবে প্রতিবাদ যেন সহিংস না হয়, এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এক কথায় বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না।

সূত্র জানায়, বিজয়ের লক্ষ্যেই পৌরসভা নির্বাচনে যাচ্ছে বিএনপি। মাটি কামড়ে এলাকায় পড়ে থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সরকারের কৌশল সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য না পেলেও ধানের শীষ মার্কা হিসেবে প্রায় আট বছর পর নির্বাচনে যাচ্ছে। এ কারণে গণতান্ত্রিক দল হিসেবে নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে দলের নেতারাও আগেই খালেদা জিয়াকে জানিয়েছিলেন। এ বিষয়ে কার্যালয়ের সামনে দীর্ঘক্ষণ বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেন বৈঠকে অংশ নেওয়া ভাইস চেয়ারম্যান হারুন আল রশীদ। তিনি বলেন, ম্যাডাম দেশে আসার পর সিনিয়র কয়েকজন নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। ওই বৈঠকেই আমরা নির্বাচনে যাওয়ার পরামর্শ দিই। কারণ, দীর্ঘদিন নির্বাচনবঞ্চিত মানুষের কাছে ধানের শীষের অবস্থান বুঝার জন্য এর চেয়ে বিকল্প কিছু নেই। আর আমাদের আন্দোলন তো চলমান আছে। দেখা যাবে পৌর নির্বাচনের পর জানুয়ারিতেই কিছু ঘটবে।

প্রসঙ্গত, আগামী ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের দুই বছর পূর্তি হবে। গত বছর বিএনপি দিনটিতে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল।

প্রশাসন-মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর তাগিদ খালেদার

বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন নেতা জানান, খালেদা জিয়া প্রায় ৪০ মিনিট বক্তব্য রাখেন।  পৌর নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তিনি বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে বলেছেন বৈঠকে। এক পর্যায়ে নেতাদের আসন্ন পৌর নির্বাচন উপলক্ষে প্রশাসন, মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং বর্তমান যোগাযোগ আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেন খালেদা জিয়া।

সূত্রমতে, উপস্থিতিদের মধ্যে সিনিয়র প্রায় সব নেতারা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। কয়েকজন নেতা কয়েকটি পরামর্শও উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, পৌরসভা নির্বাচন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মনিটরিং করা। নিয়মিত বিরতি দিয়ে পৌরসভার তথ্য মিডিয়াকে জানানো। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্রিফিং করা। এ বিষয়গুলো পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার বক্তব্যেও উঠে আসে।

বৈঠকের শুরুতে মির্জা ফখরুল সামগ্রিক অবস্থা সংক্ষেপে তুলে ধরেন। এরপর যুগ্ম মহাসচিব ও পৌর নির্বাচনী সমন্বয় কমিটির প্রধান মুহা.শাজাহান মনোনীত প্রার্থীদের বিষয়ে কথা বলেন। তিনি তার বক্তব্যে জানান যে, বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে অনেককেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে যারা অযোগ্য। তবে সময় স্বল্পতা, নির্বাচন কমিশনের দ্রুত তফসিল ঘোষণাসহ নানা কারণে অনেক যোগ্য, ত্যাগী নেতারা মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন বলেও শাহজাহান জানান। তবে তিনি এটাও বলেন যে, পরবর্তীতে বঞ্চিতদের দলীয় কমিটিসহ নানা বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

মো. শাহজাহানের বক্তব্যের পর সাত বিভাগীয় দায়িত্বশীল সাংগঠনিক সম্পাদকরা নিজেদের এলাকার পরিস্থিতি বর্ণনা করেন। তাদের বক্তব্যে বড় ধরনের কোনও অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি।

শেষ দিকে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের আগে আবার মির্জা ফখরুল বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, কেন্দ্র থেকে দ্রুতই মনিটরিং টিম করা হবে। সাংগঠনিক সম্পাদকরা এসব টিমের উপর জোর দিবেন। প্রার্থীদের বিষয়ে খোঁজখবর নেবেন। এরপর খালেদা জিয়া বক্তব্য দেন। এক সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, তিনি প্রায় ৩৫-৪০ মিনিট বক্তব্য দেন।

সিনিয়র নেতার নিজ নিজ এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ

পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষে প্রচারণায় নামতে সিনিয়র নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন খালেদা জিয়া।  এ বিষয়ে উপদেষ্টা আহমেদ আযম খান বলেছেন, পৌরসভা নির্বাচনের জন্য সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে কাজ করার কথা বলেছেন ম্যাডাম জিয়া। আর সিনিয়র নেতারা এলাকায় গেলে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হবে। সাধারণ মানুষ সাহস পাবে নেতাকে পাশে পেয়ে।

এ তথ্য জানান আরেক উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, কাজ করতে বলা হয়েছে। নির্বাচনের বিষয়ে ম্যাডাম খুবই ইতিবাচক। সবাইকে মাঠে নামতে বলেছেন।

বিজয়ের লক্ষ্যে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন ম্যাডাম-এমন কথাই জানালেন দলের সিলেট বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন। তিনি বলেন, পৌরসভা নির্বাচনে ম্যাডাম ভাল ফলাফল আশা করেন। সে অনুযায়ী আমাদের কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

জামায়াত নিয়ে ভাবছে না বিএনপি

পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াতের স্বতন্ত্র পরিচয়ে প্রার্থীদের জন্য ভাবছে না বিএনপি। বৈঠকে এ নিয়ে দু’একজন কথা তুললেও খালেদা জিয়া বিষয়টিকে মনোযোগ দেননি। গত দুদিনে নানা ধরনের কথা কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও হারুন আল রশীদ মনে করেন, এগুলো গসিপ। জামায়াতের সঙ্গে অ্যালায়েন্স আছে। তাই বলে কি সব কিছুতেই ভাবতে হবে নাকি। এ বিষয়ে ম্যাডাম কোনও কিছু বলেননি।

যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান বলেন, এগুলো সমস্যা না। কেন্দ্রীয়ভাবে এসব বিষয়ে কোনও সমস্যা নেই। তৃণমূলে বলে দেওয়া আছে, স্থানীয়ভাবেই সমঝোতা হবে।

উপদেষ্টা শাসুজ্জামান খান দুদু বলেন, এ সংক্রান্ত কোনও আলোচনা হয়নি।

এছাড়া খালেদা জিয়া পৌর নির্বাচনের প্রচারণায় নামার কথা থাকলেও এ নিয়ে আজকের বৈঠকে কোনও আলোচনা হয়নি বলে জানান আহমেদ আযম খান। তিনি বলেন, সত্যিই এ নিয়ে কোনও আলোচনাই হয়নি। বিষয়টি উত্থাপিতও হয়নি।

/এএ/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

IPDC  ad on bangla Tribune
টপ