behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

বন্ধ কেন্দ্রীয় ও মহানগর কার্যালয়৫ বছর ধরে অফিসে নেই জামায়াত

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট১০:৩৯, জানুয়ারি ২০, ২০১৬

৫ বছর ধরে ফেরারি জামায়াতে ইসলামী। একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দলটি গত ৫ বছরে নিজেদের মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও ঢাকা মহানগর কার্যালয়ে অফিস করতে পারছে না। ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জামায়াতের দু’টি কার্যালয়েই তালা ঝুলিয়ে দেয় পুলিশ। তখন থেকে অদ্যাবধি নিজেদের কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেনি দলটির নেতাকর্মীরা। এরই মধ্যে পুলিশের কয়েক দফা তল্লাশিও হয়েছে।

সরেজমিনে দুটো কার্যালয়ের পরিবেশই ভূতুরে দেখা গেছে। দু’একজন কেয়ারটেকার ছাড়া কার্যালয় দু’টিতে মাকড়সা, ধুলোবালি জমে উঠেছে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ গেটে তালা থাকায় ভেতরের পরিবেশ জানা যায়নি।

কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় কথা হয় গার্ড মুহাম্মদ আলীর সঙ্গে। তিনি জানান,২০১১ সালে ১৯ সেপ্টেম্বর অফিস বন্ধ হওয়ার পর কোনও নেতা-কর্মী আসেননি। কারও নামে কোনও চিঠিপত্র এলে দলের পিয়ন এসে সেগুলো সংগ্রহ করে। চারতলা এ কার্যালয়ের নিচে দলের গাড়ির একটি গ্যারেজ থাকলেও তা অনেকদিন ধরে অব্যবহৃত।

কাছাকাছি অবস্থা পুরানা পল্টনে অবস্থিত জামায়াতের মহানগর কার্যালয়ের।ভবনটির নিচতলার একপাশ পুরোপুরি বন্ধ।এমনকি অফিসটিতে প্রবেশের প্রধান দ্বারটিও এখন নেই। পাশেই নতুন একটি ভবনের নির্মাণ কাজ চলায় এই ভবনের প্রধান গেটটি আড়ালে পড়ে গেছে। সিকিউরিটি গার্ডরা নতুন ভবনের ভেতর দিয়েই চলাফেরা করেন।

ভবনের নিচতলায় পূর্ব পাশে দু’জন সিকিউরিটি গার্ড আছেন। অনেকটা অনিয়মিতভাবে বেতন-ভাতা পান তারা। আলাপকালে দু’জনই নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। দোতলায় মহানগর কার্যালয়ের আইটি রুম,হিসাব বিভাগসহ সবগুলো কক্ষেই পুলিশের অভিযানের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রত্যেকটি রুমের মালামাল অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে ধুলোবালির আস্তরণ পড়েছে সেগুলোর ওপর। ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ও মহানগর কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান চালানো হয়েছিল। ওই সময় দলটির ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ অভিযোগ করেছিলেন, ১৯ তারিখ রাতে ২ দফা জামায়াতের কেন্দ্রীয় অফিসে পুলিশের তল্লাশির নামে সংগঠনের কম্পিউটার, ফাইলপত্রসহ অফিসের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর, লুটতরাজ করেছে।

মহানগর কার্যালয়ের পাশে জামায়াতের অনুজ সংগঠন ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। এ ভবনের চারটি ফ্লোর তাদের ভাড়ায় থাকলেও বর্তমানে মাত্র একটি ফ্লোর রয়েছে। বাকি তিনটির ভাড়া ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিদ্দিক জানান,ওই ভবনে কেবল ছাত্রশিবির নয়,অনেক আবাসিক ফ্ল্যাট রয়েছে। তাই কিছুটা কোলাহল আছে।

কার্যালয় বন্ধের বিষয়ে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপ হয়েছিলো জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে। তিনি জানান কার্যালয় বন্ধের কারণে জামায়াতের অবশ্যই সমস্যা হচ্ছে। তার মতে, জামায়াত কোটি মানুষের দল।সেন্ট্রাল ও সিটি অফিস বন্ধ থাকলে সমস্যা তো হবেই। তবে জামায়াতের প্রত্যেক কর্মীর বাসাই জামায়াতের অফিস।আমরা এখন সেখানেই কাজ করি।

জামায়াতের মহানগর পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ৫ বছর ধরে বড় দুটি অফিস ব্যবহার করতে না পারলেও ক্যাডারভিত্তিক দল হওয়ায় সাংগঠনিক কাজ করতে বড় কোনও সমস্যা পোহাতে হচ্ছে না দলটিকে।জামায়াত-শিবিরের প্রত্যেক নেতাকর্মী প্রশিক্ষিত। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে সংকটে পড়তে হচ্ছে না। তাছাড়া,ঢাকা মহানগরের প্রায় প্রতিটি থানাতে জামায়াতের অফিস আছে ছদ্মনামে।

২০১২ সালের আগস্টে কেন জামায়াতের অফিস খুলে দেওয়া হবে না- এ মর্মে  হাইকোর্ট সরকারের প্রতি রুল জারি করেছিলেন। এ বিষয়েও কথা হয় জামায়াতের নেতা ডা. তাহেরের সঙ্গে। তার দাবি, কোর্ট থেকে স্টে অর্ডার দেওয়ার পরও সরকার কোনও জবাব দেয়নি। তাই বাধ্য হয়েই বাইরে কাজ করছি। বাইরে কোথায় কাজ করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের নেতা-কর্মীদের বাসায়, এছাড়া উপায় নেই।

দফায় দফায় তল্লাশি: দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগর অফিসে ২০১৩ সালের ২৩ অক্টোবর তল্লাশি চালায় পুলিশ। রাজধানীর বড় মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ও পুরানা পল্টনে বিকাল ৪টায় জামায়াতের মহানগর কার্যালয়ের সামনে শতাধিক পুলিশ অবস্থান গ্রহণ করে। ওই দিনই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আরো ৩ দফা তল্লাশি চালায় আইন শৃংখলা বাহিনী। ২০১১ সালের ৭ নভেম্বর ঈদুল আজহার দিন পুরানা পল্টনে জামায়াতে ইসলামীর মহানগরী অফিস স্টাফদের খাওয়া-দাওয়ার সময় পুলিশের অভিযান হয়েছিলো। 

একই বছর ২৩ নবেম্বর অফিসে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালায়। পরদিন ২৪ নবেম্বর আবারও অফিসে হানা দেয় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি গভীর রাতে মহানগরী কার্যালয়ে তল্লাশি করে পুলিশ। তবে ২০১৩ সালের ২০ মার্চ হাইকোর্টের নির্দেশনা নিয়ে নিবন্ধন বাতিলের রিট সংক্রান্ত ডকুমেন্ট নিতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন আইনজীবীরা।

এসব বিষয়ে জানতে চেয়ে জামায়াতের প্রচার বিভাগের সহকারি সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কর্মপরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইনসহ কয়েকজন নেতাকে মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য তামিরুল মিল্লাতের প্রিন্সিপাল অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'এসব বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তরা কথা বলবেন। আমি তো তামিরুল মিল্লাতের কাজই শেষ করতে পারি না, জামায়াতের খবর কেমনে রাখব।'

/এসটিএস/এমএসএম/

আপ-এসটি

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ